ভারতীয় দলে বাঙালি নেই, কিন্তু ইংল্যান্ড দলে আছেন! টেস্টের লর্ডস দেখল তাঁকে

আপডেট: জুন ৩, ২০২২, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ

ইংল্যান্ডের ‘টুয়েলফ্থ ম্যান’ রবিন দাস। ফাইল চিত্র

সোনার দেশ ডেস্ক :


তিনি নিকষ্যি বাঙালি। পদবি ‘দাস’। কিন্তু ক্রিকেট খেলেন ইংল্যান্ডের হয়ে! বৃহস্পতিবারের লর্ডস মাঠ দেখেও নিল তাঁকে।
চমকিত হওয়ার মতো ঘটনাই বটে। একদা ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ছিলেন এক বাঙালি।

ঘটনাচক্রে, তিনিই এখন ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ প্রশাসক। কিন্তু ভারতীয় দলে এখন কোনও বাঙালি ক্রিকেটার নেই! কিন্তু বাঙালি ক্রিকেটার আছেন ইংল্যান্ড দলে। চমক!

ভারতীয় দলে শেষ বাঙালি ক্রিকেটার ছিলেন ঋদ্ধিমান সাহা। কিছুদিন আগেই টিম ম্যানেজমেন্ট এবং কোচ রাহুল দ্রাবিড় ঋদ্ধিমানকে জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর ‘সার্ভিস’ টিমের আর প্রয়োজন নেই। ফলে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন টিমের সদস্য হয়েও ঋদ্ধিমানের সামনে ভারতীয় দলের দরজা বন্ধ।

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ভারতীয় দলের অধিনায়ক থাকাকালীন বাঙালি তার শ্রেষ্ঠ মর্যাদা পেয়েছে। দলের হস্তক্ষেপে (অনেকে বলেন, অবিমৃশ্যকারিতায়) জ্যোতি বসুকে ১৯৯৬ সালে দেশের প্রথম বাঙালি প্রধানমন্ত্রী দেখতে চেয়েও হতাশ হয়েছিল বাঙালি।

ঘটনাচক্রে, সেই ১৯৯৬ সালেই লর্ডসে সৌরভের টেস্ট অভিষেক হয়েছিল। কিন্তু তিনি যে ভারতীয় ক্রিকেটের রাজ সিংহাসনে বসবেন, তা বাঙালি তাদের অতিবড় ‘ফ্যান্টাসি’-তেও ভাবেনি।

সৌরভের পর ‘বাঙালি’ বলে টেস্ট দলে ঋদ্ধিমান। তাঁরও সময় শেষ হয়ে গেল। সেই আবহেই লর্ডসে ইংল্যান্ডের হয়ে মাঠে নামতে দেখা গেল এক বাঙালিকে— রবিন দাস।

বৃহস্পতিবার লর্ডসে শুরু হয়েছে নিউজিল্যান্ড বনাম ইংল্যান্ডের প্রথম টেস্ট। ৩৮তম ওভারে ফিল্ডিং করতে নামলেন এক তরুণ। কিন্তু তাঁর জার্সিতে না আছে কোনও নাম, না আছে নম্বর। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, তাঁর নাম ‘রবিন জেমস দাস’। নিখাদ বাঙালি। তবে কি না, পদ্মাপারের। পশ্চিম নয়, পূর্ব বাংলার। কিন্তু বাঙালি তো বটেই।

রবিন অতিরিক্ত ফিল্ডার হিসাবে মাঠে নেমেছিলেন বৃহস্পতিবার। যদিও মাত্র চারটি ডেলিভারির সময় মাঠে ছিলেন তিনি। রবিন যখন মাঠে নামেন, তখন লর্ডস টেস্টে প্রথম একদশে সুযোগ না-পাওয়া হ্যারি ব্লক এবং ক্রেগ ওভারটন অতিরিক্ত ফিল্ডার হিসাবে মাঠে ছিলেন। বাইরে গিয়েছিলেন স্টুয়ার্ট ব্রড। তার পরেও ম্যাটি পট্স চোট পাওয়ায় তৃতীয় একজন ক্রিকেটার দরকার ছিল।

তাঁর জায়গাতেই ফিল্ডিং করেন রবিন। পটসের অসমাপ্ত ওভার শেষ করেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকস। সেই ওভার শেষ হতেই মূল দলের ব্রড মাঠে ফেরেন এবং রবিন উঠে যান। ঘটনাচক্রে, ইংল্যান্ডের ১৩ জনের যে দল ঘোষণা করা হয়েছিল নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য, সেই দলে রবিনের নাম নেই! কিন্তু আপৎকালীন পরিস্থিতিতে তাঁকে মাঠে নামতে বলে টিম ম্যানেজমেন্ট।

রবিনের জন্ম ইংল্যান্ডের লেটনস্টোনে। কিন্তু তাঁর শিকড় বাংলাদেশে। বাবার জন্ম বাংলাদেশের সুনামগঞ্জে। ব্রেন্টউড স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। রবিনের বয়স ২০ বছর। ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে খেলেন এসেক্সের হয়ে।

এখনও পর্যন্ত মাত্র একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন রবিন। ২০২০ সালের সেই ম্যাচে তিনি করেছিলেন ৭ রান। তবে ২০১৮ সালে এসেক্সের অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হয়ে দ্বিশতরান করেছিলেন এই বাঙালি। এসেক্স দ্বিতীয় একাদশের হয়েও খেলেছেন তিনি।

বস্তুত, তিনি লর্ডসে ফিল্ডিং করতে নামার পর এসেক্স কাউন্টি টুইটারে রবিনকে শুভেচ্ছাও জানিয়েছে। কাউন্টির তরফে ইংল্যান্ডের হয়ে ‘টুয়েলফ্থ ম্যান ডিউটি’ করার জন্য রবিন এবং তাঁর সতীর্থ নিখিল গোরান্টলাকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। যা থেকে স্পষ্ট যে, ইংল্যান্ডের হয়ে এই বাঙালির মাঠে নামাকে গুরুত্ব দিয়েই দেখছে তাঁর কাউন্টি।

প্রসঙ্গত, এসেক্সের দ্বিতীয় একাদশের হয়ে খেলেন রবিনের দাদা জোনাথন জয় দাস। তিনি উইকেটরক্ষক। এসেক্সের ক্রিকেট বোর্ডের ডিরেক্টর জাওয়ার আলি বলেছেন, “ভাল লাগছে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলতে দেখে। আশা করব ভবিষ্যতে রবিন ইংল্যান্ডের হয়েও খেলবে।”

সে আশা কি আর পদ্মাপারের পাশাপাশি গঙ্গাপারের বাঙালিও করবে না?
তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা