বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

ভিনগ্রহের প্রাণীর সন্ধানে নাসার নতুন অভিযান

আপডেট: November 28, 2019, 1:09 am

সোনার দেশ ডেস্ক


বৃহস্পতি গ্রহের উপগ্রহ ইউরোপা প্রাণ বিকাশের জন্য আদর্শ বলছেন বিজ্ঞানীরা। এবার সেখানকার বরফ ঢাকা ভূপৃষ্ঠের নিচে ভিনগ্রহের কোনো প্রাণী আছে কি না, তা জানতে বিজ্ঞানীরা নতুন পরীক্ষা চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞানীরা আমাদের পৃথিবীর বরফ ঢাকা মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচে একটি বিশেষ যান পাঠিয়ে সে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বরফে ঢাকা প্রতিকূল পরিবেশে পানির নিচে চলতে পারা ছোট্ট ওই যানটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। এর দুটি চাকা, দুটি ক্যামেরা আছে। আর এটি একবার চার্জ করলে কয়েক মাস চলতে পারবে। অদ্ভুত এই যানটির নাম দেয়া হয়েছে ‘বয়োন্ট রোভার ফর আন্ডার আইস এক্সপ্লোরেশন’ (বিআরইউআইই)।

বরফের নিচে পানিতে কী আছে, তা জানা যাবে এই বিশেষ যানটির মাধ্যমে। এতে একটি এনার্জি সিস্টেম তৈরি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে পাওয়ার সংরক্ষণ করতে পারবে এটি। নমুনা সংগ্রহের সময় বা এক জায়গায় বসে থাকার সময় এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার পাওয়ার অফ রেখে তা সংরক্ষণ করতে পারবে।

নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, মূলত বরফ ও পানির মিলনস্থলে তারা এই যানের মাধ্যমে গবেষণা করতে চান। গবেষকরা বলছেন বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপার সাগরগুলো যে বরফে ঢেকে আছে, সেই বরফের নিচে প্রাণী থাকার সম্ভাবনা আছে। ইউরোপার সেসব বরফে ঢাকা অংশ আমাদের পৃথিবীর অ্যান্টার্কটিকার বরফের মতোই অনেকটা। ইউরোপার সেসব বরফ ছয় থেকে ১২ মাইল পর্যন্ত পুরু, অ্যান্টার্কটিকার বরফ সর্বোচ্চ তিন মাইল পর্যন্ত পুরু বলেই জানা গেছে।

নাসার গবেষকরা বলছেন, বিশেষ এই যানটি যেন দীর্ঘ কয়েক মাস যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই কাজ করছেন তারা। বিশেষ এই যানটি তার দুটি ক্যামেরা ও প্রোব দিয়ে বরফের নিচের পানি, লবণাক্ততা ও অক্সিজেন লেভেল পরিমাপ করবে। পৃথিবীতে প্রাণ সৃষ্টির জন্য এসব পরিমাপই মূখ্য ছিল। বিজ্ঞানীরা অবশ্য এটাও বলছেন অন্য গ্রহের প্রাণীরা হয়তো পৃথিবীর চেয়ে কিছুটা ভিন্ন পরিবেশেও জন্মগ্রহণ ও বেঁচে থাকতে পারে।

নাসা ২০২৫ সালে বৃহস্পতি গ্রহ নিয়ে বিশাল মিশনে ‘ইউরোপা ক্লিপার’ নামের মহাকাশযান পাঠাতে যাচ্ছে। আর বৃহস্পতির ইউরোপা উপগ্রহটি নিয়ে বিজ্ঞানীরা বেশি উচ্ছ্বসিত। সেটি পৃথিবীর চাঁদের চেয়ে খানিকটা ছোট, ৩.৫ দিনে বৃহস্পতিকে একবার প্রদক্ষিণ করে। এর অভ্যন্তরভাগ লোহায় পূর্ণ ও উপরিভাগে পৃথিবীর মতো লবণাক্ত পানির সমুদ্র আছে বলেই ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।