ভারতীয় সেই নারী ‘জঙ্গির’ জবানবন্দি

আপডেট: জুলাই ২২, ২০২০, ১১:০১ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ওমানপ্রবাসী এক বাংলাদেশিকে বিয়ে করে বাংলাদেশে এসে জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে ঢাকায় গ্রেপ্তার আয়েশা জান্নাত মোহনা ওরফে জান্নাতুত তাসনিম ওরফে প্রজ্ঞা দেবনাথ আদালতে ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি’ দিয়েছেন।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার তাকে ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে গোয়েন্দা পুলিশ।
পরে মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরার খাস কামরায় তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে প্রসিকিউশন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
জবানবন্দি রেকর্ড করার পর বিচারক ধর্মান্তরিত এই ভারতীয় তরুণীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
২৫ বছর বয়সী আয়েশা ওরফে প্রজ্ঞার বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলায়। তিনি নিষিদ্ধ জঙ্গি দল নব্য জেএমবির নারী শাখার একজন সদস্য বলে পুলিশের ভাষ্য।
গত ১৬ জুলাই ঢাকার সদরঘাট এলাকা থেকে আয়েশাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) একটি দল। সে সময় তার কাছে একটি ভারতীয় পাসপোর্ট, একটি বাংলাদেশের জন্ম নিবন্ধন সনদ, একটি বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং দুটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়।
মতিঝিল থানার একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শুক্রবার আয়েশাকে ঢাকার হাকিম আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
গ্রেপ্তারের দিন কাউন্টার টেররিজম পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, অনলাইনে ওমানপ্রবাসী বাংলাদেশি আমির হোসেন সাদ্দামের সঙ্গে ভারতীয় ওই নারীর যোগাযোগ হয়, পরে ‘টেলিফোনে দুজনের মধ্যে’ বিয়ে হয়। তখন প্রজ্ঞা দেবনাথ ধর্মান্তরিত হয়ে আয়েশা জান্নাত মোহনা নাম নেন।
সিটিটিসির উপকমিশনার সাইফুল ইসলাম সেদিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগে থেকেই সে নব্য জেএমবির নারী শাখার সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ রাখত। সেখান থেকে সে উদ্বুদ্ধ হয়ে মুসলমান হয় এবং এক পর্যায়ে নব্য জেএমবির নারী শাখার প্রধান আসমানী খাতুনের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা হয়।”
গত ৪ ফেব্রুয়ারি উত্তর কমলাপুর এলাকা থেকে আসমানী খাতুন ওরফে আসমা ওরফে আমাতুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি। ২৮ বছরের ওই নারীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়।
ওই মামলায় রিমান্ড শেষে তিনি এখন কারাগারে রয়েছেন। ওই মামলাতেই পরে ভারতীয় তরুণী আয়শাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়।
কাউন্টার টেররিজম পুলিশ বলছে, আয়েশা ওরফে প্রজ্ঞা একাধিকবার বৈধভাবে বাংলাদেশে এসেছেন। সর্বশেষ গত অক্টোবরে স্বামী সাদ্দামের পরামর্শে তিনি বাংলাদেশে এসে আসমানীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন।
“বাংলাদেশে আসার পর সে ভুয়া জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট তৈরি করে তা দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেন। পরে ওই পরিচয়পত্র দেখিয়ে নব্য জেএমবির সদস্যদের সহায়তায় ঢাকার কেরানীগঞ্জে ও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিভিন্ন মাদ্রাসায় চাকরিও করেন “
ফেব্রুয়ারিতে আসমানী গ্রেপ্তার হওয়ার পর চাকরি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান আয়েশা। তবে নব্য জেএমবির নারী সদস্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল বলে সিটিটিসি কর্মকর্তাদের ভাষ্য।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ