ভাষাসৈনিক মনোয়ারা রহমানের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

আপডেট: এপ্রিল ৯, ২০১৭, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


স্মরনসভায় বক্তব্য দেন রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান- সোনার দেশ

নারী জাগরণের অগ্রদূত সমাজসেবী ভাষাসৈনিক বেগম মনোয়ারা রহমানের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে দিনব্যাপি কর্মসূচি হাতে নেয় ভাষাসৈনিক বেগম মনোয়ারা রহমান স্মৃতি পরিষদ ও রাজশাহী প্রেসক্লাব। কর্মসূচির মধ্যে সকালে মরহুমার কবর জিয়ারত, প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, বাদ আসর দোয়া মাহফিলা ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মনোয়ারা রহমান স্মরণে গতকাল শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় রাজশাহী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভায় মোবাইলফোনে ঢাকা থেকে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আআমস আরেফিন সিদ্দিক এবং প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট কলামিস্ট প্রশান্ত কুমার সাহা। স্বাগত বক্তব্য দেন, ভাষাসৈনিক বেগম মনোয়ারা রহমান স্মৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আসলাম-উদ-দৌলা।
প্রধান আলোচক তার বক্তব্যে বলেন, ‘প্রকৃত মানুষদেরকে সমাজ ভুলে যাবে এটাই স্বাভাবিক। মনোয়ার রহমানের মত মানুষদেরকে সমাজ মূল্যায়ণ করে না। এতে কিন্তু তাদের ক্ষতি হচ্ছে না। প্রকৃতপক্ষে আমাদেরই ক্ষতি হচ্ছে। তাই মনোয়ারা রহমানের মত মানুষদেরকেই যেন সমাজ তথা রাষ্ট্র মূল্যায়ন করে সেই দাবি আমদের তুলতে হবে। তাকে যেন একুশে পদক প্রদানের মাধ্যমে তাকে মূল্যায়িত করা হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে সংসদে ঘোষণা দিয়েছিলেন, আমরা শোষিতের গণতন্ত্র চাই, শোষণের নয়। এজন্য আতাউর রহমানসহ দেশে ৬৪ জেলায় গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন। আর একমাত্র বিরোধীদল থেকে গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন রাজশাহী থেকে আতাউর রহমানকে। তাই তাকেসহ ৬৪ জেলার গর্ভনরকে যেন স্বাধীনতা পদক প্রদান করা হয়। এজন্য আমাদেরকে যেখানে যেখানে যাওয়া দরকার আমরা প্রয়োজনে সেসব জায়গায় যাবো। যাতে করে প্রকৃত মানুষদেরকে মূল্যায়ন করা হোক।’
রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) গোলাম সারওয়ারের সভাপতিত্ব এবং সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানের পরিচালনায় মনোয়ারা রহমানের জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা করেন, সেক্টর কমান্ডার ফোরাম রাজশাহীর সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান, মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, নাগরিক অধিকারের আহ্বায়ক এ্যাডভোকেট এনামুল হক, নারীনেত্রী কল্পনা রায়, নিউ ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক আব্দুল আওয়াল আনসারী, শিক্ষা স্কুল এণ্ড কলেজের অধ্যক্ষ ইব্রাহীম হোসেন, উপাচার পত্রিকার সম্পাদক ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ সেলিম, রাজশাহী বারের যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজী শওকত এলেন, প্রয়াত মাহাতাব চৌধুরীর মা নাজমা চৌধুরী, ওয়ালিউর রহমান বাবু, যুবমৈত্রী মহানগর সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, সাংবাদিক কামাল মালিক, আনোয়ার হোসেন মুকুল, দৈনিক আমাদের সময়ের নিজস্ব প্রতিবেদক আমজাদ হোসেন শিমুল, রাজশাহী প্রেসক্লবের সহযোগী সদস্য বাংকার নয়া রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক কলিন্স, রফিকুল ইসলাম পিন্টু, সমাজ উন্নয়ন কর্মী ইকবাল হাসান টাইগার, যুবনেতা নজরুল ইসলাম, আসাদুল হক দুখু, আলমগীর কবির লিটন, সাবেক ছাত্রনেতা মনি আখতারুল ইসলাম সনি, ফটোসাংবাদিক রেজ্জাকুল সঞ্জু, বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর প্রমুখ।
সভার শুরুতে ভাষাসৈনিক মনোয়ারা রহমান ও তাঁর বড় মেয়ে মাহফুজা রহমান পুতুলের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
এ সময় বক্তারা এখন পর্যন্ত ভাষাসৈনিক মনোয়ারা রহমানকে রাষ্ট্রীয় কোনো স্বীকৃতি না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, আমাদেরকে এই দীনতা কাটিয়ে উঠতে হবে। নচেৎ সার্বিক উন্নয়ন কখনই সম্ভব হবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ