ভবিষ্যতেও সেনাবাহিনীকে জনকল্যাণে অবদান রাখতে হবে : রাষ্ট্রপতি

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৭, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

বুলবুল হাবিব



রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা শুধু দেশের অভ্যন্তরেই নয়, বিশ্ব পরিম-লেও কর্মদক্ষতার পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে তুলেছে। সেবা ও কর্তব্যপরায়ণতার মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা জনগণের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং সমগ্র জাতির আস্থা অর্জন করেছে। দেশ ও জাতির প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও সেনাবাহিনীর সদস্যদের জনকল্যাণমূলক কাজে অবদান রাখতে হবে। একজন সৈনিক, আমৃত্যু সৈনিক। সৈনিক জীবনে শৃঙ্খলাবোধ আর আনুগত্যের বিকল্প নেই।’
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট সেন্টার রাজশাহী সেনানিবাসে ১২তম বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলন এবং ২য় বীর পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, নৌ বাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজাম উদ্দিন, সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী ফারুক খান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও নগর সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি, রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা, পুঠিয়া-দুর্গাপুর আসনের সাংসদ আব্দুল ওয়াদুদ দারা, পবা- মোহনপুর আসনের সাংসদ আয়েন উদ্দিন, সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ আখতার জাহান, রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারসহ উর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা।
সেনাবাহিনীকে আধুনিক যুগোপযোগী করা হচ্ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, ‘আধুনিক, যুগোপযোগী ও শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠন বর্তমান সরকারের একটি অগ্রাধিকার বিষয়। বর্তমান সরকারের ‘রূপকল্প ২০২১’ এর আলোকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফোর্সেস গোল ২০৩০ প্রস্তুুত করা হয়েছে। ২০১৩ সালে ১৭ পদাতিক ডিভিশন এবং ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেড প্রতিষ্ঠিত হয়। বিগত বছরে ১০ পদাতিক ডিভিশন, ৯৭ পদাতিক ব্রিগেড এবং ১০ আর্টিলারি ব্রিগেড প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।’
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলার মধ্যবর্তী পায়রা নদী সংলগ্ন এলাকায় লেবুখালি সেনানিবাস স্থাপন, মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুর জেলাধীন পদ্মাসেতু এলাকায় সেনানিবাস স্থাপনের জন্য মাস্টার প্লান প্রণয়নসহ অন্যান্য প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নোয়াখালি জেলার হাতিয়া উপজেলার স্বর্ণদ্বীপ এলাকায় সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামাইনে একটি সেনানিবাস স্থাপনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ে নতুন নতুন ইউনিট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। সাংগঠনিক পরিধি বৃদ্ধির পাশাপাশি সেনাবাহিনী সমর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষে বহুবিদ সরঞ্জামাদি কেনা হচ্ছে।’
সেনা বাহিনীকে দক্ষ ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ আরো বলেন, ‘একটি দক্ষ ও পেশাদার বাহিনী গঠনে আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা অনস্বীকার্য। সে লক্ষে সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। রিক্রুট ও প্রশিক্ষণকে আরো আধুনিকায়ন এবং যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সেনা সদস্যদের উচ্চ শিক্ষারও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এখন সেনাবাহিনীর সব সদস্য ন্যূনতম উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা অর্জন করছে। একইসাথে সেনা বাহিনীতে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার চোখে পড়ার মত। সেনাবাহিনীর সদস্যেদের মনোবল বাড়ানোর লক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সেনা সদস্য এবং পরিবার বর্গের সুচিকিৎসার জন্য বিভিন্ন সামরিক হাসপাতালের জনবল কাঠামো এবং বেড সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ৫০০ শয্যার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল স্থাপন, বিভিন্ন সেনানিবাসে বিশেষ শিশুদের জন্য ‘প্রয়াস’ স্কুল স্থাপন সেনাবাহিনীর জন্য বর্তমান সরকারের একটি তাৎপর্যপূর্ণ অবদান। এছাড়াও কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী সদস্যদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। উন্নয়নের এই ধারা আগামিতেও অব্যাহত থাকবে। যা সেনা সদস্যদের মনোবল বাড়াতে প্রভাব ফেলবে। তাদেরকে আরো নিষ্ঠার সাথে দেশ-মাতৃকার কাজে মনোনিবেশ করতে উদ্বুদ্ধ করবে।
এর আগে দুপুর পৌনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ হেলিকপ্টারযোগে রাজশাহী সেনানিবাসে পৌঁছান। পৌঁছেই তিনি পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করে সশস্ত্র বাহিনীর অভিবাদন গ্রহণ করেন। এরপর তিনি দুপুরে সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে প্রীতিভোজে অংশগ্রহণ করেন। পরে বিকেল সাড়ে ৩টায় হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় পৌঁছান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ