ভারতে কুকুর নিধনে অবহেলায় সুপ্রিম কোর্টের তিরস্কার

আপডেট: অক্টোবর ২৪, ২০১৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক
ভারতের কেরালায় কুকুর নিধনে অবহেলার জন্য রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছে সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ কমিটি। সড়কে বেওয়ারিশ কুকুর বেড়ে যাওয়ায় তা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে বলেও কমিটি জানায়।
আরো বলা হয়, কুকুর নিধনে এখনই যদি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া না হয় তবে তা জনজীবনের জন্য মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনবে। রাজ্য সরকারের উদাসীনতার কারণে অনেক স্থানে সাধারণ জনগণই নিজ উদ্যোগে কুকুর হত্যা করছে বলেও জানায় আদালত।
কুকুরের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়ে যাওয়ায় রাজ্যের মানুষের চলাফেরা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলেও মত দেয় কমিটি। জানায়, বিশেষ করে স্কুল পড়ুয়া শিশু ও নারীরা প্রায়ই কুকুরের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। যাদের বেশিরভাগই নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ।
আদালত আরো জানায়, প্রায় প্রতিদিনই এমন অভিযোগ আসছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। কেরালা হাইকোর্টের সাবেক জজ এস শ্রী জগনের নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ কমিটি বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদন জমা দেয়। ১২ পাতার ওই প্রতিবেদনে সাধারণ মানুষ অপরাধ জেনেও কেনো কুকুর হত্যা করছে সেই ব্যাখ্যাও দেয়া হয়।
জনসমুক্ষে কুকুর নিধনের মতো নির্দয় আচরণ ঠেকাতে এর আগে তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল আদালত। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজ্য সরকারের ব্যর্থতার কারণে মানুষ বাধ্য হয়ে গোপনে হলেও কুকুর নিধন করছে। এজন্যে অনেকে গোপনে মাংসের মধ্যে বিষ মিশিয়েও কুকুরকে তা খাওয়াচ্ছে। তবে কেনো এমন কাজ করা হচ্ছে তা দিবালোকের মতোই স্পষ্ট।
কুকুর নিধনের বিরোধীতায় যে সকল সংস্থা কাজ করছে তাদেরকেও বাস্তব অবস্থা বোঝার আহ্বান জানানো হয়। প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, যেসব কুকুর জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি সেগুলোকে বাঁচানোর বিষয়ে আসলে যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ নেই। একই সঙ্গে কুকুরের কামড়ে যারা হতাহত হয়েছেন তাদের প্রত্যেককে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের জন্য প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়।
এদিকে, প্রতিবেদনের জবাবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনমন্ত্রী কে টি জলিল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কুকুরের সংখ্যায় রাশ টেনে ধরতে বেশ কিছু পদক্ষেপ তারা গ্রহণ করেছেন।
সাধারণের জন্য যেসব কুকুর হুমকি হয়ে দেখা দেবে সেগুলোকে সংহারে কাজ করবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া যারা কুকুরের দ্বারা হতাহত হয়েছে তাদের জন্যও আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি শিলুভামা নামের ৬৫ বছরের বৃদ্ধার কথা উল্লেখ করেন। গেলো সপ্তাহে কুকুরের কামড়ে তার মৃত্যু হয়। ক্ষতিপূরণ হিসেবে তার পরিবারকে ৫ লাখ রুপি দেয়ার কথা জানান তিনি। এছাড়া কুকুরের কামড়ে আহত আরেক নারীকে ৫০ হাজার রুপি দেয়ার কথাও তিনি জানান।
সম্প্রতি রাজ্যের পুল্লুভিলা সমুদ্র সৈকতে কুকুরের আক্রমণে শিলুভামা নামের ওই বৃদ্ধা মহিলার মৃত্যু হলে সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার। কুকুর নিধনে তখন রাজ্য সরকার উদ্যোগ নিলে তাতে আবার সমালোচনা শুরু করে বিভিন্ন প্রাণী সংরক্ষণ সংস্থা। এমন অবস্থায় পাগলা অথবা বেয়াদব কুকুরের ভাগ্যে কি ঘটবে সে সম্পর্কে ধারণা পরিস্কার করল আদালত।