ভোলাহাটে রাস্তায় বাজার বসানোর অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

আপডেট: নভেম্বর ২৩, ২০১৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

ভোলাহাট প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে প্রায় ১যুগ আগে প্রতিষ্ঠিত একটি বাজারকে সরিয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি জায়গায় বাজার বসালেন ইউপি চেয়ারম্যান বলে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগে জানা গেছে, ভোলাহাট উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন পশ্চিমে ‘ভোলাহাট বাসষ্ট্যান্ড কাঁচা বাজার’। এ বাজারটি প্রায় একযুগ আগে ইউএনও আবুল কালাম আজাদ বাজারটি নিয়মানুযায়ী স্থানীয় সকলের সাথে আলোচনার মাধ্যমে ঐ বাজারটি বসিয়েছিলেন অদ্যাবধি চলে আসছিলো। কিন্তু গত ১৯ নভেম্বর ভোলাহাট সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াজদানী জর্জ বাজার কমিটির সদস্য ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিনা নোটিশ বা কাউকে অবহিত না করে বাজারটিকে জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি রাস্তায় স্থানান্তর করে দু’টি জায়গায় বাজার বসান। এতে করে ক্রেতা সাধারণ বিভিন্ন ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন এবং সেই সাথে স্থানীয় জনসাধারণ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। বাজারটি আগের স্থানে স্থানান্তর না করা হলে যেকোন মুহূর্তে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যানের একক সিদ্ধান্তে বাজারের বর্তমান জায়গাটি স্থানীয় স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের চলাচলসহ উপজেলা খাদ্য গোডাউনে মালামাল আদান-প্রদানের জন্য যান চলাচল করায় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়াও জনগুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটি নেকজান বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, ভোলাহাট মহিলা ডিগ্রি কলেজ, রামেশ্বর পাইলট মডেল ইনষ্টিটিউশন, তেলীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের চলাচলের একমাত্র রাস্তা। এখানে বাজার বসা অব্যাহত থাকলে এখানে সারা দিনই লেগে থাকছে যানজট  ফলে বিপকে পড়ছে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে পিএসসি পরীক্ষার্থীদের পোহাতে হচ্ছে   ভোগান্তি। এ ব্যাপারে আগের বাজার কমিটির সদস্যরা সুরাহার জন্য লিখিত ভাবে বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করেছেন।
এ ব্যাপারে ভোলাহাট বাসষ্ট্যান্ড কাঁচা বাজার কমিটির সভাপতি আজিজুল ইসলাম বলেন, একযুগ ধরে ঐ বাজারটি কার্যক্রম চালিয়ে আসলেও ইউপি চেয়ারম্যান তার গায়ের জোরে বাজারটির স্থান পরিবর্তন করেছেন। এতে বাজার কমিটির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে এর সুরাহা কামনা করছি।
অপরদিকে এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াজদানী জর্জের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, জনগণের সার্বিক স্বার্থে ও আম চত্বর নামের স্থানটির সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য এবং উপজেলা পরিষদের আইনশৃঙ্খলা কমিটি ও ইউনিয়ন পরিষদের ম্যানুয়্যাল অনুযায়ী বাজারটির স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে  উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন ইয়াসমিন মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় তার কার্যালয়ে উভয় পক্ষকে লিখিত ভাবে কাগজ দেয়া ও সেই মোতাবেক সকলের সমন্বয়ে মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রভাষক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। তবে এ ব্যাপারে ইউএনও সাহেবকে বলেছি, যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।