ভুয়া চিকিৎসকের হয়রানির প্রতিকার চেয়ে থানায় অভিযোগ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি:


শিবগঞ্জে একজন পল্লী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিকার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন এক ভুক্তভোগী রোগীর স্বামী। পুলিশ জানিয়েছে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর রোগীর স্বামী আরসাদ আলির স্বাক্ষরিত অভিযোগ সূত্রে ও সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নের নরসিংহপুর গ্রামের মৃত নাজির উদ্দিনের ছেলে আরসাদ আলি গত ১০ আগষ্ট তার স্ত্রী সাজিনুর বেগমের মাথায় টিউমারের চিকিৎসা করার জন্য শ্যামপুর ইউনিয়নের উমরপুর গ্রামে আদর্শ চিকিৎসালয়ের মালিক পল্লী চিকিৎসক মাসুমের কাছে যান। তিনি চিকিৎসার নামে টিউমার কেটে সেখানে এ্যাসিড দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। তখন থেকে রোগী ভাল না হয়ে আরো বেশি খারাপ হয়ে যায়। পরে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ওই কথিত চিকিৎসকের কাছে গেলে তাকে অপমান ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বিদায় করে দেন। পরে তিনি রাজশাহীতে চিকিৎসা করাচ্ছেন।

মাসুম ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় অতিরিক্ত ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে দাবি করে আরসাদ আলি জানান, মাসুম ডাক্তারের ফাঁদে পা দিয়ে নিঃস্ব হয়েছি। এলাকার অনেকেই তার চিকিৎসায় প্রতারিত হয়েছে।

সরজমিনে গিয়ে একই উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের চককীতি নামোটোলা গ্রামের মনিরুল ইসলাম জানান, পায়ের ঘায়ের চিকিৎসা করাতে গেলে তিনি (মাসুম) আমার হাতে ইনজেকশন করেন। এতে হাতে ইনফেকশন হয়ে যায়। পরে রাজশাহী গিয়ে অপারেশন করে সুস্থ হয়েছি। খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা।

মোবারকপুর ইউনিয়নের দড়িচক গ্রামের মৃত মজনুর রহমানের স্ত্রী রেবিনা বেগম জানান, আমার মেয়ে ময়না খাতুনের নাকে পলিপাসের চিকিৎসা করিয়েছি। অপারেশন বাবদ ৩ হাজার ও ঔষধ বাবদ ২ হাজার টাকা নিয়েছে। সুস্থ হয়নি। বরং আরো বেশি হয়েছে। আমি ৩ মেয়ে নিয়ে মানুষের সহযোগিতায় কোন রকমে দিনাতিপাত করছি।

গত বৃহস্পতিবর সকাল ১০ টায় সরজমিনে মাসুম ডাক্তারের আদর্শ চিকিৎসালয়ে গেলে তিনি তার কয়েকজন লোককে ইশারা করে সরে যান। ভিতরে গিয়ে দেখা গেছে, নাকের পলিপাসের একজন মহিলার নাক অপারেশন করা হয়েছে। সে যন্ত্রনায় কাতারাচ্ছে। অপারেশন করা হারবাল চিকিৎসক মোজাম্মেল মিডিয়া কর্মীদের ছবি তুলতে বাধা দিয়ে বলেন, আমি অপারেশন করি নি, শুধু ওয়াশ করেছি। এ সময় তিনি মিডিয়া কর্মীদেরকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মাসুম ডাক্তারের মা, বোন, স্ত্রীসহ আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে ঝাটা ও লাঠি নিয়ে মিডিয়া কর্মীদের তাড়ার করার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয়রা বাধা দিলে তারা সরে যায়।

পরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, মাসুম ডাক্তার দীর্ঘদিন ধরে এভাবে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে তার শাস্তি হয় না। মামলার অভিযোগের তদন্তকারী অফিসার এস আই আরিফুল ইসলাম জানান, ঘটনার সত্যতা আছে। মাসুম ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার জন্য রোগী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাসুম ডাক্তার কে না পাওযায় পুরো তদন্ত এখনো শেষ হয় নি। আমাদের উপস্থিতি পেয়ে পালিয়ে গিয়েছিল।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাহমুদুল হাসান বলেন, আমার জানা মতে তিনি একজন হোমিও ডাক্তার। তিনি এক সঙ্গে মিশ্র চিকিৎসা (হোমিও, এ্যালোপাথিক, কবিরাজী ও হারবাল) করতে পারেন না এবং অপারেশন করতে পারেন না। কিছুদিন আগে ঘটনাস্থলে গিয়ে এধরনের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছিলাম। আবার জানলাম, দ্রুত প্রশাসনিকভাবে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ