ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের থাকার ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রশংসনীয় উদ্যোগ

আপডেট: অক্টোবর ১৬, ২০১৯, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষ ভর্তি পরিক্ষায় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের জন্য থাকার ব্যবস্থা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম দিকে অবস্থিত নারীদের ব্যায়ামাগারে ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন দুই দিন অর্থাৎ ২১ ও ২২ অক্টোবর অভিভাবকরা অবস্থান করতে পারবেন। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্ব বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সময়োপযোগী এই সিদ্ধান্ত নেয়াতে সংশ্লিষ্ট মহলের কৃতজ্ঞতার সাথে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন পাবেন এটাই স্বাভাবিক। সময় ও সমস্যাকে অনুভব করা এবং তা বিবেচনায় নিয়ে সমাধান দেয়া অবশ্যই প্রতিটি কর্তৃপক্ষ ও সংস্থার অঙ্গীকার হওয়া বাঞ্ছনীয়। সরকার ব্যবস্থার মধ্যে জনগণের প্রতি দেয়া রাজনৈতিক অঙ্গীকার থাকে। সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণকে সেবা পৌঁছে দেয়াই সরকারের কাজ। অর্থাৎ জনকল্যাণই এর উদ্দেশ্য।
যারা সেবা দেয়ার কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন- সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে তাদের কার্পণ্য অপরিসীম। যার ফলে জনগণকে হয়রানি ও বঞ্চনার মুখে পড়তে হয়। এটা সারা দেশেরই চিত্র। কেউ কেউ সেবার উদ্দেশ্যেই নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যান, কেননা তারা বিশ্বাস করেন এটিই তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। কিন্তু অধিকাংশের ক্ষেত্রেই এমন বোধ লক্ষ্য করা যায় না। তারা শুধুই চাকরি করেন, দায়িত্ব বোঝেন না। আর বুঝলেও সেটা মানেন না। স্বাধীন বাংলাদেশে এমনটি হওয়ার কথা ছিল না।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক- যারা দেশের অন্যান্য স্থান থেকে আসেন তারা নানা সমস্যার সম্মুখিন হন। বিশেষ করে আবাসন সমস্যা খুবই প্রকট ভাবে দেখা দেয়। এদের একটা বড় অংশ রেল স্টেশনে রাত কাটান। এই মানুষদের অসহায়ত্বের সুযোগ নেয় ব্যবসায়ীরা। হোটেল, মেসসহ আবাসনের আর সব সুবিধার মূল্য দ্বিগুন- তিনগুন হয়ে যায়। ভর্তি পরীক্ষা শুরু এক মাস আগে থেকেই আবাসন সুবিধা দুর্লভ হয়ে ওঠে। অর্থ ব্যয় করেও আবাসন মেলে না। এ যে কী দুর্ভোগ তা ভুক্তিভোগি মাত্রই জানেন। শুধু কী আবাসনÑ ভর্তি পরীক্ষার সময়ে রিক্সা, অটো, খাবার দোকান কেহই সুযোগ নিতে পিছ পা হয় না। যারা ভর্তি হতে আসেন তারা আমাদের শহরের অতিথি। অথচ অন্যায় সুযোগ নিতে কেউ দ্বিধাবোধ করেন না। এটাকে ব্যবসাও বলে না। ব্যবসারও একটা নৈতিক অবস্থান থাকা দরকার।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কেন্দ্র করে যে সব শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ রাজশাহীতে আসেন, অবস্থান করেনÑ তারা নানা ভাবে অর্থ ব্যয় করেন। সেটা থাকায়, খাওয়ায়, চলায় কিংবা কেনাকাটায়। এই যে অর্থ ব্যয়- সেটাতো রাজশাহীর অর্থনীতিকে মজবুত করে। এই আর্শিবাদ কেন তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে নিতে হবে? ভর্তি প্রক্রিয়া পরিচালনা করা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাজ। কিন্তু অন্য আনুসাঙ্গিক বিষয় ও সমস্যাগুলো নিয়ে নাগরিক ভাবনা থাকা বাঞ্ছনীয়। এতে রাজশাহীর মর্যাদাই বৃদ্ধি পাবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ যে, প্রায় ২০০ অভিভাবককে নারী জিমনেসিয়ামে থাকার ব্যবস্থা করেছেন। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার অতিথিশালা, ডরমেটরি, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আবাসন সুবিধা আছে সেগুলোও সম্ভব হলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য থাকার ব্যবস্থা করা যায় কি না সেটাও ভেবে দেখা দরকার।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ