ভারতের টিকা পাচ্ছে না বাংলাদেশ! কিন্তু শিষ্টাচার কতটুকু রক্ষা হল?

আপডেট: জুন ৬, ২০২১, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশসহ কোনো দেশই আপাতত ভারতে উৎপাদিত টিকা পাচ্ছে না বলে জানিয়ে দিয়েছে দেশটি। উল্টো টিকা কোন দেশ থেকে আমদানি করা যায় সেটা নিয়ে ভাবছে তারা। ৪ জুন সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী এ তথ্য জানান। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
ভারতের আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা এতো বিলম্বে কেন? চুক্তি ও অর্থ পরিশোধের পরও বাংলাদেশ টিকা পাবে না এটাই বা হবে কেন? বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। বাংলাদেশের সাথে ভারত কূটনৈতিক শিষ্টাচারের কতটুকুই বা রক্ষা হলো? আগের যে কোনো সময়ের চেয়েও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সবচেয়ে গভীর বলেই প্রচার হয়ে আসছে। কিন্তু বন্ধুর প্রতি সম্মানজনক আচরণ হলো কি না সেটা খুবই বিবেচ্য। যুক্তি আসতেই পারে যে, ভারতের করোনা পরিস্থিতি যে ভাবে বিগড়েছে তাতে করে বাংলাদেশকে টিকা দেয়ার মত পরিস্থিতি নেই। এটাকেই সত্য ধরে নিলেও বলা যায় ভারত বাংলাদেশের প্রতি সৌজন্য প্রকাশ করে হলেও দুঃখ প্রকাশ করে পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দেয়া যেতে পারতো। ভারতের পক্ষ থেকে যথার্থ ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে সান্ত¦নার একটা জায়গা খুঁজে পাওয়া যেত।
বাংলাদেশ-ভারত এমন একটি মৈত্রী বন্ধন, যেটি দাবি করা হয়Ñ সেটা কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন হওয়ার নয়। দুটি প্রতিবেশি দেশের মধ্যে এমনই সদ্ভাব থাকাই উত্তম। কিন্তু সেক্ষেত্রে ভারতের পক্ষ থেকে ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে। সেটা ভারতেও সমালোচিত হচ্ছে।
কোলকাতার আনন্দবাজার অনলাইন সংস্করণে কূটনৈতিক মহলের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হচ্ছে- ‘খুবই প্রাঞ্জল করে মুখপাত্র জানিয়ে দিয়েছেন প্রতিষেধক রপ্তানির প্রশ্নই উঠছে না। তার কারণ দেশে যেভাবে টিকাকরণ করা সম্ভব হবে বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল তার ধারেকাছে দিয়েও যেতে পারেনি মোদী সরকার। কিন্তু সেই সঙ্গে এই বিতর্কও উঠছে যে, কেন্দ্র নিজে থেকেই বারবার বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বকে আশ্বস্ত করেছিল ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর নীতির কথা বলে। এপ্রিলের গোড়ায়, অর্থাৎ ভারতে কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার ঠিক আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাইসিনা সংলাপে জানিয়েছিলেন, স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ভারতের যে-টুকু সম্পদ তা গোটা বিশ্বের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াতেই বিশ্বাস করে তার সরকার।’
কিন্তু ভারত এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি। অথচ বাংলাদেশে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ ভারতের কাছ থেকে পাওয়া প্রথম দফার টিকা নিয়ে বসে রয়েছেন পরবর্তী ডোজের জন্য। দ্বিতীয় ডোজের সময় পেরিয়েছে আড়াই-তিন মাস। করোনা মোকাবেলায় কিংবা টিকাকরণে ভারতের ব্যর্থতার রেশে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ ভুগতে হচ্ছে। বাংলাদেশ সেটাকে সামাল দেয়ার চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সমান বন্ধুত্ব, সম্মান ও মর্যাদার জায়গাটাকেও অবশ্যই সমীহ করতে হবে। এটা প্রকৃত বন্ধুত্বেরই শর্ত।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ