ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১১৯

আপডেট: নভেম্বর ২১, ২০১৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুরে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে নিহতের সংখ্যা ১১৯ জন বলে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার রাত ৩টার দিকে কানপুর থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে পুখরাইয়া এলাকায় ইন্দোর-পাটনা এক্সপ্রেসের ১৪টি বগি লাইন ছেড়ে বেরিয়ে পরস্পরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুমড়ে মুচড়ে যায়। ট্রেনের অধিকাংশ যাত্রী তখন ঘুমাচ্ছিলেন।
কানপুরের পুলিশ ও রেল কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ইংরেজি দৈনিক হিন্দুর অনলাইন সংস্কারণে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া লাশের সংখ্যা ১১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ২২৬ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৭৬ জনের অবস্থা গুরুতর। ভারতের নর্দার্ন সেন্ট্রাল রেলওয়ের মুখপাত্র বিজয় কুমার এনডিটিভিকে বলেছেন, দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হতে পারেননি তারা। ইন্দোর থেকে পাটনা যাওয়ার পথে মালাসার ও পুখরাইয়া স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়।
ওই ট্রেনের আরোহী কৃষ্ণ কেশব বিবিসিকে বলেন, “প্রচ- ঝঁকিতে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। সবাই খুব আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম। আমি অনেকগুলো লাশ দেখেছি, অনেক মানুষ আহত হয়েছে।”
নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন ইঞ্জিনের ঠিক পেছনে উল্টে যাওয়া দুটি বগির আরোহী। অনেক বগি দুমড়ে মুচড়ে যাওয়ায় ভেতরে আটকা পড়া যাত্রীদের উদ্ধারের জন্য গ্যাস কাটার ব্যবহার করতে হচ্ছে। আহতদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিতে একটি মেডিকেল টিমও ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে বলে উত্তর প্রদেশ পুলিশের এডিজি দলজিত সিং চৌধুরী জানিয়েছেন।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ট্রেন থেকে বের করে আনার পর অক্ষত যাত্রীদের কাছের মালাসা স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখান থেকে একটি বিশেষ ট্রেনে করে তাদের পাটনা পৌঁছে দেওয়া হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক টুইটে এ দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভুর সঙ্গে কথা বলে নির্দেশনাও দিয়েছেন।  আর রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু এক টুইটে বলেছেন, এ দুর্ঘটনার জন্য যারাই দায়ী হোক না কেন, তাদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
তিনি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে শিগগরিই একটি তদন্ত কমিটি করা হবে। নিহতদের পরিবার ও গুরুতর আহতদের জন্য আর্থিক সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য সরকার।
কানপুর ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে জংশন, যে স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন কয়েকশ ট্রেন যাতায়াত করে। দুর্ঘটনার কারণে ওই পথের ট্রেনগুলোকে অন্যপথে যেতে বলেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
বিবিসি লিখেছে, সোয়াশ কোটি মানুষের দেশ ভারতে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বিস্তৃত ট্রেন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। কিন্তু যন্ত্রপাতি পুরনো হওয়ায় প্রায়ই সেখানে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটে।- বিডিনিউজ