ভারশোঁ ইউপির গ্রাম আদালতের সাফল্য অন্য ইউপির জন্যও অনুসরণীয়

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

করোনাভাইরাস সংক্রমণকালেও ৫ মাসে গ্রাম আদালতে শতাধিক মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। উৎসাহব্যঞ্জক ও অনপ্রেরণামূলক একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়ন পরিষদ এই কৃতিত্ব দেখিয়েছে। ওই গ্রাম আদালতে শতাধিক মামলা নিষ্পত্তির ফলে মামলার পক্ষ-বিপক্ষ উভয়ই হয়রানি ও অর্থ অপচয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন অন্তত দুই শতাধিক পরিবার। কার্যকর গ্রাম আদালত কতটা প্রয়োজন তা ভারশোঁ ইউনিয়ন পরিষদ অন্যদের জন্য দৃষ্টান্তই বটে।
সংবাদ প্রতিবেদনের তথ্যমতে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে ৩ মাস গ্রাম আদালত পরিচালনা কিংবা মামলা গ্রহণ করা হয়নি। কিন্তু লোকজনের ভোগান্তি কমাতে ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কিছু কিছু মামলা গ্রহণ করা হয়। এরপরও শতাধিক মামলা নিষ্পত্তি করা হয় । তবে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গ্রাম আদালত পরিচালনায় সীমাবদ্ধতার কথাও বলেছেন। বিচারিক কাজ করতে গিয়ে তাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। অনেকে পরিষদের দেয়া রায় উপেক্ষা করেন। আবার নোটিশ দেয়ার পরও অনেকে হাজির হন না। এতে গ্রাম আদালতের মানহানি ঘটে। এজন্য গ্রাম আদালতকে আরো শক্তিশালী বা ক্ষতায়নেরও পরামর্শ দেন ওই চেয়ারম্যান। ।
বাংলাদেশে বিচার ব্যবস্থার সর্বনিম্ন স্তর হচ্ছে গ্রাম আদালত। গ্রামাঞ্চলের কিছু কিছু মামলার নিষ্পত্তি এবং তৎসর্ম্পকীয় বিষয়াবলীর বিচার সহজলভ্য করার উদ্দেশো গ্রাম আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ এর আওয়তায় গঠিত একটি স্থানীয় মীমাংসামুলক তথা সালিশি আদালত।
দেশের উচ্চ আদালতগুলোতে যেখানে মামলার জট বেড়েই চলেছে সেখানে মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে মামলার জট নিরসনে পথ দেখাচ্ছে গ্রাম আদালত। গ্রাম আদালতে গরিব ও অসহায় মানুষ স্বল্প সময়ে অল্প খরচে ন্যায়বিচার পেতে পারে।
সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সরকারের একটি অন্যতম অঙ্গীকার। তাই ইউনিয়ন পর্যায়ে গ্রাম আদালতের সুনাম ও কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। তবে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যন্ত বিচারিক সেবা পৌঁছে দিতে, স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সকল স্টেকহোল্ডারদেরকে বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদসমূহকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদসমূহ এই আইনের আওতায় নিয়মিত গ্রাম আদালত পরিচালনা করলে এ সংক্রান্ত অভিযোগগুলো থানায় বা জেলা আদালতে দায়ের করার প্রয়োজন হবে না। এতে দেশের বিচারিক আদালতগুলোর মামলার জট অনেকাংশে হ্রাস পাবে। তবে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে যে সীমাবদ্ধগুলো রয়েছে সেগুলো নিরসনের ব্যাপারে উদ্যোগি হওয়াও বাঞ্ছনীয়। গ্রাম আদালত কার্যকর করা গেলে বিবাদ মীমাংশার ক্ষেত্রে সমাজ জীবনে মৌলিক পরিবর্তন আসবে এবং এর ইতিবাচক প্রভাবে বিবাদ সৃষ্টির ধারণা থেকেও মানুষ সরে আসতে পারে।
ভারশোঁ ইউপির চেয়ারম্যান, সদস্যগণ ও ইউনিয়নবাসীকে অনেক শুভেচ্ছা-অভিনন্দন। ওই ইউনিয়নের সাফল্যের পথ ধরে অন্য ইউনিয়ন পরিষদও এগিয়ে আসবে, দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে- সে প্রত্যাশাই রইল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ