বড় মানুষদের স্মরণ করেই জাতি আত্মসম্মানবোধে জাগ্রত হয় : লিটন

আপডেট: মার্চ ২, ২০১৭, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও নগর সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, রাজশাহী ইতিহাস ও ঐতিহ্যে পরিপূর্ণ একটি শহর। এই শহরে ইতিহাসবিদ, আইনবিদ, গবেষক, কবি, রাজনীতিবিদসহ প্রত্যেক শাখায়ই উজ্জ্বল নক্ষত্র রয়েছেন। ঐতিহাসিক হিসেবে অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় যেমন সুপ্রসিদ্ধ, তেমনি রাজনীতিতেও সুপ্রসিদ্ধ ছিলেন এএইচএম কামারুজ্জামানের মতোন নক্ষত্ররা। বড় মানুষদের স্মরণ করেই জাতি আত্মসম্মানবোধে জাগ্রত হয়।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর ঘোড়ামারায় অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় নাট্যোৎসব-২০১৭ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। ঐতিহাসিক পদ্মা রঙ্গমঞ্চে রাজশাহী থিয়েটার এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে, জীবনাচরণে, প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই বড় মানুষদের স্মরণ করেই আমরা সামনে এগোয়। বড় মানুষদের জীবনবোধ প্রত্যেকের ভিতর ছড়িয়ে দিতে হবে।
এর আগে বিকেলে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন, কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নাট্যজন মলয় ভৌমিক, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার ঘোষ প্রমুখ।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক বলেছেন, ‘সংস্কৃতির চর্চা মানুষকে শুদ্ধ করে। মানুষ তার সমাজ সংস্কৃতির গোড়া খুঁজে পেলে খুব সহজেই নিজেকে পরিশুদ্ধ করতে পারে। ফলে সমাজ মানুষের মতো মানুষ পায়। দেশ-জাতির কল্যাণ সাধিত হয়।’
হাসান আজিজুল হক বলেন, ‘আসলে সংস্কৃতি হলো, এক এক জাতি-গোষ্ঠির কাছে একেক রকম চিন্তা-চেতনার বহিঃপ্রকাশ। কোনো জাতি বা গোষ্ঠি তাদের জীবনকে সুন্দর ও উৎকর্ষ সাধনে যতটা পরিশুদ্ধতার অনুশীলনে ব্রত হয় সে জাতি ততটা উন্নত সংস্কৃতি হৃদয়ে লালন করে এবং উন্নতি লাভে সক্ষম হয়। তারা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে, শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চা ব্যতিত উন্নত সু-জাতি গঠন যেমন সম্ভব নয়, তেমনি শিক্ষা-দীক্ষা, মেধা-মননসহ সামগ্রিক উন্নতি-অগ্রগতি সাধনে শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চার কোন বিকল্প নেই, হতে পারেও না।’
অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় জীবনী নিয়ে গবেষণাধর্মী বই প্রকাশ করায় অনুষ্ঠানে অনলাইন নিউজ পোর্টাল সাহেব-বাজারটোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক অধ্যাপক ফজলুল হককে অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় সম্মাননা পদক দেয়া হয়। কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হক তার হাতে এই সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।
এর আগে সেখানে শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পরে সন্ধ্যায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, রাজশাহী থিয়েটারের সভাপতি কামার উল্লাহ সরকার। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ভারতের রবীন্দ্রনগর নাট্যয়ূধ ‘রাস্তা’ নামে একটি নাটক প্রদর্শন করে। আগামি ৫ মার্চ এ নাট্যেৎসব শেষ হবে। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় একটি করে নাটক প্রদর্শণ করা হবে।
উল্লেখ্য, উপমহাদেশের প্রখ্যাত আইনজীবী, সমাজকর্মী ও প্রত্মতত্ববিদ অক্ষয় কুমার মৈত্রের শিক্ষা ও পেশাসহ জীবনের প্রায় পুরোটা সময় কেটেছে রাজশাহীর এই ঘোড়ামারায়। ১৮৬১ সালের ১ মার্চ বর্তমান কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামে তার জন্ম। ১৯৩০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী তিনি মারা যান। তাকে স্মরণে এখন থেকে প্রতিবছর নাট্যোৎসব আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক নুর আলম।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ