ভোলাহাটে ভেঙে যাওয়া ব্রীজ ৩ বছরে মেরামত হয়নি

আপডেট: জুলাই ১৯, ২০২০, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

ভোলাহাট প্রতিনিধি


ভোলাহাটে ভেঙে যাওয়া ব্রীজের কারণে মানুষের দুর্ভোগ সোনার দেশ

১২ জুলাই ২০১৭। প্রবল বর্ষণের তোড়ে সম্পন্ন ভেঙে পড়ায় জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রীজের উপর দিয়ে বন্ধ হয়েছে হাজার হাজার মানুষের চলাচল। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা, এমপি ও স্থানীয় প্রশাসনসহ ভেঙে যাওয়া ব্রীজটি দ্রুত নির্মাণ করে দেয়ার কার না প্রতিশ্রƒতি ছিলো । কিন্তু ৩ বছর হয়ে গেলেও কেউ কথা রাখেনি। ব্রীজটি নির্মাণের মুখ দেখেনি এখনো। বলা যায় ভোলাহাট উপজেলার সকল মানুষ চলাচল করেন এ ব্রীজের উপর দিয়ে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার মেডিকেলমোড় হতে বজরাটেক মহানন্দা নদী যাওয়া রাস্তা মুন্সিগঞ্জহাটের উপর ভেঙে পড়ে থাকা এ ব্রীজ। অল্পদিনে তৈরি করা ব্রীজ ভেঙে পড়ায় দুদকের মুখোমুখি অনুষ্ঠানে স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেও কোন লাভ হয়নি।
এদিকে উপজেলায় কোন বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় ভোলাহাটের মানুষ এ রাস্তা দিয়ে মহানন্দা নদীর তীরে গিয়ে বিনোদনের আশ্রয় নিয়ে থাকেন। ইদ কিংবা বিশেষ দিনগুলোতে নারী পুরুষসহ মানুষের উপচেপড়া ভীড় লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু রাস্তার উপর ৩ বছর ধরে ব্রীজটি ভেঙে থাকার কারণে মানুষের বিনোদনের এ সুযোগটিও এখন আর নেই। প্রবল বর্ষণে ব্রীজটি সম্পন্ন ভেঙে গেছে। এবার ঐতিহ্যবহন করা অনেক পুরাতন মুন্সিগঞ্জহাটটিও বিলিন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন বিভিন্ন প্রকার যানবাহন চলাচল করে অনেকেই জীবন জীবিকা চালাতেন। কিন্তু এখন তাও বন্ধ হয়ে গেছে। অপরিচিতরা রাতের আঁধারে রাস্তা চলতে গিয়ে মোটরসাইকেল ও বেশ কিছু যানবাহনসহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ব্রীজের খাদে পড়ে । জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তার উপর ভেঙে থাকা ব্রীজটি সরজমিন দেখতে গিয়ে সাবেক এমপি গোলাম মোস্তফা বিশ^াস দ্রুত র্নিমাণের প্রতিশ্রƒতি দেন। বর্তমান এমপি আমিনুল ইসলাম, উপজেলা চেয়ারম্যান রাব্বুল হোসেন, গোহালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের এমন কি দুদক থেকে আসা ভোলাহাটে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও ব্রীজটি নির্মাণে গুরুত্ব দেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
এদিকে ভূতের রাস্তায় যেখানে মানুষের যাতায়াত নাই সেসব স্থানে কোটি কোটি টাকার ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে। চলছে দপ্তর নিয়ে টানাটানি। একবার প্রকল্প বাস্তবায়ন অধিদপ্তর ও এলজিইডি দপ্তরের মধ্যে। টানাটানির কারণে ব্রীজের র্নিমাণে চলছে দীর্ঘসূত্রিতা। ব্রীজটি নির্মাণে ২ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বরাবর আবেদনপত্র পাঠিয়েছেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহনাজ খাতুন বলে তিনি জানান। তবে এলাকাবাসির দাবী উপজেলার বিশাল জনগোষ্ঠিকে এ মরণ ফাঁদ থেকে মুক্তি দিতে দ্রুত ব্রীজটি নির্মাণ করার। এলাকাবাসি আর প্রতিশ্রƒতিতে বিশ^াস করেন না বাস্তবায়ন চান। তারা সরকারের নাগরিক হিসেবে নাগরিক সুবিধা দিতে সরকারের উর্ধতণ কর্তৃপক্ষের কাছে জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রীজটি নির্মাণে জোরালো দাবী করেছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ