বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ওটি কক্ষ আছে, সরঞ্জাম নাই

আপডেট: জুন ২৮, ২০২২, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি:


নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার সাড়ে তিন লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হাসপতালটি ২০২০ সালে নতুন ভবন সম্প্রসারণের মাধ্যমে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নিত করা হয়। নতুন ভবনে বৃহৎ পরিসরের একটি অপারেশন থিয়েটার (ওটি) কক্ষ আছে কিন্তু সেখানে কোন প্রকার সরঞ্চাম নাই। ফলে এতে কোন উপকারেই আসছে না। আবার সম্প্রতি দাতা সংস্থা জাইকা থেকে একটি ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন বরাদ্দ দিয়েছে কিন্তু এক্স-রে ফ্লিম কেনার অর্থ না থাকায় কাজে আসছে না সেটিও।

রোববার সকালে উপজেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়ন কমিটির মাসিক সভায় এসকল তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খুরশীদ আলম। অতিমারি করোনার কারনে দীর্ঘ আড়াই বছর পরে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে ডা. খুরশীদ আলম প্রজেক্টরের মাধ্যমে হাসপাতালের চিত্র তুলে ধরেন। এসময় তিনি জানান, হাসপাতালটির ভবন ৫০ শয্যায় উন্নিত হলেও এর প্রশাসনিক অনুমোদন হয়নি। ফলে ৩১ শয্যার জনবল নিয়েই সেবা দিতে হচ্ছে।

এতেও রয়েছে জনবল সংকট। তথাপি সুষ্ঠুভাবে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় কাজ করেছে হাসপাতালের চিকিৎসক-সেবিকাসহ সংশ্লিষ্টরা। তিনি জানান, জেলায় কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদানের ক্ষেত্রে ১ম ও ২য় ডোজ প্রদানে প্রথম স্থানে রয়েছে বড়াইগ্রাম। এখানে প্রথম ডোজ ৭০% এবং ২য় ডোজ ৬৯% প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া এনসিডি কর্ণারের মাধ্যমে নিয়মিত প্রায় ১১ হাজার রোগীকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

সেবার মান বাড়াতে ওটি কক্ষের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, একজন গাইনী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, এক্স-রে ফিল্ম কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান, নিরবিচ্ছিন্ন আলোর ব্যবস্থা, চিকিৎসক, সেবিকাদের আবাসন ব্যবস্থা এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোড়দার করা দরকার।

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়ন কমিটির সভাপতি স্থাণীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস সভায় সকলের সম্মতিক্রমে চিকিৎসকদের জন্য নির্ধারিত করা আবাসিক ভবন গুলোতে শূণ্য থাকা সাপেক্ষে সেবিকাদের নামে বরাদ্দের সিদ্ধান্ত দেন। নিরবিচ্ছিন্ন আলোর জন্য ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন।

একই সাথে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. খুরশীদ আলমকে সভাপতি ও বড়াইগ্রাম পৌর মেয়র মাজেদুল বারী নয়নকে সদস্য সচিব করে একটি অর্থ-কমিটি গঠন করেন। এই কমিটি বিভিন্ন দাতা-হিতৈশী ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে অনুদান সংগ্রহ করে হাসপতালের প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করবেন। এছাড়া নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক আনছার মোতায়েন এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্নের জন্য আউট সোর্সিয়ের বিষয়ে সহায়তার আশ্বাস দেন।

ডা. খুরশীদ আলমের সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওসি আবু সিদ্দিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা সোহেল রানা, আরএমও ডা. ডলি রাণী, ইউপি চেয়ারম্যান মমিন আলী, অধ্যক্ষ মাহবুব-উল-হক, প্রভাষক মোয়াজ্জেম হোসেন, সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নীলুফার ইয়াসমিন ডালু প্রমুখ।