ভারতে ফিরতে বাংলাদেশে আটকে পড়াদের আকুতি

আপডেট: জুলাই ৯, ২০২০, ১০:১৭ অপরাহ্ণ

সফিকুল ইসলাম, শিবগঞ্জ :


নিজের খালার মৃত্যুর খবর পেয়ে গত ৭ মার্চ এসেছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাটে এসেছিলাম । ভেবেছিলাম কয়েকদিনের মধ্যে ফিরে যাবো। প্রাণঘাতী করোনার কারণে দেশে ফিরে যাবার অনুমতি পাচ্ছ্ িনা। প্রতিদিনই সোনামসজি স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন অফিসের সামনে সারাদিন বসে থেকে সন্ধ্যায় আবার কানসাটে আত্মীয়ের বাড়িতে ফিরে যাচ্ছি। কান্নাজড়িত কন্ঠে কথাগুলো বললেন ভারতের মালদহ জেলার কালিয়াচক থানার গোলাপগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা সমেনা বিবি। তিনি আরো বলেন স্বামী, সন্তান সংসার ছেড়ে এসে বড়ই বিপদে পড়েছি। সমেনা বিবি জানান, ৩ ছেলে-মেয়েকে রেখে এসেছি। সংসার ভাঙার উপক্রম, স্বামী বলছে আরেকটা বিয়ে করবো। আমরা ভারতের নাগরিক, নিয়মিত ট্যাক্স দিই, ভোট দিই। তাহলে নিজ দেশে কেন যেতে পারবো না? গাড়ি চলছে, পণ্য আমদানি-রফতানি হচ্ছে, তাহলে আমাদের নিতে সমস্যা কোথায়? নিজের স্বামী-সন্তানের কথা বলতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে কাঁদতে কাঁদতে তিনি আরো বলেন, দেশে না ফেরালে এখানেই জীবন দিয়ে দিবো।
সমেনা বিবির মত প্রায় ৩ হাজার ভারতীয় নাগরিক সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে আটকে আছে। প্রতিদিনই সোনামসজিদ স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন অফিসের সামনে এসে নিজ দেশে ফেরার অপেক্ষার প্রহর গুনছে এসব দিশেহারা ভারতীয় নাগরিক।

বুধবার (৮ জুলাই) সকালে দেখা গেছে- প্রায় অর্ধশতাধিক অপেক্ষমান ভারতীয় নাগরিককে।

মালদার বৈষবনগর থানার গুলজারনগর গ্রামের আবদুর রাজ্জাক বলেন, ভোলাহাটে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে আটকে পড়েছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাদের জানিয়েছেন ৩১ তারিখ খুলবে, তবে এখনও সীমান্ত খুলেনি। ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই। বউ-বাচ্চা ছাড়াই একটা ইদ করেছি, আরেকটা ইদ চলে আসলো। ঢাকা-কলকাতাগামী চাটার্ড বিমানের টিকিটও নিয়েছিলাম, সেটাও বাতিল হয়েছে।
গত ৮ মার্চ পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে এসেছিলো নবম শ্রেণির ছাত্রী নূর নেসা। ১০ দিনের জন্য এসে ৪ মাস পেরিয়ে গেছে। নূর নেসা জানায়, তখন কিছুই ছিলো না, তাই বই-খাতা নিয়ে আসিনি। সূর্যাপুরে যেখানে আমার স্কুল, সেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। ক্লাসে প্রশ্নপত্রও দেয়া হচ্ছে। কিন্তু আমি আটকে পড়ায় এখানে পড়াশোনা হচ্ছে না।

মালদার কালিয়াচক থানার শ্মশানীবাড়ি গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ হবিবুর রহমান বলেন, প্রায় ১ মাস ধরে প্রতিদিন এখানে এসে ঘুরছি, খাওয়া-দাওয়ার কোন খবর নেই, কেউ দুমুঠো খাবার নিয়ে এগিয়েও আসছে না। আজকাল বলে দিন পার করছে এখানকার অফিসাররা। বাড়িতে ছোট বোন ও ফুফু মারা গেছে, তাও যেতে পারলাম না।

কালিয়াচক থানার সুজাপুর চামাগ্রাম এলাকার আহসান আলী (৩০) বলেন, বাড়িতে ৩ ছেলে- মেয়ে ও স্ত্রী রয়েছে। ওখানে তারা অর্ধাহারে-অনাহারে দিন পার করছে। আমাদের সংসারটা কে চালাবে? এ সময় তিনি দুই দেশের সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা করেন ও মানবিক দিক বিবেচনায় সীমান্ত খুলে দেয়ার দাবি জানান।

বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন ইনচার্জ (উপপরিদর্শক) জাফর ইকবাল কখন নাগাদ ইমিগ্রেশন চালু হবে তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি। তবে মাঝে মাঝে ওপারের যাত্রী বা যাত্রীদের আত্মীয়স্বজন অফিসে এসে খোঁজখবর নিতে আসেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাকিব আল-রাব্বি বলেন, ঠিক কখন ইমিগ্রেশন চালু হবে, সেটির অফিসিয়ালভাবে কোন চিঠি বা নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। রাজশাহীতে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (০৭২১-৮৬১২১২, ভ্যারিভাইড ফেইসবুক পেইজ থেকে নেয়া) নম্বরে একাধিকবার চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।