ভারতে তিন তালাক নিষিদ্ধ || নারীর যাত্রাপথে নতুন মাইল ফলক

আপডেট: আগস্ট ২৪, ২০১৭, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

ভারতের সর্বোচ্চ আদালত মঙ্গলবার এক রায়ে মুসলমানদের তিন তালাক প্রথাকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেছে। এটি একটি ঐতিহাসিক রায়। নারীর প্রতি চরম অবমাননাকর এই প্রথার বিরুদ্ধে ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের এই রায় সে দেশের মুসলিম নারীদের জন্য এক নবতর যুগের সূচনা হবে।
ভারতের উচ্চ আদালতের এই রায় ভারত তো বটেই ভৌগলিক সীমা ছাড়িয়ে দেশে দেশে ব্যাপকভাবে আলোচনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে। বিষয়টি বিভিন্ন দেশের সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ শিরোনামে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। রায়ের সমর্থনে যেমন জাগরণ ছিল, স্বতস্ফূর্ততা, আনন্দ-উল্লাস ছিলÑ আবার সমালোচনার অবস্থাও ছিল। তবে সব কিছুর পরেও ভারতের মুসলিম নারীদের জন্য এই রায় তাদের মর্যাদা ও ক্ষমতায়নের বার্তা নিয়ে এসেছে। ফলে সেদেশের নারীরা উদ্দীপ্ত, অনুপ্রাণিত।
ভারতের সতীদাহ প্রথা রদ, বাল্য বিবাহ প্রথার নিবারণ, বিধবা বিবাহের প্রচলনের মধ্যে দিয়ে যে সুদীর্ঘ যাত্রাপথ আমরা পেরিয়ে এসেছি, তাৎক্ষণিক তিন তালাক প্রথা মঙ্গলবার অবৈধ ঘোষিত হওয়ায় সেই যাত্রাপথটাই আর একটা নতুন মাইলফলকে পৌঁছল।
ধর্মের নামে শত শত বছর ধরে কোটি কোটি নারীকে চূড়ান্ত অসম্মানজনক, অসম এবং অনিরাপদ দাম্পত্য যাপনে বাধ্য করা হচ্ছিল ভারতে। পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, ইরাক, ইরান, তুরস্ক-সহ নানা মুসলিম প্রধান দেশও অবৈধ ঘোষণা করে দিয়েছে তিন তালাকের বদভ্যাসকে অনেক আগেই। যদিও ধর্মনিরপেক্ষ ভারত সেই কাজটি অনেক দেরিতে সম্পন্ন করলো।
ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়কে আরও একটা দৃষ্টিকোণ থেকেও কিন্তু দেখা হচ্ছে। সেই দৃষ্টি বলছে, যে পাঁচ নারী তিন তালাকের বিরোধিতায় আইনি লড়াইটা শুরু করেছিলেন, এ জয় শুধু তাঁদের নয়। এ জয় শুধু মুসলিম নারীদেরও নয়। এই জয় আসলে সেই নারীর, যাঁকে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই কখনও আদায় করে নিতে হয়েছে পৈতৃক সম্পত্তির অধিকার, আইনি লড়াইয়ে গিয়েই আদায় করতে হয়েছে সন্তান লালনের জন্য কর্মস্থল থেকে ছুটি পাওয়ার অধিকার। আরও একটা দীর্ঘ আইনি লড়াই নতুন ভোর এনে দিল বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নারীর জীবনে। এই রায় মানবতারও জয়। আরও এক ঐতিহাসিক মাইলফলকে পৌঁছল ভারত।
প্রশ্নটা ইতোমধ্যেই উঠেছে যে, এই রায়ের মধ্য দিয়েই কি নারীর সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেল কিংবা তালাক নামক যন্ত্রণার অবসান হলো? ব্যাপারটি এককেবারেই তা নয়। তবে এই রায়ের মধ্য দিয়ে নারীর মধ্যে শক্তি ও সাহসের পথচলায় অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে। নারীর জাগরণের পথনির্দেশনা হিসেবে নারীকে সংঘবদ্ধ ও প্রতিবাদী হতে শেখাবে। নিশ্চয় সমাজ বদলের ক্ষেত্রে, মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে এই রায় আলোর দিশারী হিসেবে কাজ করবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ