ভারতে লকডাউন: বাড়ির পথে ৩ দিন হাঁটার পর বালিকার মৃত্যু

আপডেট: এপ্রিল ২১, ২০২০, ৬:১৫ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্য থেকে ছত্তিশগড় রাজ্যে নিজ জেলা বিজাপুরে ফিরতে হেঁটে দেড়শ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিল ১২ বছরের বালিকা জামলো মাকদাম, কিন্তু বাড়ি থেকে ঘণ্টাখানেক দূরে থাকতেই মৃত্যু এসে নিয়ে যায় তাকে।
বিশ্বজুড়ে মহামারী সৃষ্টি করা করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে ভারতজুড়ে চার সপ্তাহ ধরে লকডাউন চলছে, যার মেয়াদ ৩ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। লকডাউনের কারণে দেশটিতে শিল্প-কারখানা, দোকানপাটের পাশাপাশি ট্রেন, বাসসহ সব ধরনের গণপরিবহণও বন্ধ আছে। এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে ভারতের পরিযায়ী শ্রমিক, দরিদ্র গ্রামবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীগুলো; জানাচ্ছে দেশটির গণমাধ্যম।
এনডিটিভি জানায়, তেলেঙ্গানার এক গ্রামের একটি মরিচ ক্ষেতের কর্মী জামলো ১৫ এপ্রিল বাড়ির উদ্দেশ্যে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া শুরু করেছিল। সে একা ছিল না। তার সঙ্গে ওই মরিচ ক্ষেতে কাজ করা নিজ এলাকার আরও ১১ জন সঙ্গীও ছিল।
পরিবারের জন্য একটু বাড়তি আয়ের ব্যবস্থা করতে সেখানে গিয়েছিল তারা। মহাসড়ক এড়িয়ে বনপথে সোজা বাড়ির দিকে চলতে শুরু করেছিল তারা। তিন দিন হেঁটে শনিবার বিকালে বাড়ির খুব কাছে এসেও আর পারেনি জামলো, তীব্র পেট ব্যথা নিয়ে পথেই ঢলে পড়ে মৃত্যুর কোলে।
এ সময় বাড়ি থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে ছিল সে। মারা যাওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্স এসে তার প্রাণহীন দেহটি বাড়ি পৌঁছে দেয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস ছিল না তার, মৃত্যু তীব্র অপুষ্টি ও পানি শূন্যতার কারণে হয়েছে।
“তার করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে। সম্ভবত তার দেহে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতাও তৈরি হয়েছিল,” বলেছেন বিজাপুরের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসা কর্মকর্তা বিআর পূজারি।
জামলোর বাবা আনদোরাম মাকদাম জানান, তার মেয়ে দ্ইু মাস ধরে তেলেঙ্গানায় কাজ করছিল।
“ও তিন দিন ধরে হেঁটেছিল। পেট ব্যথা ও বমি হচ্ছিল ওর,” বলেছেন তিনি।
সঙ্গীর জানায়, ঠিকমতো খাবার খাচ্ছিল না জামলো।
এ ঘটনার পর জামলোর পরিবারকে এক লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ছত্তিশগড় রাজ্য সরকার।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ