‘ভুল কিছুই করি নি’

আপডেট: নভেম্বর ২৩, ২০১৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক
তার কথা শোনার অপেক্ষায় ছিল সবাই। অনেকেই নানাভাবে চেষ্টা করেছে প্রতিক্রিয়া জানার। এক সংবাদকর্মীর সঙ্গে দলের নিরাপত্তারক্ষীর হাতাহাতিও হয়েছে। অবশেষে মুখ খুললেন ফাফ দু প্লেসি। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক বললেন, ভুল কিছু করেন নি।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোবার্ট টেস্টে বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ম্যাচ ফির শতভাগ জরিমানা করা হয় দু প্লেসিকে। সঙ্গে যোগ হয়েছে তিনটি ডিমেরিট পয়েন্ট।
রায়ের পর পরই আইসিসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানায় ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা। দু প্লেসির মনোভাব পরিষ্কার হয়ে যায় তাতেই। এবার নিজেই বললেন। অ্যাডিলেড টেস্ট শুরুর আগের দিন দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়কের সংবাদ সম্মেলনের বড় অংশ জুড়ে থাকল বল টেম্পারিং নিয়ে কথা।
“গতকাল ছিল শুনানি, রায়ে বলা হয়েছে আমি দোষী। আমি সেটির সঙ্গে পুরোপুরি দ্বিমত পোষণ করছি। আমার মনে হয়েছে, আমি ভুল কিছুই করিনি। ব্যপারটিকে দুই ভাবে দেখা যায়, হয়ত বল উজ্জ্বল করা অথবা বল টেম্পারিং। বল টেম্পারিংয়ের কথা বললে, আমার মতে সেটা ভুল। টেম্পারিং মানে বল খোটানো, আঁচড় কাটা।”
“সব ক্রিকেটাররাই বলবে, বল উজ্জ্বল করা একই ব্যাপার নয়। এটা সব ক্রিকেটারই করে থাকেন। আমি মনে করি, এই ঘটনার পর আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে খেলাটা কোন দিকে যাচ্ছে, আইসিসি এটা নিয়ে কি করতে যাচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি না বল উজ্জ্বল করা কোনো ভুল। আমি তো প্রতারণা বা তেমন কিছু করিনি। স্রেফ বল উজ্জ্বল করছিলাম, সেটায় কোনো সমস্যা দেখি না।”
হোবার্ট টেস্টের চতুর্থ দিনের টিভি ফুটেজ দেখে অনেকেই আঙুল তোলেন দু প্লেসির দিকে। ম্যাচ রেফারি তখন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাননি। কিন্তু সংবাদ মাধ্যমে টেম্পারিংয়ের অভিযোগ ওঠার পর আইসিসি সেই ফুটেজ খতিয়ে দেখার ঘোষণা দেয়। শুক্রবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনার কথা জানায় আইসিসি। মঙ্গলবার শুনারির পর দেওয়া হয় শাস্তির রায়।
ঘটনাটি হোবার্ট টেস্টের চতুর্থ দিন সকালের, যে দিন অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে ইনিংস ব্যবধানে ম্যাচ জিতে সিরিজও নিশ্চিত করে দক্ষিণ আফ্রিকা। টিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মুখের লালা দিয়ে বল ঘষছেন দু প্লেসি। তখন তার মুখে জিহ্বায় ছিল ললি জাতীয় বস্তু। মুখে ললি জাতীয় বস্তু থাকার কথা লুকাননি দু প্লেসি। সেটিতে কোনো সমস্যাও দেখছেন না দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক। তার মতে, টিভি ফুটেজে দেখা গেছ বলেই এত হইচই হচ্ছে। “বেশ বড় একটি মিষ্টি চুইংগাম আমার মুখে ছিল এবং আমার মুখ ছিল খোলা। আমি লুকানোর কোনো চেষ্টা করিনি। মুখে মিষ্টি জাতীয় কিছু নিয়ে বল উজ্জ্বল করার চেষ্টা করা হোক বা মুখের সেই মিষ্টি দেখা না যাক, মিষ্টি তো সেখানে আছে! ব্যাপারটি একদম একই।” ঘটনার পর অনেক সাবেক ক্রিকেটারের সমর্থন পেয়েছেন দু প্লেসি। এমনকি বুধবার সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথও বলেছেন, তারা নানাভাবে বল উজ্জ্বল করে থাকেন। নিজের ক্ষেত্রেও চলে আসা ধারার কোনো ব্যতিক্রম দেখছেন না দু প্লেসি। “সাবেক ক্রিকেটাররা ওটা নিয়ে কথা বলেছেন। এটা একটা অলিখিত নিয়ম। কেউ কেউ বল উজ্জ্বল কতে সানক্রিম ব্যবহার করে। আমি অনেকের কথা জানি যারা পকেটে লিপ-আইস বা গাম নিয়ে যায় বল উজ্জ্বল করতে। অনেক কিছু আছে। কোনটি ভুল, কোনটি ঠিক, এটা নির্ধারণ করা খুব কঠিন। মুখে মিষ্টি জাতীয় কিছু থাকার কথা বললে সেটি ভুল। কিন্তু যদি সে রকম কিছু থাকে এবং ক্যামেরা ধরতে না পারে, তাহলে ঠিক আছে!”
আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকার দিবা-রাত্রি অ্যাডিলেড টেস্ট। গোলাপি বল উজ্জ্বল করার কাজটি আরও কঠিন। এই টেস্টে তাই কৌতুহল থাকবে বল উজ্জ্বল করার ধরনে! দু প্লেসির আপিল আবেদনের শুনারির তারিখ এখনও জানায়নি আইসিসি।-বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ