“ভূতের তাবিজ”

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৭, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

তাপস চক্রবর্ত্তী


(আগের সংখ্যার পর)
তমালিকা বলছে ওরে বাপরে। কী প্রকাণ্ড বিভৎস আকারের ভূত। এ ভূত দেখছি ঐ নেতা ভূতের থেকেও বেশ ভয়ানক। আমাদের দিকে কিভাবে এগিয়ে বাসছে। আমি তো ভয়ে অস্থির। মামী আমি জড়িয়ে ধরে ফেলি। আর চোখ দুটি চুপ চুপ বন্ধ করে রাখি। মামী বলছেন কিরে তমালিকা, ভয় পেয়ে গেছিস নাকি? আরে এটা তো সত্যি সত্যি ভূত নয়। এ ভূতের অভিনয় করছে। এই দেখ একে যদি আমি বা তপু মিলে ডাকি তাহলে সে আমাদের কাছে এসে কিছুই করতে পারবে না। তপু ঐ ভূতকে ডাকবে! তমালিকা বলছে আচ্ছা তপু যদি ঐ ভূতকে ডাকে তাহলে ঐ নেতা ভূত তো এখানে চলে আসবে। তখন কি হবে? ওরে বাবারে, আমি মামীকে বলি মামী, তুমি বা তপু যদি ঐ ভূতটাকে আমাদের কাছে ডাক তাহলে কিন্তু আমি সোজা বাড়ি চলে যাব। আর এক মিনিটও থাকবো না বুঝেছো? মামা বলছেন আচ্ছা মেয়েটা ভয় পাচ্ছে। তাকে একটু অন্য দিকে ঘুড়িয়ে নিয়ে আসো তো। আমরা কিছুক্ষণ নাটকটা দেখি। কি মজা পাচ্ছি ! মামী বলছেন আচ্ছা তমালিকা আমরা ঐ ভূতটাকে কখনই ডাকবো না। তুমি চুপ করে বসে থাক। কিছুক্ষণ পর নাটক শেষ হলো। সবাই নাটক দেখে বাড়ি ফিরে আসলাম। এবার হাত-মুখ ধুয়ে খেয়ে তাড়াতাড়ি শুতে গেলাম। দিদিমণি আমার মাথা টিপে দিচ্ছেন। কারণ আমার মাথাটা ভীষণ ব্যথা করছে। আমি সহ্য করতে পারছি না। এভাবে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি তা বলতে পারি না। পরের দিন সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় বসে আছি। মামা অনেক মাছ ধরে নিয়ে আসলো। কারণ গত রাতে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। তাই জালে অনেক মাছ ধরা পড়েছে। মাছগুলো আমি ও মামী দুজনে মিলে কুটতে বসেছি। মামী বলছে তুই কলেজে উঠলে একটা সুন্দর ছেলে দেখে তোর বিয়েটা দিয়ে দেব। তাহলে তোর মায়ের একটু চিন্তা দূর হবে। তুই তো জানিস তোদের কত কষ্ট। তমালিকা বলছে মামী, আমি কিন্তু চলে যাব। এই বিয়ে টিয়ে না মোটেও আমাকে ভাল লাগে না। আর কোন দিন আমাকে বিয়ের কথা বলবেন না। আমি কোন দিন বিয়ে করব না। আরে শোন পাগলি যে বলে না আমি কোন দিন বিয়ে করব না। দেখেছি সেই কত আগে বিয়ে করে সংসার করছে। তমালিকা লজ্জা পেয়ে তার মামীর কাছ থেকে একটু আড়ালে গেল। বাড়ির পুকুরে তপু বরশি দিয়ে মাছ মারছে। তপু বলছে , দিদি এদিকে এস মাছ ধরি। তমালিকা বলল , না ভাই আমি এখন মাছ ধরব না। আমি এখন রেডিওতে গান শুনব। তারপর আমি বাড়িতে এসে ঘরের মধ্যে বসে রেডিও চালু করি। রেডিও চালু করেই দেখি ভূতের গল্প হচ্ছে। আমি ভয় পেয়ে গেলাম। অতি দ্রুত রেডিও বন্ধ করে শুয়ে পড়লাম। কখনও যে ঘুমিয়ে পড়েছি জানি না। মামী আমার গায়ে হাত দিয়ে ডাকছেন, এই তমালিকা, দুপুর বেলা শুয়ে আছিস ক্যান? যা গা ধুয়ে আয় ভাত খেতে দেই। তোর মামা খেতে বসবে। আমি তাড়াতাড়ি গা ধুয়ে এসে ভাত খেতে বসলাম। তপু , দিদিমণি ,সবাই মিলে মাছ ভাত খেলাম। মাছ আমাকে খুব ভাল লাগে। তাই পেট ভরে ভাত খেলাম। দিদিমণি ঘরে ঘুমানোর জন্য আমাকে ডাকছে। আমি ও দিদিমণি গল্পে গল্পে ঘুমিয়ে গেলাম। ঘুম থেকে উঠে দেখি বিকেল হয়ে গেছে। তাই মুখ ধুয়ে বাড়ির বাইরে খুলিবাড়িতে গেলাম। দেখি তপু একা একা বল খেলছে। আমারও খুব খেলতে ইচ্ছে করছে। তপু আমাকে খেলতে ডাকছে। আমি ওর কাছে খেলতে গেলাম। খেলতে খেলতে দেখি ঐ পাড়ার গুণিক্কর রমানাথ মামা আমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে যে রাস্তা গেছে সেই রাস্তা ধরে আমাদের দিকে আসছে। কারণ আমাদের বাড়ি পার হয়ে ঐ পাড়ায় তার নিজের বাড়িতে যাবে। এমন সময় তপু বলল দিদি ঐ দেখ গুণিক্কর মামা আসছে। তোকে না ঝাঁড়ফোঁক করবে। কারণ তোকে যে ভূতে ধরে তাই তোকে একটু ঝাঁড়ফোঁক করবে। তাহলে তুই পুরোপুরি ভাল হয়ে যাবি। একথা বলতেই তমালিকা বলছে দেখ তপু ভাল হচ্ছে না কিন্তু। তুই চুপ করবি? না হলে তোকে লাঠি দিয়ে পেটাবো। একথা বলতে বলতে সত্যি সত্যি তমালিকা যেন কেমন হয়ে গেল। পাগলির মত আচরণ করতে লাগল। সে উগ্র আচরণ করতে লাগল। আমি আরো বেশি বেশি করে তাকে ভয় দেখাতে শুরু করলাম। আর বলছিলাম তোকে না ভূতে ধরেছে। তাই গুণিক্কর মামা আজ আমাদের বাড়িতে এসে তোকে তাবিজ দেবে ও ঝাঁড়ফোঁক করবে। আমি তার কাছে যেতে পারছি না। তমালিকা দিদি পুরোটাই পাগলি হয়ে গেল। আমি দিদিকে বলছি দিদি, তোর ঘাড়ে যে ভূত চেপেছে সেই ভূতকে নামানোর জন্য গুণিক্কর মামা আজ ভূত ঝাড়ান দেবে। তোর গা থেকে ঐ ভূতকে নাচাবে । তারপর ঐ ভূতের বাপের শ্রাদ্ধ করা হবে। এরপর ঐ ভূতকে ধূলিস্যাৎ করে দেবে। আমরা খুব মজা করব। আর তাহলে তুই ভাল হয়ে যাবি। এ কথা বলতেই দিদি আমার সাথে পাগলামি শুরু করে দিল। তাকে এক মস্ত বড় ভূত ধরেছে। একথা বলতে সে বিভৎস রূপ ধারণ করে ফেলল। তাকে দেখে আমার খুব ভয় করছে। সে তাকে এক মস্ত বড় ভূত ধরেছে। একথা বলতে সে বিভৎস রূপ ধারণ করে ফেলল। তাকে দেখে আমার খুব ভয় করছে। সে হাতে যা পাচ্ছে তা দিয়ে আমাকে মারতে চাচ্ছে। আমিও ভয়ে দৌড়ে পালাতে লাগলাম। এদিকে গুণিক্কর মামা আমাদের বাড়ির পাশ রাস্তা দিয়ে ঐ গ্রামে চলে গেল। তমালিকা দিদির এ রকম অবস্থা দেখে আমি একটু ভয় পেয়ে গেলাম। কারণ বাড়ির লোকজন যদি আমাকে বকা দেয়। কেন তুই ওকে ভয় দেখিয়েছিস্। তাই আমি একটু ভয় পেলাম। একটু পড়ে দেখি বড় মামা বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন। তিনি বের হয়ে আমার দিদির এ রকম অবস্থা দেখে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন তপু , তমালিকার এরকম অবস্থা হলো কেন ? আমি বললাম মামা, এ রাস্তা দিয়ে ঐ পাড়ার রমানাথ মামা যাচ্ছিলেন, আর আমি দিদিকে বললাম যে দিদি, তোকে তো ভূতে ধরেছে , তাই ঐ দেখ গুণিক্কর রমানাথ মামা এসে তোকে ঝাঁড়ফোঁক করবে এবং তোর গায়ে যে ভূত চেপেছে সেই ভূতকে তাড়াবে। এরপর তুই ভাল হয়ে যাবি। এ কথা বলতেই দিদি কেন এ রকম হয়ে গেল তা আমি বলতে পারছি না । মামা বললেন ঠিক আছে তুই ঐ রমানাথ মামার বাড়িতে যা। তাঁকে গিয়ে সবকিছু খুলে বল। এ রকম তো আগেও হতো। মেয়েটার যে কি হলো ? আর শোন যদি তাবিজ বা অন্যকিছু দেয় তাহলে বেশ সাবধানে নিয়ে আসবি কেমন। তাড়াতাড়ি যা। আমি একটু সাহসী ছিলাম। তাই বাড়ির একটা সাইকেল নিলাম। সেই সাইকেলে চড়ে রওনা দিলাম। সাইকেলে চড়ে যেতে যেতে ভাবছিলাম। আচ্ছা এ রকম অবস্থায় যদি কেউ গুণিক্করের বাড়িতে তাবিজ আনতে যায় তাহলে নাকি ভূতেরা তাকেও আক্রমণ করে এবং তার বিপদ ঘটায়। তাই আমাকে একটু ভয় লাগছিল। আবার অনেকে বলে যদি লোহা বা আগুন সাথে থাকে তাহলে নাকি সেই ভূতেরা কাছে আসতে পারে না। আমি ভাবলাম আমার কাছে আগুন নেই কিন্তু সাইকেল আছে। আর সাইকেল তো লোহা দিয়ে তৈরি তাহলে আর ভয় কিসের ? এখন আমার কোন ভয় নেই , কোন চিন্তাও নেই। কথায় আছে না, “ নো চিন্তা ডু স্ফূতি।” তাই আমি মনের আনন্দে খুব জোড়ে বনবন করে সাইকেল চালিয়ে গুণিক্করের বাড়িতে চলে গেলাম। বাড়িতে গিয়ে দেখি গুণিক্কর মামা কেবল বাড়িতে এসে হাত-পা ধুয়ে বারান্দায় গা মুচছেন। আমি বললাম মামা, কেমন আছেন ? গুণিক্কর মামা বললেন, “ কে রে তপু। কেমন আছো? আমি বললাম মামা আমি ভাল আছি। তবে বাড়িতে একটু সমস্যা হয়েছে। গুণিক্কর মামা বললেন, কি সমস্যা হয়েছে? আমার তমালিকা দিদিকে মাঝে মাঝে ভূতে ধরে আপনি তো জানেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ, জানি। আজ আপনি যখন আমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে আসছেন তখন আমি আমার দিদিকে বলি যে, দিদি ঐ দেখ গুণিক্কর মামা আসছেন তোকে যে ভূতে ধরেছে এজন্য ঝাঁড়ফোঁক করবে, তোর ভূত তাড়াবে তাহলে তুই ভাল হয়ে যাবি । এ কথা বলতেই দিদি যেন পাগলির মতো হয়ে গেল । আর অমনি ঐ ভূতটা ওর ঘাড়ে চেপে বসলো। আর সে আমাকে লাঠি দিয়ে পেটানোর ভয় দেখাচ্ছে। আমি তো দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করলাম। শেষে মামা আমাকে আপনার কাছে পাঠালেন তাবিজ নেয়ার জন্য। গুণিক্কর মামা বললেন ও আচ্ছা, ঠিক আছে দেখছি। এ কথা বলে গুণিক্কর মামা ঘরের ভেতরে ঢুকে কিছুক্ষণ পর বের হয়ে এসে আমাকে একটা তাবিজ ধরিয়ে দিলেন। আর বললেন এটা ওর হাতে বা গলায় পড়িয়ে দেবে কেমন। তাহলে ও ভাল হয়ে যাবে। তিনি আরও বললেন যে, শনিবার ও মঙ্গলবারে তমালিকা যেন পুকুর ঘাটে গিয়ে পুকুরে ডুব দিয়ে নিশ্বাস বন্ধ একটা পাকা কলা খায়। তাহলে আর কোন দিন ওকে ভূতে ধরবে না এ রকম সমস্যাও হবে না। এ কথা শুনে আমি তাবিজ নিয়ে বাড়িতে রওনা দিলাম। বাড়িতে ফিরে এসে দেখি তমালিকা দিদি বাড়ির বাইরে বসেই আছে। হাতে দেখি একটা চিকন লাঠি। আমি ওকে দূরে থেকে ঐ তাবিজটা দেখালাম। আর বললাম যে, দেখ এই তাবিজটা যদি তোর গলায় বা হাতে পড়ায়ে দেওয়া যায় তাহলে তোর ঐ ভূত গা থেকে নেমে যাবে। এটা ভূত তাড়ানোর তাবিজ ঐ গুণিক্কর মামা আমাকে দিয়েছেন। একথা বলতেই দিদি আমাকে বলল যে, দেখ তপু ঐ তাবিজটা যদি আমার কাছে নিয়ে আসিস তাহলে তোকে আমি মেরে ফেলবো। তুই ঐ পুকুরটা দখেছিস না ? তার থেকে তুই তাবিজটা ঐ পুকুরে ফেলে দে। আমি বললাম, না। এটা কত কষ্ট করে এনেছি আর তুই কিনা আমাকে সেটা পুকুরে ফেলে দিতে বলছিস? আমি তা পুকুরে ফেলে দিব না। এ তাবিজটা তোকে পড়াবো বুঝলি? তাবিজ নাকি জলের মধ্যে ফেলে দিলে ঐ তাবিজের গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। তার জন্যই দিদি গায়ে চাপা ঐ ভূতটা আমাকে এই তাবিজটা পুকুরে ফেলে দিতে বলছে। এরপর দিদি আমাকে তার কাছে আসতে দিচ্ছে না বরং বাড়িতে পযন্ত ঢুকতে দিচ্ছে না। এদিকে দেখি পাড়ার সবাই দিদিকে যে ভূতে ধরেছে তা দেখার জন্য ছুটে এসেছে। এসে সবাই মিলে দিদির হাত পা ধরে তাকে বাড়িতে নিয়ে গেল। এলাকার লোকজন আমাদের বাড়িতে এসেছে ভূত তাড়ানো দেখবে বলে। অনেকে অনেক চেষ্টা করল। অনেকে ঝাঁড়ফোঁক করল। কিছুতেই কিছু হলো না। ভূত তাড়ানো গেল না। সে মাটিতে গড়াগড়ি দিতে শুরু করল। তাকে সামলানো যাচ্ছে না। সে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে গেল। গা, হাত, পা যেন ধুলো বালিতে শেষ হয়ে গেছে। আর দিদির গায়ে যেন প্রচণ্ড শক্তি কাজ করছে। আর কি যেন উল্টাপাল্টা বকছে। কেউ তাকে সামলাতেই পারছে না। এমন সময় আমি সেই তাবিজটা মামার হাতে দেই। মামা সেই তাবিজটা আমার এক দাদাকে দিলেন এবং বললেন এই তাবিজটা তমালিকাকে পড়িয়ে দাও। দাদা যখন দিদিকে তাবিজটা নিয়ে পড়াতে যাচ্ছে তখন দিদির শরীরে থাকা ঐ ভূতটা চিৎকার করে বলছে, “যাচ্ছিরে যাচ্ছি, যাচ্ছি। আমি চলে যাচ্ছি। ভূতের তাবিজে ভূত তাড়ানো দেখে আমরা সবাই অবাক হয়ে গেলাম। দাদা, দিদির হাতে জোড় করে ভূতের তাবিজটা বেঁধে দিল। দিদির গায়ের শক্তি আস্তে আস্তে কমে গেল। এক সময় দিদি শান্ত হয়ে গেল। মাটিতে দিদি নিশ্চুপ হয়ে শুয়ে পড়ে গেল। কোনরূপ নড়াচড়া নেই। সবাই অবাক, কি হলো ? তমালিকা যে একেবারেই নড়াচড়া বন্ধ করে দিল, কিন্তু কেন ? সবাই একটু ভয় পেয়ে গেল। তমালিকার আবার কি হলো? মামা দৌড়ে গিয়ে তমালিকা দিদিকে বলছেন, তমালিকা তমালিকা, মা তোর কি হলো ? একটু কথা বল্ মা। তুই কি ঠিক আছিস্ ? কিছুক্ষণ পর তমালিকা দিদির জ্ঞান ফিরে এলো। সে আস্তে আস্তে উঠে মাটিতে বসল। গায়ের ধুলা বালিগুলো সে নিজেই ঝাঁড়তে লাগলো। আর বলতে লাগলো, “আমার কি হয়েছে ? আমার গায়ে এতো ধুলা বালি কেন ? মামা বলছেন , তোর কিছু হয়নি মা। তুই উঠে বস্। ঘরের ভেতর যা। তমালিকা দিদিকে ঘরের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হলো। পরের শনিবার ও মঙ্গলবার দিদিকে পুকুর ঘাটে নিয়ে গিয়ে একটি পাকা কলা হাতে দেয়া হলো এবং দিদি পুকুরে ডুব দিয়ে নিঃশ্বাস বন্ধ করে পাকা কলাটি খেয়ে ফেলল। তারপর দিদিকে বাড়িতে নিয়ে আসা হলো। এরপর থেকে দিদির আর কোন সমস্যা হয় নি, কোন ভূতও ধরেনি। দিদি এখন বেশ ভালো আছে । বিয়ে সাদি হয়ে গেছে। তাঁর এখন দুটি মেয়ে ও একটি ছেলে সন্তান আছে। সে এখন ছেলে, মেয়ে ও স্বামীকে নিয়ে সুন্দর সংসার করছে। আমি দিদিকে অনেক কষ্ট দিয়েছি। দিদি আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমি তোমাকে আর কখনও ভূতের ভয় দেখাবো না। তুমি ভালো থেকো । ( শেষ)