ভবন নেই, ক্লাস হয় না, তবুও পরীক্ষা তানোর কৃষি ডিপ্লোমায়

আপডেট: জুলাই ৯, ২০১৭, ১:১১ পূর্বাহ্ণ

তানোর প্রতিনিধি


রাজশাহী তানোরে কৃষি ডিপ্লোমার নেই কোন ভবন। হয় না এক দিনও ক্লাস। তার পরেও শুরু হয়েছে পরীক্ষা। মাত্র ৬ জন শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় নিয়েছেন অংশগ্রহণ করেছে। সকালে হচ্ছে ৪র্থ সেমিস্টারের ও বিকেলে হচ্ছে ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের পরীক্ষা। বছরের কোন দিনও ক্লাস না হলেও পরীক্ষায় ঠিকই পাস করিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে করে কৃষির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অবহেলায় দাঁড় করিয়েছেন অধ্যক্ষ ইসাহাক আলী।
ফলে এলাকাবাসী এমন পরীক্ষার নাম দিয়েছেন আজব কলেজে অলোকিক পরীক্ষা। পড়াশুনা না করেই পাওয়া যায় সার্টিফিটেক। গত বৃহস্পতিবার পরীক্ষা চলা অবস্থায় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, চাপড়া উচ্চবিদ্যালয়ে নবনির্মিত ভবনের দ্বিতীয় তলায় ৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছেন। সবাই গাইডের পাতা দেখে একে অন্যে মিলেমিশে দিচ্ছেন পরীক্ষা। ক্যামেরায় ছবি তুলতেই লুকিয়ে ফেলেন গাইডের পাতা। পরীক্ষার কেন্দ্রে ছিলেন আজিজুর নামের এক কর্মচারী ও একজন নারী। পরীক্ষা কেন্দ্রে দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম। তিনি যান না নিয়মিত কেন্দ্রে।
চাপড়া স্কুলের এক শিক্ষক বলেন, ক্লাস না হলেও সমস্যা নেই কৃষিতে। অভিজ্ঞতাতেই পরীক্ষা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এই সব প্রতিষ্ঠান কি করে কর্তৃপক্ষ রাখেন বুঝে আসে না। শিক্ষা নামক বস্তুটি এতোই সহজলভ্য? কিছুই বলার নেই। যেখানে কতর্ৃৃপক্ষ জেনেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। পরীক্ষা কেন্দ্রে না থেকে চাপড়া মোড়ে বসে ছিলেন অধ্যক্ষ ইসাহাক আলী। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় ভবন নেই শিক্ষক নেই ক্লাস হয় না পরীক্ষা কিভাবে হচ্ছে। তিনি জানান, এসব আমার দায়িত্ব না। পরীক্ষার দায়িত্বে রয়েছেন কৃষি অফিসার। তিনি কোথায় জিজ্ঞেস করতে বলেন, এখনো আসেন নি, পরে হয়তো আসবেন।
ওই এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, কৃষি ডিপ্লোমাতে চাকরি দেবার নামে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেছেন অধ্যক্ষ ইসাহাক আলী। টাকার বিনিময়ে দেয়া হচ্ছে সার্টিফিকেট বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেন। অধ্যক্ষ আরো জানায়, এখান থেকে পাস করা মানেই কৃষিতে চাকরি। ক্লাস হয় না ভবন নেই কিভাবে পরীক্ষা হয়।
এ নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার শফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহা. শওকাত আলী জানান, এর আগেও কৃষি ডিপ্লোমা নিয়ে লেখালিখির জন্যে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে উপসচিব তদন্তে আসেন। এজন্যে এবারে কেন্দ্র করা হয়েছে চাপড়া স্কুলে। এমনকি কৃষি কর্মকর্তাকে জোরালভাবে নির্দেশ দেয়া আছে প্রতিনিয়ত কেন্দ্রে থাকার জন্য। তবে বিষয়গুলো জোরালভাবে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ