ভারতে ফেইক নিউজ বা ভুয়া খবরের বিরুদ্ধে লড়ছেন যে উদ্যোক্তারা

আপডেট: জুলাই ২৬, ২০১৭, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


‘ফেইক নিউজ’ বা ভুয়া খবর মোকাবিলার জন্য ভারতে কয়েকজন উদ্যোক্তা এমন কিছু সফটওয়্যার বাজারে ছেড়েছেন – যা কোন খবর, ছবি বা ভিডিও সঠিক না হলে তা চিহ্নিত করতে পারবে।
অল্টনিউজ নামে একটি সফটওয়্যার একটি ভুয়া খবরের ঘটনা ধরে ফেলেছিল সম্প্রতি।
অনলাইনে একটি ভিডিও ছড়িয়েছিল যাতে একটি হিন্দু মেয়েকে মুসলিম জনতা মারধর করছে বলে দাবি করা হয়। হোয়টস এ্যাপে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওটির সাথে দেখা যায় একটি বার্তা – যাতে কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেবার দাবি জানাো হয়।
কিন্তু অল্টনিউজ বের করে যে ঘটনাটি আসলে ঘটেছিল মধ্য আমেরিকার দেশ গুয়াতেমালায়, এবং দু বছর আগে।
ভারতে এই ধরণের ফেইক নিউজ সবচেয়ে বেশি ছড়ায় হোয়াটসএ্যাপ বা মোবাইল মেসেজের মাধ্যমে। কারণ ভারতের মতো দেশে বেশির ভাগ লোকের ইন্টারনেট সংযোগ এই মোবাইল ফোন দিয়েই।
এরই বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছে অল্টনিউজের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো। অল্টনিউজ গড়ে তুলেছেন প্রতীক সিনহা – যিনি পেশায় ছিলেন একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। তার কথা, এসব ভিডিও অনেক সময়ই ছড়ায় কট্টরপন্থী মনোভাবসম্পন্ন লোকেরা – যাদের অনেকের ‘মুসলিম-বিদ্বেষী’ ঝোঁক আছে।
অল্টনিউজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বা হোয়াটসএ্যাপে ‘ভাইরাল’ হওয়া বিভিন্ন খবরের তথ্য, ছবি বা ভিডিও পরীক্ষা করে। কোন খবর যদি এমন কোন মিডিয়া প্রতিষ্ঠান থেকে আসে যারা ভুয়া খবর ছড়ায় – তাহলে তা-ও ধরে ফেলে অল্টনিউজ।
গত পাঁচ মাসে ৩২ লাখ ‘পেজ ভিউ’ করেছে অল্টনিউজ।
এ বছরের প্রথম দিকে ঝাড়খন্ড রাজ্যে ক্রুদ্ধ জনতার গণপিটুনিতে সাত জন লোক নিহত হয়। পরে জানা যায়, গ্রামবাসীরা ওই লোকদেরকে ভুল করে শিশু পাচারকারী বলে ধরে নিয়েছিল। আর এ ঘটনার পেছনে কাজ করেছিল একটি হোয়াটসএ্যাপ বার্তা – যাতে অচেনা লোক দেখলে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছিল, কারণ তারা শিশু পাচারকারী হতে পারে।
খবরটা এক মোবাইল থেকে আরেক মোইলে ছড়ি পড়ে দ্রুত গতিতে। গ্রামের লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে অচেনা লোকদের আক্রমণ কবরার কয়েকটি ঘটনা ঘটায় – যার পরিণতি হয় মর্মান্তিক।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ