ভারতে জোটের সরকার

আপডেট: জুন ১১, ২০২৪, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

ভারতীয় রাজনীতি নতুন বাঁকে!


তৃতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। রোববার (৯ জুন) সন্ধ্যা সোয়া ৭ টার দিকে শপথগ্রহণ করেন তিনি। প্রথা মেনে শপথবাক্য পাঠ করান দেশটির রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। কংগ্রেস নেতা জওহরলাল নেহেরুর পর মোদীই ১ম যিনি প্রধানমন্ত্রিত্বের দুই পূর্ণ মেয়াদ শেষ করে ৩য়বার এ পদে আসীন হলেন।

ভারতের লোকসভা নির্বাচন নিয়ে বিশ্বের সব দেশরই আগ্রহ ছিল। নির্বাচনের ফলাফল এবং সরকার গঠন নিয়ে নানা আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। তবে নির্বাচনের ফলাফল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সব ধরনের জরিপ ফলাফল ভুল প্রমাণ করে এক নতুন বাঁক বদলের মধ্য দিয়ে ভারতের জাতীয় রাজনীতিকে যেতে হচ্ছে। ভবিষ্যত নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা হচ্ছে বটে কিন্তু সময়ই বলে দিবে ভারতের রাজনীতির গতিমুখ কেমন হবে।

জরিপ ফলাফলগুলোতে বিজেপি জোটকে ভূমিধস বিজয়ের তথ্যই প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু ভোটাররা আর কিছু করে ফেলেছে, সব জরিপকে ভুল প্রমাণিত করেছে। বিজেপি স্বয়ং ফলাফলের ব্যাপারে উচ্চাকাক্সক্ষী ছিল কিন্তু তারা উপর থেকে ‘ধপাস’ করেই ভূতলে পড়েছে। কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

বিজেপিকে শরিকদের সাথে নিয়ে সরকার গঠন করতে হয়েছে। কংগ্রেস আশাতীত সফলতা পেয়েছে। এই সফলতাকে কংগ্রেসের ঘুরে দাঁড়ানো যেমন তেমনি ধর্ম নিরপেক্ষ রাজনীতির সুসময় হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

বিজেপি জোটের সরকার আদৌ পাঁচ বছর পার করতে পারবে কী না তা নিয়ে এখনই অংক কষার কাজটি শুরু হয়েছে। পাঁচ বছর টিকে গেলেও সরকার পরিচালনায় এবং বিজেপি রাজনীতির সাংগঠনিক ভিত্তি যে দুর্বল হবে- তেমনটিই ভাবছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এর প্রভাব পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনে পড়বে বৈ কী! ফলে এ পর্যায়ের সরকার যে স্বস্তিতে থাকবে না এটা স্পষ্ট বোঝাই যাচ্ছে।

ক্ষমতায় ঔদ্ধত্য থাকলে শালীন ও অশালীনের মধ্যে পার্থক্য করা যায় না। বিজেপিও এর আগের দুই টার্মের সরকারে সেই পার্থক্য বুঝতে সক্ষম হয়নি। ধর্মীয় ভাবাবেগকে উগ্র ও উস্কানিমূলকভাবেই দেখা হয়েছে। এর ফলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা জীবন ও সম্পদ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটিয়েছেন। ধর্ম ও বর্ণের বৈষম্যটা বেশ প্রকট হয়ে উঠেছে। রাজনীতিতে গতি যতই দুরন্ত হোক কেন, কোথায় থামতে হবে, সেটা না জানা থাকলে সমাজ ও রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয়।

সেই বুঝাটা এবার বুঝিয়ে ছেড়েছে ভারতের ভোটাররা। এটা সব রাজনৈতিক দলের জন্য সতর্ক-সংকেত। বাড়াবাড়ি যে কোনোভাবেই সুফল বয়ে আনবে না- এ সত্যটা যত শিগগিরই বুঝা যায় ততই মঙ্গল।