ভক্তের দর্শনে সিক্ত বিদ্যার দেবী

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৭, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব ও রাবি প্রতিবেদক


হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা। সরস শব্দের অর্থ জল। অতএব সরস্বতী শব্দের আদি অর্থ হলো জলবতী অর্থাৎ নদী। সরস্বতী শব্দটির বুৎপত্তিগত অর্থে সরস+বতু আর স্ত্রী লিঙ্গে ‘ঈ’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে সরস্বতী। তিনি বিদ্যাদেবী, জ্ঞানদায়িনী, বীণাপাণি, কুলপ্রিয়া, পলাশপ্রিয়া প্রভৃতি নামে অভিহিতা। তার এক হাতে বীণা অন্য হাতে পুস্তক।
এই উৎসবকে ঘিরে নগরীর পুজাম-পগুলো বাহারি সাজে সাজানো হয়েছে। সরকারি ছুটির দিন হিসেবে বিকেলের দিকে পুজাম-পগুলোতে ভক্তদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। নগরীর হরিজনপল্লী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী কলেজ, সিটি কলেজ, শাহ মখদুম কলেজের পাশে নগরীর কুমারপাড়া, রাজারহাতাসহ বিভিন্ন এলাকায় সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয়। সকাল থেকে দেবীরভক্তরা বিভিন্ন ধরনের আচার অনুষ্ঠানিকতার মধ্যে দিয়ে শুরু করে দিনটি।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এবার রাজশাহী মহানগরীর চারটি থানা এলাকায় ৩২টি পূজাম-প সরস্বতী পূজা উৎসব পালন করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
নগরীর রাজারহাতা এলাকায় সরস্বতী পূজা দর্শনে আসা নিতেশ রায় বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের এটা একটা উৎসব। আমরা সরস্বতীকে বিদ্যার দেবী হিসেবে মানি। তিনি আমাদের জ্ঞান বিদ্যা দেয়। তাই আমরা তার আরাধনা করি।
নগরীর বুধপাড়া হরিজন পল্লীর সভাপতি স্বপন কুমার রায় বলেন, আমাদের এখানে সবকিছু ঠিক মতই চলছে। কোন সমস্যা নেই।
সরস্বতী পূজার নিরাপত্তার বিষয়ে রাজশাহী নগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার ইফতে খায়ের আলম বলেন, সরস্বতী পূজা উপলক্ষে নগরীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আর বিভিন্ন থানার টহল টিম কাজ করছে। এছাড়া পূজাম-পগুলোতে আশে-পাশে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বাণী অর্চনা উদ্যাপিত হয়েছে। গতকাল বুধবার এ উপলক্ষে রাবি কেন্দ্রীয় পূজা উদ্যাপন পরিষদ সরস্বতী পূজা ও আলোচনা সভার আয়োজন করে।
পরিষদের সভাপতি প্রফেসর বিশ্বনাথ শিকদারের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্দির প্রাঙ্গণে এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন। আলোচক ছিলেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর মো. মিজানুর রহমান ও প্রক্টর প্রফেসর মো. মজিবুল আজাদ খান বক্তৃতা করেন। বক্তারা ঐতিহ্যবাহী সরস্বতী পূজার গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে আলোচনা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে বিদ্যাদেবী সরস্বতীর কল্যাণে সমাজে শিক্ষা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ ঘটবে।
এদিন রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় মন্দিরের পূজা প্রাঙ্গণে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সরস্বতী পূজাম-প পরিদর্শন ও অঞ্জলি প্রদান করেন। কেন্দ্রীয় মন্দির প্রাঙ্গণ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি হলে বাণী অর্চনা অনুষ্ঠিত হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ