বয়সভিত্তিক মেয়েদের ফুটবলে সাফল্যতা ধারাবাহিকতা ধরে রাখে সঠিক পরিকল্পনা ও পৃষ্ঠপোষকতা বাড়াতে হবে

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২২, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

মেয়েদের বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ধারাবাহিক সাফল্যের পথে হাঁটছে বাংলাদেশের ফুটবল। তাইতো সাফের টুর্নামেন্টে রীতিমতো উড়তে থাকা সাবিনা শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভুটানের বিপক্ষে করেছেন হ্যাটট্রিক। নেপালে অনুষ্ঠানরত মেয়েদের সাফে এটি তার দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। প্রথম হ্যাটট্রিকটি করেন ১০ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে, গ্রুপ পর্বে। কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সেমিফাইনালে ভুটানকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার ম্যাচে বড় অবদান সাবিনার। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হলেন তৃতীয়বারের মতো। এবারের সাফে ৪ ম্যাচে এ পর্যন্ত সাবিনার গোল ৮টি। সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন বাংলাদেশের গোলমেশিন। বাংলাদেশের হয়ে এ পর্যন্ত সাবিনার গোল ৪৭ ম্যাচে ৩২টি। এর মধ্যে শুধু সাফেই করেছেন ২২ গোল। ২০১৬ সালে প্রথমবার সাফের ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। ওই দলেরও অধিনায়ক ছিলেন সাবিনা। ছয় বছর পর আবারও ফাইনালে সাবিনার দল। এবার শিরোপা জিতে দেশে ফিরতে চান সাবিনা। সাবিনা দলের প্রয়োজনে এভাবে গোল করতে চান আরও, ‘আমি মাঠে সব সময় সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। এবার আমরা একটা স্বপ্ন নিয়ে এখানে এসেছি। চেয়েছি দেশকে ভালো কিছু উপহার দিতে। আরও গোল করে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে চাই।’
এবারের টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত কোনো গোল হজম করেনি বাংলাদেশ। মেয়েদের ফুটবলে যে অনেক উন্নতি হয়েছে, সেটাই বললেন সাবিনা, ‘বাংলাদেশের মেয়েরা আগের মতো গোল হজম করতে চায় না। ভুটান চেষ্টা করেছে গোল দিতে। কিন্তু তারা আমাদের অর্ধেই আসতে পারেনি। সব কথার এক কথা, বাংলাদেশের মহিলা ফুটবলের যে উন্নতি হয়েছে, সেটার প্রমাণ মাঠে আমরা দিচ্ছি।’ কিন্তু নারী জাতীয় দলের অবস্থা বড়ই করুণ। যে কারণে ২০১৯ সালে নেপালে দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ নারী দল পাঠানোর সাহসই পায়নি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)! জাতীয় দল নিয়মিত না খেলায় মেয়েদের বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং থেকেই বাদ পড়ে যায় বাংলাদেশ। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে একই মেয়েদের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের পাশাপাশি খেলানো হচ্ছে জাতীয় দলেও। বড়দের ফুটবলে সে কারণেই আর পেরে ওঠেন না মারিয়ারা। দেশের ফুটবল বিশ্লেষকেরা বলছেন, মেয়েদের বয়সভিত্তিক দলের কাছ থেকে নগদ সাফল্য চায় বাফুফে। তাই ঘুরেফিরে একই মেয়েদের বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলানো হচ্ছে। যারা জাতীয় দলে খেলছেন, তারাই আবার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্য। আলাদা কোনো জাতীয় দল তাই গড়ে উঠছে না। কোচ গোলাম রব্বানী বয়সভিত্তিক থেকে জাতীয়—সব দলেরই কোচ। কিন্তু বয়সভিত্তিক পর্যায়ে সাফল্য এলেও জাতীয় দলের দূরবস্থার কারণ কী? এর আগে গোলাম রব্বানী বলছেন, ‘আমাদের মেয়েদের বয়স কম। ফলে তাদের মেধা বিকশিত হয়নি। এ কারণে জাতীয় দলের জার্সিতে ওরা পেরে ওঠে না। তবে আশা করি, কয়েক বছরের মধ্যে এ সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যাবে। আমরা একটি শক্তিশালী জাতীয় দল পাব।’ এজনৗ তাদের সাফল্যকে পুজি করে ছেলেদের মতো বড় ধরণের পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি সঠিক পরিকল্পনা করে করে এগিয়ে নিতে হবে দেশের ফুটবলের অভিভাবক বাফুফেকে। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ