ভারতীয় ধর্মগুরু রাম রহিমের রায় ঘিরে সহিংসতায় নিহত ৩০

আপডেট: আগস্ট ২৬, ২০১৭, ১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


রায় ঘোষণা হতেই উত্তাল পাঞ্জাব-হরিয়ানা। ডেরা সচ্চা সৌদা-র প্রধান গুরমিত রাম রহিম সিং-কে বিশেষ সিবিআই আদালত দোষী সাব্যস্ত করতেই আদালত চত্বরের বাইরে শুরু হয়ে গেলো প্রবল তাণ্ডব। লাঠি, বাঁশ, ইট-পাথর নিয়ে পুলিশের উপর হামলা হয়েছে। লাঠি চালিয়ে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে পাঁচকুলায় পুলিশ গুলি চালিয়েছে। সেখানে পুলিশের গুলিতে অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপেক্ষ ২০০ জন। পাঞ্জাব-হরিয়ানাজুড়ে বিভিন্ন স্থানে এমন সহিংসতায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন।
পাঞ্জাবের দু’টি রেলওয়ে স্টেশনে ইতোমধ্যেই আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন রাম রহিমের অনুগামীরা। দুই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় থানা এবং সরকারি দফতরে আগুন লাগানো শুরু হয়েছে। পাঁচকুলায় ইতিমধ্যেই জারি হয়েছে কারফিউ। পাঞ্জাবের ভাতিন্ডা, মনসা, মুকতাসর, ফিরোজপুরেও কারফিউ জারি হয়েছে।
পাঁচকুলার পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। আদালত চত্বরের বাইরে প্রবল গোলমাল শুরু হয়েছে। দূর থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যাচ্ছে আদালত চত্বরের আকাশে। ইতোমধ্যেই অন্তত ৩০ জন নিহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশের সঙ্গে ডেরা অনুগামীদের সংঘর্ষে অন্তত ২০০ জন জখম। পাঁচকুলার হাসপাতালগুলিতে রোগীদের জায়গা দেয়া যাচ্ছে না বলে খবর আসছে। শহরে রক্তের অভাব দেখা দিয়েছে।
অশান্তি শুরু হতেই পাঁচকুলায় কারফিউ জারি করেছিল প্রশাসন। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি। পুলিশের সঙ্গে প্রবল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন ডেরা অনুগামীরা। লাঠি চার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়ে পরিস্থিতি আয়ত্তে আনা যায়নি। তাই পুলিশ গুলি চালিয়েছে বলে খবর। পুলিশের গুলিতেই ডেরা অনুগামীদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে প্রশাসনিক সূত্রে এখনও সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
ডেরা সচ্চা সৌদার সদর দফতর যেখানে, হরিয়ানার সেই সিরসাতেও তাণ্ডব প্রবল আকার নিয়েছে বলে খবর। পুলিশের সঙ্গে সেখানেও সংঘর্ষ হয়েছে ডেরা অনুগামীদের। বাবা রাম রহিমের ভক্তদের হাতে সিরসায় আক্রান্ত হয়েছে সংবাদমাধ্যমও। তবে শুধু সিরসাতে নয়, পাঁচকুলাতেও সংবাদমাধ্যম আক্রান্ত হয়েছে। মিডিয়ার একাধিক গাড়ি এবং ওবি ভ্যান নষ্ট করে দিয়েছে হামলাকারীরা।
পাঁচকুলায় থানা এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরে রাম রহিমের ভক্তরা আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ। গোটা শহরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে। আগুন লাগানো হয়েছে বহু গাড়িতে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ৬ কলাম সেনা পাঠানো হয়েছে পাঁচকুলায়।
পরিস্থিতি প্রবল উত্তপ্ত পাঞ্জাবেও। ভাতিন্ডা এবং মলোত রেলওয়ে স্টেশনে তাণ্ডবকারীরা আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছে দিল্লিতেও। রাজধানীর আনন্দ বিহার রেলওয়ে স্টেশনে একটি ট্রেনে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। উত্তর-পূর্ব দিল্লির লোনি চকে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে একটি বাসও, খবর দিল্লি পুলিশ সূত্রের।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ফোনে কথা বলেছেন পাঞ্জাব ও হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী অমরেন্দ্র সিংহ এবং মনোহরলাল খট্টরের সঙ্গে। অশান্তি রুখতে পাঞ্জাবে কড়া হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলে রাজনাথকে জানিয়েছেন অমরেন্দ্র।
হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টরও জানিয়েছিলেন যে, ধর্ষণের মামলায় রায় যা-ই হোক, পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে যাবে না, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কিন্তু শুক্রবার বিশেষ সিবিআই আদালত বাবা রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করতেই গোটা হরিয়ানার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে বাবে ভেঙে পড়েছে, তাতে স্পষ্ট যে খট্টরের প্রতিশ্রুতি ভিত্তিহীন ছিল। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিং ডেরা সমর্থকদেরকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। বাবা রাম রহিম নিজেও শান্তিই চাইছেন, জানানো হয়েছে সরকারের তরফে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেই। দুই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা এখন তাণ্ডবের গ্রাসে। হরিয়ানা সীমান্ত সিল করে দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ এবং দিল্লির পুলিশ কিন্তু তা সত্ত্বেও দিল্লিতে অশান্তি ছড়িয়ে পড়া রোখা যায়নি। উত্তরাখণ্ড থেকেও সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
সূত্র: আনন্দবাজার, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।