‘ভালো ইন্টারনেট সেবা’ দেবে ন্যাশনাল ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ

আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০২২, ১:৪২ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক :


ভালো মানের ইন্টারনেট সেবা দিতে সহযোগিতা করবে জাতীয় ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ বা নিক্স। এমনই আরেকটি নিক্স-বাংলাদেশ ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার এক্সচেঞ্জ ট্রাস্ট চালু হয়েছে। এটির উদ্যোক্তা দেশে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি। এটি দেশে স্থাপিত নবম নিক্স। এই সংস্থাটি শিগগিরই রাজধানীর চারটি এলাকায় পপ (পয়েন্ট অব প্রেজেন্স) স্থাপন করবে বলে জানা গেছে।

সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, পুরনো নিক্সগুলো ঢাকায় একটি মাত্র নিক্স স্থাপন করেছিল। বাংলাদেশ ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার এক্সচেঞ্জ ট্রাস্ট ঢাকার মতিঝিল, ধানমন্ডিতে একটি করে এবং মহাখালীতে দুটি পপ স্থাপন করবে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে দেশের সব বিভাগীয় শহর এবং পরবর্তী সময়ে জেলা শহর ও উপজেলা পর্যায়ে নিক্স স্থাপন করবে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে দেশে প্রথমবারের মতো নিক্স লাইসেন্স দেওয়া হয়। সে বছর দুটি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো— বাংলাদেশ ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ ট্রাস্ট (বিটিআইএক্স) ও নভোকম লিমিটেড। এরপর ডিজিকন টেলিকমিউনিকেশন লিমিটেড, লেভেল থ্রি ক্যারিয়ার লিমিটেড, সামিট কমিউনিকেশনস, আমরা টেকনোলজিস লিমিটেড, জেটানিক্স, ক্লাউড টেকনোলজিস লিমিটেড ও বাংলাদেশ ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ ট্রাস্ট নিক্স লাইসেন্স পায়।

দেশে ৮টি বাণিজ্যিক নিক্স (জাতীয় ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ) প্রতিষ্ঠান থাকার পরও আইএসপিএবি নিক্স চালু করেছে, তার অন্যতম কারণ হিসেবে বলা হয়েছে— ঢাকায় শুধু একটি পপ (পয়েন্ট অব প্রেজেন্স) ছিল। এরই মধ্যে আইএসপিএবি এরই মধ্যে চারটা নিক্স স্থাপন করেছে। পরীক্ষামূলকভাবে চালুর তিন মাসে ৬০ জিবিপিএস ট্রাফিক পায় সংস্থাটি। আগামী ৩ মাসে ট্রাফিকের সংখ্যা ১০০ জিবিপিএসে উন্নীত হবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, আগামীতে থানায় থানায় পপ স্থাপন করা।

জানা যায়, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) দেশের ডেটা দেশে সংরক্ষণের উদ্দেশ্য নিয়ে চারটা পপ নিয়ে চালু করেছে আএসপিবি নিক্স। বলা হচ্ছে, আইএসপিএবি’র নিক্স ইন্টারনেটের সব ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা দেবে। স্থানীয় কনটেন্ট ব্যবহারে আইএসপিবি নিক্স দারুণ কাজে লাগবে আইএসপিগুলোর।

এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ডেটার (ইন্টারনেট) মহাসড়ক তৈরি করতে না পারলে— ডেটা সভ্যতা গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। আইএসপিএবির মহাসড়ক যত প্রশস্ত, মসৃণ ও সহজলভ্য হবে, ততটাই বিস্তার লাভ করবে ডিজিটাল বাংলাদেশ। আমি মনে করি, দেশের অন্যান্য বাণিজ্যিক সংগঠনগুলো আইএসপিএবিকে অনুসরণ করে ট্রাস্ট গড়ে জনগণকে সেবা দেবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইএসপিএবির সভাপতি ইমদাদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিক্স স্থাপন করার ফলে লোকাল কনটেন্ট লোকালেই থাকবে, ইন্টারন্যাশনাল ব্যান্ডউইথ সেভ হবে ফলে খরচও কমবে, ল্যাটেন্সি কমবে, অপারেশন চার্জ (পরিচালন ব্যয়) কমবে এবং সর্বোপরি কাস্টমাররা ভালো সার্ভিস পাবেন। ব্যবহারকারীরা একই দামে আগের চেয়ে বেশি ব্যান্ডউইথ পাবেন।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ইমদাদুল হক বলেন, ‘আমাদের স্থানীয় কনটেন্ট কম। এটা বাড়াতে হবে। এটা না বাড়ালে নিক্সের সুবিধা পুরোপুরি পাওয়া যাবে না।’ তিনি জানান, বাংলাদেশে স্থানীয় কনটেন্টের পরিমাণ ৫ শতাংশেরও কম, যেখানে দক্ষিণ কোরিয়ায় এর পরিমাণ ৭০ শতাংশ। তিনি বলেন, ‘দেশীয় কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে।

এরই মধ্যে কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে। সেসব প্ল্যাটফর্ম ভালো ট্রাফিক পাচ্ছে। এগুলোর সংখ্যা সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে বাড়াতে হবে।’ ইমদাদুল হক আরও জানান, এজন্য আমাদের একটা ভালো গাইডলাইন দরকার। নিয়ন্ত্রক সংস্থা যদিও এটা তৈরি করতে শুরু করেছে। এটার কাজ পুরোপুরি শেষ হলে কনটেন্ট খাতে পুরোপুরি আস্থা তৈরি হবে। সব সফলতা পাওয়া যাবে নিক্স থেকে।
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন