ভাষার জন্যে বই!

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৭, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



মাঝে মাঝে বিভ্রান্তিতে পরে যাই, কোনটা বেশি গতিশীল ভাষা না প্রযুক্তি? কখনও কখনও মনে হয় ভাষা আবার কখনও মনে হয় প্রযুক্তি।
আসলে ভাষার গতির সঙ্গে প্রযুক্তির একটি সম্পর্ক রয়েছে। বলা যায় প্রযুক্তি ভাষাকেই টেনে নিয়ে যায় তার সঙ্গে, তার গতিতে! তাই প্রযুক্তি যত আপডেট হচ্ছে, আপডেট হচ্ছে মানুষ, আপডেট হচ্ছে ভাষা। তাই কথ্য ভাষা বদলে যাচ্ছে প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে।
ভাষার গতিকে রাশ টানার উপায় নেই। কিন্তু এর মানকে সংরক্ষণ করার উপায় আছে। মানুষ দিন দিন যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন শব্দের সঙ্গে। কিন্তু তার বেশির ভাগই ভিনদেশি শব্দ। হয় ইংরেজি নতুবা হিন্দি। আজকাল তামিল বা পাঞ্জাবি ভাষাও যুক্ত হচ্ছে এসব ভাষার জনপ্রিয় সিনেমার হাত ধরে। ফলে কথ্য ভাষায় দিন দিন দূষণের মতো যুক্ত হচ্ছে ভিনদেশি শব্দ। প্রযুক্তির গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসব দূষণ রোধের উপায় নেই। তবে প্রতিকার আছে।
আজকাল বাংলা ভাষার গতিও দেখার মতো। বড় বড় শব্দ ছেঁটে ছোট করা হচ্ছে। সেইরকম শব্দ কে ছেঁটে করা হয়েছে ‘সেই’। ফলে আজ আর (বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম) কেউ বলেনা সেইরকম একটি সিনেমা দেখেছি। বরং তার বদলে বলে সিনেমাটি ছিল সেই! তেমনি ‘ঝামেলা’ শব্দটি প্রতিস্থাপিত হয়েছে ‘প্যারা’ দিয়ে। এভাবে ভাষা তার আপন গতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এর একটা বড় কারণ, মানুষ নতুনের পূজারি।
কিন্তু আমাদের ভাষায় নতুন নতুন শব্দ তেমন যুক্ত হচ্ছে না। বরং যুক্ত হচ্ছে বিকৃত শব্দ। আর প্রযুক্তির কারণে আসা নতুন শব্দের আমরা ভালো কোনো বাংলা রুপ দিতে পারিনি। যেমন, কয়েক বছর আগেও মোবাইল ফোনের দারুন একটি বাংলা নাম দিয়েছিলেন সময়ের জনপ্রিয় কবি নির্মলেন্দু গুণ। তিনি এর নামকরণ করেছিলেন, মুঠোফোন। হাতের মুঠোয় থাকে বলে এর নাম দিয়েছিলেন মুঠোফোন। কিন্তু আমরা সেরকম চমকপ্রদ আর কোনো শব্দ কি যুক্ত করতে পেরেছি বাংলায়? হয়তো সাহিত্যিকরাও ঝিমিয়ে পরেছেন। নইলে হালের ট্রেন্ড ‘সেলফি’র ভালো কোনো বাংলা শব্দ আমরা কিন্তু দিতে পারিনি। ওপার বাংলায় যদিও সেলফিকে ‘নিজস্বি’ নামে ডাকা হচ্ছে। কিন্তু সেটা খুব একটা জনপ্রিয়তা পায়নি। কিন্তু কেন সমৃদ্ধ হচ্ছে না বাংলা? কারণ একটাই আমরা বাংলা তেমন জানিই না।
আমাদের বাংলা শিখতে শব্দ কোষের প্রয়োজন নেই, তবে দরকার আছে বই পড়ার। নতুন প্রজন্মই দায়িত্ব নেবে ‘মুঠোফোন’র মতো নতুন শব্দ সৃষ্টির। কিন্তু তার জন্যে তাদের বাংলা শব্দের ভা-ার করে নিতে হবে সমৃদ্ধ। আর এটা তখনই সম্ভব যখন কেউ প্রচুর বই পড়বে।
বই পড়ে শুধু শব্দের জ্ঞানই বাড়বে তা নয়। বই মানুষের চিন্তার দুয়ার খুলে দেয়। বই শেখায় সিদ্ধান্ত নিতে। বই শেখায় স্বপ্ন দেখতে। বই শেখায় কিভাবে এগিয়ে যেতে হয়। তাই সন্তানদের ল্যাপটপ কিংবা বাণিজ্য মেলার পাশাপাশি নিয়ে যান বই মেলায়। দেখিয়ে আনুন অন্য দুনিয়া। খুলে দিন সম্ভাবনার দুয়ার আপনার জন্যে যেমন তেমনি জাতির জন্যে। অন্তত ভাষার জন্যে হলেও আপনার সন্তানকে একটি বই কিনে দিন। হোক সেটা আপনার কিংবা তার রুচি মাফিক। রাইজিংবিডি