ভারতে প্রায় ৫৬ শতাংশ রোগের উৎস হল বাইরের খাবার!

আপডেট: মে ১০, ২০২৪, ৫:৩৩ অপরাহ্ণ

কী খাচ্ছেন বুঝে খান। ছবি: সংগৃহীত।

সোনার দেশ ডেস্ক :


৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ শারীরিক অসুস্থতার মূলে রয়েছে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস। ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ’ (আইসিএমআর)-এর সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই তথ্য।

প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাবেই নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা বাসা বাঁধছে শরীরে। আর পুষ্টির অন্যতম উৎস হল খাবার। সেখানেই গলদ থেকে যাচ্ছে। তার ফলে শরীর জুড়ে ক্রনিক রোগের ছড়াছড়ি। ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, ইউরিক অ্যাসিডের মত রোগ থাবা বসাচ্ছে দৈনন্দিন যাপনে।

‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউ অফ নিউট্রিশন’ জানাচ্ছে, বাইরের খাবার যত বেশি শরীরে যাবে, রক্তচাপের মাত্রাও সেই হারে বৃদ্ধি পেতে থাকবে। রক্তচাপের হাত ধরে হার্টের অসুখও বাসা বাঁধে শরীরে। অকালমৃত্যুর আশংকাও ঝেড়ে ফেলা যায় না।

কিন্তু সুস্থ থাকা কঠিন নয় একেবারেই। বাইরের খাবার খাওয়া কমিয়ে দিলেই রোগবালাই অনেকটাই দূরে চলে যাবে। সুস্থ থাকতে ঘন ঘন চিকিৎসকের কাছেও যেতে হবে না। কোনো- কোনো ক্ষেত্রে খেতে হবে না ওষুধও। শুধু স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেই প্রায় ৬০ শতাংশ ‘ক্রনিক’ রোগ আপনাকে আর ছুঁতে পারবে না।

বাইরের খাবারে স্বাদ আছে, রসনা তৃপ্তি আছে কিন্তু কোনো স্বাস্থ্যগুণ নেই। অথচ শরীর সুস্থ থাকে ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, খনিজ পদার্থ ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের গুণে। এই উপাদানগুলি যে খাবারে থাকে, সেগুলি সবচেয়ে কম খাওয়া হয়। বাইরের প্রক্রিয়াজাত খাবার, তেলেভাজা শরীরে এই উপাদানগুলির ঘাটতি তৈরি করে। তাতেই ধীরে ধীরে কঠিন অসুখের দিকে এগিয়ে যায় শরীর। তাই সুস্থ থাকতে বাইরের খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে আনতে হবে।

অসুস্থতা বয়স মানে না। যে কোনো বয়সে, যে কোনো রোগ হতে পারে। সম্প্রতি তারই প্রমাণ দিল ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউ অফ নিউট্রিশন’ (এনআইএন)। বয়স প্রৌঢ়ত্বের কাছাকাছি পৌঁছলে কোলেস্টেরলের ঝুঁকি থাকে।

এই ধারণা যে ভুল তা দেখিয়ে দিল ‘এনআইএন’। ৫-৯ বছর বয়সি প্রায় ৩৪ শতাংশ শিশু উচ্চ কোলেস্টেরলে ভুগছে, জানাচ্ছে গবেষণা। খাওয়া-দাওয়ায় রাশ না টানলে এই সংখ্যাটি আরো বাড়তে পারে বলেও আশংকা প্রকাশ করেছে ‘এনআইএন’।

শাকসব্জি, ডাল, ফল, মাছ, দুধ- এই ধরনের খাবার বেশি করে খেতে বলছেন পুষ্টিবিদেরা। ইতোমধ্যেই যা ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে খানিকটা হলেও বিপদ এড়ানো সম্ভব।
তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা