ভাঙা রাস্তায় নাগরিক ভোগান্তি

আপডেট: এপ্রিল ১, ২০১৭, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



ছোট- বড় গর্ত। এবড়ো-থেবড়ো অবস্থা। একটু বৃষ্টি হলেই জমছে পানি। রাস্তার পিচ উঠে গেছে। পিচ উঠে সৃষ্টি হয়েছে বড় গর্ত। সংস্কার নেই দীর্ঘ সময়। গর্তগুলোতে সতর্কতা হিসেবে বাঁশ দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে সাদা কাপড়ের নিশানা। ফলে রিকশাচালক ও যাত্রীরা ভোগান্তির মধ্যে পড়ছেন। রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী বাস যাত্রীদের ভোগান্তিও কম না।
নগরীর তালাইমারি থেকে ভদ্রা মোড়, ভদ্রা চত্বর, পদ্মা আবাসিক এলাকার রেলওয়ে কোয়ার্টারের পেছন দিয়ে নওদাপাড়া পর্যন্ত রাস্তার বর্তমানে এ অবস্থা। রেলওয়ে কোয়ার্টারের পেছনের রাস্তা দিয়ে ভদ্রা আবাসিক এলাকার ভেতরে চলাচল করে নগরীর নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে আসা বাস। এসব বাসগুলো আন্তঃজেলা রুটে চলাচল করে। আবার ভদ্রা মোড়ের স্মৃতি অম্লান থেকে তালাইমারি মোড় পর্যন্ত রাস্তারও একই অবস্থা। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে ছোটবড় দুর্ঘটনা ছাড়াও বিভিন্ন সময় যানবাহন বিকলের ঘটনাও ঘটছে।
গত বৃহস্পতিবার নগরীর ভদ্রা এলাকায় একটি আলু ভর্তি ট্রাক ভাঙা রাস্তায় বিকল হয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা ট্রাকের পেছনে রাস্তা ভাঙা অংশে নিশানা টাঙিয়ে দিয়ে বিভিন্ন যানবাহন এবং রিকশা চালকদের সতর্ক করেন। এর কয়েকদিন আগে পদ্মা আবাসিক এলাকার রেলওয়ে কোয়ার্টারের পেছনের ভাঙা রাস্তায় একটি যাত্রীবাহী বাস গর্তে পড়ে বিকল হয়ে যায়। পরে হ্যাকার নিয়ে এসে রাস্তা থেকে বাসটি সরানো হয়।
রাজশাহী-নাটোর রুটের বাসচালক মামুন। তিনি বলেন, তালাইমারি, ভদ্রা, নওদাপাড়া এলাকার রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। রাস্তার অধিকাংশ স্থানে বড় ও ছোট গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। চালক একটু অসতর্ক হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া একটি যানবাহন আরেকটিকে ওভারটেকিং বা বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনকে স্পেস (জায়গা) দিতে গিয়ে বড় দুর্ঢ়টনার শিকার হচ্ছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নগরীর তালাইমারি এলাকার রাস্তার মধ্যে এবং দুই পারের অংশ ভেঙে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে গর্তের। আর বেশিরভাগ স্থানে পিচ উঠে গেছে। এদিক-ওদিক ছড়িয়ে আর ছিটিয়ে রয়েছে পাথর এবং ইট।
এদিকে ভদ্রা চত্বরের রাস্তারও করুণ দশা। রাস্তার উপরের অনেক জায়গা জুড়ে উঠে গেছে পিচ। এর ফলে সেই অংশে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশন কয়েকদিন আগে ইট দিয়ে গর্ত ভরাট করে। কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতে আবার একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পাশেই রেশম বোর্ড এলাকার সামনে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া পদ্মা আবাসিক এলাকার রেলওয়ে কোয়ার্টারের পেছন থেকে নওদাপাড়া বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত রাস্তার বেশির ভাগ অংশ ভাঙা। রাস্তার বেশির ভাগ অংশ জুড়ে পিচ উঠে গিয়ে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী রফিক আহমেদ। তিনি বলেন, আমি নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকায় প্রাইভেট পড়ানোর জন্য সপ্তাহের চার দিন যাতায়াত করি। অধিকাংশ সময় অটোরিকশায় যেতে হয়। কিন্তু রাস্তার যে বেহাল দশা, তাতে সর্বক্ষণ দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকি। একই ধরনের কথা বললেন চাকরিজীবী লুৎফর রহমান। তিনি রেশম বোর্ডের কর্মচারী। তিনি বলেন, শিরোইল টার্মিনাল থেকে অফিসে যাতায়াত করি। এজন্য রিকশা এবং অটোরিকশায় উঠতে হয়। একদিন রিকশা উল্টে আহত হয়েছি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম চারদিন। এরপর থেকে পায়ে হেটে অফিসে যাতায়াত করছি।
তিনি বলেন, রিকশা ও বাস চালকদের সতর্ক করতে স্থানীয়রা বাঁশের সঙ্গে সাদা কাপড় লাগিয়ে নিশানা তৈরি করেছেন। কিন্তু রাস্তা সংস্কার এবং রক্ষার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদাসীন। রাস্তার বেহাল দশার কারণে দুর্ঘটনার পাশাপাশি নাগরিক ভোগান্তি বাড়ছে।
এ ব্যাপারে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, তালাইমারি এলাকার রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু হবে। এছাড়া নগরীর অন্য রাস্তাগুলো সংস্কারের ব্যাপারেও অতিদ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ