ভুয়া এনআইডি বানিয়ে কোটি টাকা আত্মসাৎ, ইসির ৪৪ জন বরখাস্ত

আপডেট: মার্চ ৩, ২০২১, ৬:২২ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ট্রেড লাইসেন্স ও টিন সার্টিফিকেট জালিয়াতি করে ফ্ল্যাট মালিক কিংবা ক্রেতা সেজে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে লোন নিয়ে প্রতারণা করতো একটি চক্রটি। মঙ্গলবার (২ মার্চ) খিলগাঁও ও রামপুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জালিয়াত চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
জাতীয় পরিচয়পত্র পরিবর্তন করে তাদের এই জালিয়াতির কাজে সহায়তা করতেন নির্বাচন কমিশনের কয়েকজন কর্মচারী। জালিয়াতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে এমন ৪৪ জনকে বরখাস্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। এ পর্যন্ত ১১টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতারণার তথ্য পেয়েছে ডিবি পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আল-আমিন ওরফে জমিল শরীফ, খ ম হাসান ইমাম ওরফে বিদ্যুৎ, আব্দুল্লাহ আল শহীদ, রেজাউল ইসলাম ও শাহজাহান। তাদের কাছ থেকে একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে। যার নম্বর- ঢাকা-মেট্রো-গ-২০-৩৭৯৭। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিপ্লব নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।
বুধবার (৩ মার্চ) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।
তিনি বলেন, ভুয়া এনআইডি, টিনসহ অন্যান্য তথ্য জালিয়াতির মাধ্যমে ঢাকা ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গত বছরের ডিসেম্বরে খিলগাঁও ও পল্টন থানায় মামলা হয়। এ মামলা তদন্ত শুরু করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মতিঝিল বিভাগ।
তদন্তে ডিবি পুলিশ জানতে পারে, প্রতারক চক্রটি ভুয়া এনআইডি, ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স, ভুয়া টিন সার্টিফিকেট ব্যবহার করে ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ফ্ল্যাট লোন নিয়ে টাকা পরিশোধ না করে আত্মসাৎ করে পালিয়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তে বিপ্লব নামে একজনকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে বিপ্লব জানায়, ভুয়া এনআইডি তৈরির সঙ্গে জড়িত নির্বাচন কমিশন অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারী। ২৮ ফেব্রুয়ারি বিপ্লবকে গ্রেফতারের পর তিনি ১ মার্চ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ প্রতারক চক্রের মূলহোতা আল-আমিনকে গ্রেফতার করে। আল-আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রতারণার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন লোকের সন্ধান পাওয়া যায়।
তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী বিদ্যুৎকে গ্রেফতার করা হয়। বিদ্যুৎ ও আল-আমিন তাদের অন্য সহযোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী কখনো ক্রেতা আবার কখনো বিক্রেতা, কখনো জমির মালিক কখনো ফ্ল্যাটের মালিক সাজিয়ে প্রতারণা করেন। আব্দুল্লাহ আল শহীদ ভুয়া এনআইডি তৈরির মিডলম্যান হিসেবে কাজ করেন। রেজাউল ইসলাম ও শাহ জাহান ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স ও টিন সার্টিফিকেট তৈরি করেন।
তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ