ভারতের আদালতে রোহিঙ্গাদের পাশে বাঘা বাঘা আইনজীবী

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৭, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

দীপঙ্কর দাসগুপ্ত কলকাতা থেকে


রোহিঙ্গারা ভারতের নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক। ভারতের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে পাওয়া রিপোর্ট থেকে সেরকমই জানা যাচ্ছে। সুপ্রিমকোর্টে হলফনামা নিয়ে এই কথা জানিয়েছে ভারত সরকার। হলফনামা দিয়ে ভারতের রাষ্ট্রমন্ত্রক আরো জানিয়েছে, কয়েকজন রোহিঙ্গার সঙ্গে যোগ রয়েছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এবং আইএসআইএসের। কয়েকজন সন্ত্রাবাদী রোহিঙ্গা দিল্লি, হায়দারাবাদ, মেওয়ার ও জম্মু-কাশ্মীরে সক্রিয়ভাবে কাজ করতো বলেও জানিয়েছে ভারত সরকার।
বেআইনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিকল্পিতভাবে ভারতে ঢোকাতে একটি দালাল চক্রও কাজ করছে বলে দাবি করেছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। তাদের ভারতে প্রবেশ করতে দেয়ার আর্জি জানিয়ে ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে পিটিশন দাখিল করেছিলেন এক রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু। তারই শুনানিতে সুপ্রিমকোর্টের কাছে ১৫-পাতার হলফনামা জমা দিয়েছে দিল্লি সরকার। ওই হলফমানায় আরো বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে সরকারের প্রশাসনিক নীতিতে শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।
এদিকে ভারতের সুপ্রিমকোর্টে রোহিঙ্গাদের পক্ষে সওয়াল করছেন বাঘা বাঘা আইনজীবীরা। সেই তালিকায় রয়েছেন ফলি নরিম্যান, কপিল সিবরাল, রাজীব ধাওয়ান, কোলিন গঞ্জালভেস, অশনী কুমার ও প্রশান্ত ভূষণের নাম। রোহিঙ্গাদের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে নোটিশ পাঠানোর আর্জি জানিয়ে যে পিটিশন দাখিল করা হয়েছিল, তা খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট। মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে ৩ অক্টোবর।
রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের অসহায় মানুষদের মানবাধিকারের জন্য বিশ্বজুড়ে জনমত জোরালো হলেও, ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে মোদি সরকার জানিয়েছে, এরা বেআইনি শরণার্থী। রোহিঙ্গাদের জন্য বিপন্ন হচ্ছে ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এদিকে বার্মায় রোহিঙ্গা নির্মূল অভিযান ঠেকাতে সে দেশের সেনাবাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন হিডম্যান রাইটস ওয়াচ। নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভায় অধিবেশন শুরুর আগেই মানবাধিকার সংগঠনটি গোটা বিশ্বের কাছেই এই আহ্বান জানিয়েছিল।
গত ৯ আগস্ট ভারত সরকার সংসদে জানিয়েছিল, রাষ্ট্রপক্ষের শরণার্থী সংক্রান্ত হাইকমিশনে নথিভুক্ত ১৪ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী এই মুহূর্তে ভারতে রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই এই শরণার্থীদের বার্মায় ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে তৎপরতা বাড়িয়েছে সরকার। রাষ্ট্রসঙ্ঘের শরণার্থী সংক্রান্ত হাইকমিশনে নথিভুক্ত দুই শরণার্থী সুপ্রিমকোর্টে আর্জি পেশ করে বলেছিলেন, বার্মায় রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষদের ওপর চরমতম বৈষম্য, বেপরোয়া হিংসা ও রক্তক্ষয়ী আক্রমণ চলছে। ফলে আমরা প্রাণভয়ে বার্মা থেকে পালিয়ে এসে ভারতে আশ্রয় নিয়েছি। কিন্তু এখানকার সরকার যেভাবে জোর করে আমাদের বার্মায় ফেরত পাঠাতে চাইছে, তা মানবাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনের বিরোধী।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ