ভুল নম্বরে গেল টাকা, ফিরিয়ে দিলেন এএসপি জামিল

আপডেট: জুন ২৪, ২০২২, ৫:২৪ অপরাহ্ণ


সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি :


নাটোরের সিংড়া বাজারের গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মো. শাহিন হোসেন। বাড়ি পৌর শহরের চকসিংড়া মহল্লায়। গত ১২ মে ব্যবসার মালামাল কিনতে গিয়ে নগদে টাকা ভুল নম্বরে চলে যায়। পরবর্তীতে সিংড়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার জামিল আকতার প্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর টাকা ফিরিয়ে দেয়।

সহকারি পুলিশ সুপার এর কার্যালয় ও জিডি সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী শাহিন হোসেন গত ১২ মে দোকানের মালামাল কেনার জন্য টাঙ্গাইলের করোটিয়া হাটে ২২ হাজার টাকার কাপড় কিনেন। সাথে টাকা না থাকায় খালাতো ভাই নাসিরকে ফোন দেয় নগদে টাকা প্রদান করতে। নাসির সিংড়া বাসস্ট্যান্ডে এসে এজেন্টের দোকান থেকে ২২ হাজার টাকা নগদ নম্বরে প্রদান করে।

করোটিয়া হাটের দোকানদার ব্যালেন্স চেক করে দেখেন টাকা আসেনি। নম্বর চেক করতে গিয়ে শাহিন হোসেন দেখতে পায় একটি নম্বর ভুল হয়ে অন্য একাউন্টে টাকা চলে গেছে। সেই নম্বরে কল দিয়ে দেখে বন্ধ।

১৬ মে সিংড়া থানায় জিডি করেন তিনি। ১৭ মে সিংড়া সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার জামিল আকতার এর সাথে দেখা করতে আসে সে। এএসপি তাৎক্ষণাত নগদের ল এনফর্সমেন্ট হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করে জানতে পারে নম্বরটি পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামের।

অফিসিয়াল ই-মেইলের মাধ্যমে নম্বরটি আউটওয়ার্ড ট্রানজেকশন বøক করা হয়। পরদিন বাউফল থানার ওসির সহযোগিতায় থানার এএসআই স্বপন উক্ত বাড়িতে গিয়ে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারীর সাথে কথা বলেন।

বন্ধ সিমটি একটি মোবাইলে তুলে নগদ অ্যাকাউন্ট চেক করতে গিয়ে একাউন্ট ব্যবহারকারী জানালেন তিনি পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন। পাসওয়ার্ড রিসেট এর জন্য উক্ত নম্বর থেকে নগদের হটলাইন নম্বরে ফোন দিয়ে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায় অ্যাকাউন্ট ট্রানজেকশন বন্ধ করা আছে তাই পাসওয়ার্ড রিসেট হবে না।

নতুন পাসওয়ার্ড পেতে হলে একাউন্টে আবার পুলিশের সরকারি ই-মেইলের মাধ্যমে উন্মুক্ত করতে হবে। এএসআই স্বপনের সাথে কথা বলার পর অফিশিয়াল মেইল থেকে ই-মেইল করে নম্বরটা উন্মুক্ত করেন এএসপি জামিল আকতার। এএসআই স্বপনের উপস্থিতিতে পাসওয়ার্ড রিসেট করে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারী টাকা ফেরত পাঠালেন শাহিন হোসেনের নিকট। ব্যবসায়ী শাহিন হোসেন টাকা ফেরত পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে যায়।

ব্যবসায়ী শাহিন হোসেন বলেন, নগদের নম্বর ভুল হয়ে টাকা চলে যায় অন্যত্র। এএসপি জামিল আকতার স্যারের প্রচেষ্টায় টাকা ফিরে পেয়ে আমি মহাখুশি। পুলিশ প্রকৃত পক্ষেই জনগণের বন্ধু।

সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (সিংড়া সার্কেল) মো. জামিল আকতার বলেন, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহারের সময় আমাদেরকে আরো সতর্ক হতে হবে। ভুল নম্বরে টাকা চলে গেলে উক্ত নম্বরে কল করে টাকা ফেরত না চাওয়াই উত্তম। এক্ষেত্রে থানায় এসে জিডি করে পুলিশের সহযোগিতা নিলে টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এর পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং সেবা গ্রহীতাদের অবশ্যই মনে রাখা উচিত তাদের একাউন্টের পাসওয়ার্ড বা ওটিপি কারো সাথে কখনোই শেয়ার করা যাবে না। প্রতারক চক্র কৌশলে পাসওয়ার্ড বা ওটিপি জেনে নিয়ে তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নিতে পারে।