ভাইরাল হওয়া যত ভুয়া খবর

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৭, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



প্রযুক্তি সংস্থা অ্যাপল’এর প্রধান টিম কুক সম্প্রতি ভুয়া খবর বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, ভুয়া খবর আকর্ষণীয় হলেও আসলে তা মানসিকতাকে হত্যা করে। এরফলে মানুষ সত্যের বদলে মিথ্যা সংবাদের পেছনে ছোটে। এগুলো আসলে গুজবেরই সামিল।
তার দাবি অযৌক্তিক নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজকাল অনেক খবর শেয়ার করা হয়৷ তবে সেসবের কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যে বোঝা কঠিন। এরফলে অনেকে বিভ্রান্তও হন৷ ভুয়া খবর ছড়িয়ে দিতে একটি পক্ষ কখনও কখনও জনপ্রিয় সাইটগুলোকেই নকল করে ফেলে। ফলে প্রথম দেখায় যে কেউ এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদকে বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়। যেমন এবিসি নিউজ’এর ঠিকানা ধনপহবংি.পড়স হলেও একটি মহল তার সঙ্গে ডট সিও ধনপহবংি.পড়স.পড় যুক্ত করে ভুয়া খবর প্রচারে মাঠে নামে। পেজটির ডিজাইন’ও এমনভাবে তৈরি করা হয় যে মানুষ খুব ভালোভাবে লক্ষ্য না করলে বুঝতেও পারে না সেটি নকল। গেলো বছরে এমনই কিছু ভুয়া খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচিত হয়।
’জনপ্রিয় গণমাধ্যমের ভুয়া খবরঃ গেলো বছর ডেইলি মেইল একটি ছবি প্রকাশ করে যা মুহুর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ছবিতে দেখানো হয়, এক পুরুষ ক্যাঙ্গারু নারী ক্যাঙ্গারুকে দুই হাতে ধরে অশ্রুসজল চোখে তাকিয়ে আছে৷ ছবিটি এভাবে উপস্থাপনের কারণে ভাইরাল হয়ে যায়৷ পরে প্রাণী বিশেষজ্ঞরা জানান, নারী ক্যাঙ্গারুর সঙ্গে যৌন মিলনের ইচ্ছে জাগলে পুরুষ ক্যাঙ্গারুর চোখ অশ্রুসজল হয়। এসময় তারা দুই হাত দিয়ে ঝাঁকিয়ে নারী ক্যাঙ্গারুকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করে৷
ভবিষ্যত বাণীর ভুয়া খবরঃ জনপ্রিয় কার্টুন সিম্পসন’এ বেশ কিছু ভবিষ্যদ্বাণী থাকে বলে অনেকে দাবি করে থাকেন৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প জেতার পর একটি ট্রল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়। যেখানে বলা হয়, ট্রাম্প যে নির্বাচনে জিতবেন তা সিম্পসনে আগেই বলা হয়েছিল৷ কিন্তু বাস্তবে এমন কিছুই বলা হয়নি৷ অথচ টুইটারে নিউজটি ভাইরাল হয়ে যায়৷
মার্কিন নির্বাচনের ভুয়া খবরঃ মার্কিন নির্বাচনের সময় যে ভুয়া খবরটি সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ে তাতে বলা হয়, ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধের মাত্রার সঙ্গে দেশটির নির্বাচনের ফলাফলে অদ্ভূদ মিল রয়েছে। অথচ ওয়াশিংটন পোস্টের সেই নির্বাচনের ফলাফলের খবরে এমন একটি মানচিত্র প্রকাশ করে হয়েছিল, যেটির দিকে ভালোভাবে তাকালে স্পষ্ট বোঝা যায় সেটি ভুয়া। কেননা, মানচিত্রের একেবারে ওপরে ২০১২ সাল লেখাটি তখনও ছিল।
ধর্ষণের ভুয়া খবরঃ ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে জার্মানিতে একটি ধর্ষণের ঘটনা বেশ ভাইরালে পরিণত হয়। খবরে বলা হয়, বার্লিনে লিজা নামের এক জার্মান কিশোরীকে এক দল অভিবাসী ধর্ষণ করেছে। খবরটি জার্মানি তো বটেই রুশ মিডিয়াতেও বিপুল কভারেজ পায়৷ পরে অবশ্য কিশোরীটি জানায়, সে যা বলেছে তার সবই বানিয়ে বলা৷
উইল’এর ভুয়া খবরঃ গেলো বছর ভাইরাল হওয়া ভুয়া খবরের মধ্যে ছিল করোনা বিয়ার’এর প্রতিষ্ঠাতা আন্তোনিও ফার্নান্দেজ’এর উইল। তিনি নাকি মৃত্যুর আগে জন্মভূমি স্পেনের একটি গ্রামের ৮০টি পরিবারের মধ্যে ২০ কোটি ইউরো দান করার উইল করে গেছেন৷ ডেইলি মেইল খবরটি প্রথমে স্থানীয় পত্রিকার বরাত দিয়ে প্রকাশ করে৷ পরে সেটি আরটি, দ্য ইন্ডেপেন্ডেন্ট, দ্য মিররসহ বেশ কয়েকটি সংবাদপত্রেও প্রকাশ পায়৷ কিন্তু আদতে সেই খবরটি ছিল মিথ্যে। ফার্নান্দেজের পরিবার প্রতিবাদ জানানোয় খবরটি সরিয়ে ফেলা হয়৷
নাসা’র নামে ভুয়া খবরঃ গেলো বছর ফেসবুকে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা’র একটি ভিডিও দেখে ধোঁকা খান অনেকে। ভিডিওটিতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র আইএসএস থেকে নভোচারীদের মহাকাশে চলাফেরার দৃশ্য দেখানো হচ্ছিল৷ সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছে মনে করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহুর্তেই সেটি ভাইরালে পরিণত হয়। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, ভিডিওটির কোথাও ‘নাসা’ কিংবা ফেসবুকের লাইভ স্ট্রিম কথাটির উল্লেখ ছিল না৷ পরে নাসা’র এক মুখপাত্র জানান, ভিডিওটি তাদের নয়। সেটি ২০১৩ সালে রুশ নভোচারীদের ধারণ করা৷

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ