ভোলাহাটে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ কটুক্তি করার দায়ে শিক্ষক কারাগারে

আপডেট: মার্চ ৮, ২০২৪, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে জামবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের আরবি বিভাগের প্রভাষক তোফিকুল ইসলাম কর্তৃক বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ ই মার্চ এর ভাষন বন্দ ও কটুক্তির দায়ে ভোলাহাট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন উক্ত কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাহাবউদ্দীন। এ ঘটনায় ভোলাহাট থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আজ শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ দেশজুড়ে নানান আয়োজনে পালিত হয়েছে এরই ধারাবাহিকতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার জামবাড়িয়া ডিগ্রী কলেজে দিবসটি উদযাপনের উদ্যোগ নেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার সকালে জামবাড়িয়া ডিগ্রী কলেজে মাইকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ চলছিল। এসময় আরবি বিভাগের প্রভাসক তৌফিকুর রহমান বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে নানান কটুক্তি করে মাইকটি বন্ধ করে দেন। পরে অন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কলেজে একসাথে জড়ো হয়ে তাঁর বিচারের দাবিতে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ তাকে আটক করে ভোলাহাট থানায় নিয়ে যায়।

ভোলাহাট উপজেলা চেয়ারম্যান রাব্বুল হোসেন জানান, ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ অনুষ্ঠান চলাকালে প্রভাসক মো. তৌফিকুল ইসলাম এসে হঠাৎ করেই ভাষণটি বন্ধ করে দেন। পরে তিনি জোরে জোরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে নানাধরণের কটুক্তি করেন। এক পর্যায়ে বলেন, মরা মানুষের ভাষণ শুনে কি হবে? সে তো কবরে আছে। বরং আমার ভাষণ শোন তোমাদের কাজে দিবে।

কলেজ পরিচালনা কমেটির সভাপতি রুহুল আমিন আইরন বলেন, একজন রাষ্ট্রদ্রোহী হলেই এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটাতে পারে। প্রভাষক তৌফিক এর আগেও জাতির পিতা সম্পর্কে কটুক্তি করে রেহায় পাওয়ার কারণে আবারও এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। ভোলাহাট জামবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাহাবউদ্দীন আজ শুক্রবার সকল কলেজের শিক্ষক ও পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাকে সাময়িক বহিষ্কার এর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ভোলাহাট উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ বলেন, স্বাধীন দেশে দাম্ভিকতা দেখিয়ে কেবল মাত্র স্বাধীনতা বিরোধিতাকারী গন এসব ঘটনার জন্ম দেয়।

ধিক্ষার এসব স্বাধীনতা বিরোধের তারা জানেনা হাজার মানুষের আত্মাহুতি ফলাফল আজকের বাংলাদেশ। পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষন। পৃথিবীতে এমন কোন নেতা নেয় যিনি সরাসরি লক্ষ্য লক্ষ নিরস্ত্র মানুষের উপস্থিতিতে শক্তিশালী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা। শুধু বাংলাদেশ নয় সারা পৃথিবীর মুক্তিকামী মানুষ বঙ্গবন্ধুর এ ভাষন কে স্বীকৃতি দিয়েছে। অথচ একজন কুলাংগারম এ ভাষণ অবজ্ঞা করে দাম্ভিকতার সুরে বলেছেন মৃত মানুষের ভাষন শুনে কি হবে,আমার ভাষন শুন কাজে লাগবে। এ শিক্ষক এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যেন এ ধরনের ঘটনার জন্ম না হয়।
ভোলাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ জানান প্রভাষক তৌফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দণ্ড বিধি আইনের ৪৪৭,৩২৩,৪২৭,৫০০,৫০৬ ধারায় মামলা করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।