ভুল অপারেশনে প্রসূতি অন্তরার মৃত্যু, চিকিৎসক দম্পতির শাস্তি দাবি

আপডেট: জানুয়ারি ১০, ২০২৪, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ


ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি:


পাবনার ঈশ্বরদীতে সন্তান প্রসব করার সময় চিকিৎসকের ভুল অপারেশনে অন্তরা খাতুন (২৩) নামের একজন প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে এমন অভিযোগ করে চিকিৎসক দম্পতির শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন মৃত অন্তরার স্বজন ও এলাকাবাসী। বুধবার (১০ জানুয়ারি) আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের হাসপাতাল রোড, শেরশাহ রোড ও প্রধান সড়ক হয়ে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সামনে এসে মানববন্ধনে মিলিত হয়।

অন্তরা ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী ও শহরের কলেজ রোড এলাকার ফজলে রাব্বির স্ত্রী। ঈশ্বরদী থানায় দেওয়া অভিযোগ উল্লেখ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনকারীরা বলেন, প্রসব বেদনা উঠার পর গৃহবধু অন্তরাকে গত ৪ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে শহরের আলো জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই হাসপাতালের মালিক ডা. শফিকুল ইসলাম শামিম ও তার স্ত্রী ডা. মাসুমা আনজুম ডানা রোগীর অভিভাবকদের অনুমতি ছাড়াই রাত পৌনে নয়টার দিকে অপারেশন করেন।

অপারেশনে একটি কন্যা সন্তান প্রসবের পর ওই প্রসূতি বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করলে তার শারিরিক অবস্থা খারাপ জানিয়ে নিজেরাই তড়িঘড়ি করে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে রাজশাহীতে পাঠানের ব্যবস্থা করেন চিকিৎসক দম্পতি। এসময় রোগীর অভিভাবকদের কোন কথাই তারা আমলে নেননি বলে অভিযোগ করেন অন্তরার মা, শ্বাশুড়ি ও স্বামীসহ স্বজনরা। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে ওই দিন রাত ১২ টার পর মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে ও চিকিৎসক দম্পতির শাস্তির দাবি জানিয়ে বুধবার দুপুরে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

বিক্ষোভ শেষে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিহত অন্তরার স্বামী ফজলে রাব্বি, মা নাজমা বেগম, শ্বশুর আলহাজ্ব ফারুখ আহমেদ, শ্বাশুড়ি জান্নাতুল ফেরদৌস রুনু, এলাকাবাসী নাসিমা খাতুন, সামিনা খাতুন, তামিম হোসেন প্রমুখ।

এসব বিষয়ে আলো জেনারেল হাসপাতালের মালিক ও ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শফিকুল ইসলাম শামিম বলেন, রোগীর এ্যাকলেমশিয়া হয়েছিল, অপারেশনের পর তার অবস্থার অবনতি হলে আমরা রাজশাহীতে নেয়ার পরামর্শ দেই। রাজশাহীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।