ভোলাহাটে ৭ বছর ধরে আবদুর রউফের ঈদ হ”েছ চোখের পানি দিয়ে

আপডেট: জুন ২৯, ২০১৭, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

ভোলাহাট প্রতিনিধি


ভোলাহাটে দূর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে এভাবেই দীর্ঘ ৭ বছর ধরে শুয়ে কাটাচ্ছেন ভ্যান চালক আবদুুর রউফ-সোনার দেশ

শুধু চোখের পানি। ডুকরে কেঁদে কেঁদে বর্ণনা করলেন ঈদ উদ্যাপনের কথা ভোলাহাট উপজেলার বজরাটেক মুন্সিগঞ্জ গ্রামের ম”ত নেজামুদ্দিনের ছেলে আবদুুর রউফ(৫৫)। ৭ বছর আগে তিনি একজন ভ্যান চালক ছিলেন। পরিবারে স্ত্রী বিয়ে বয়সী এক মেয়ে এবং এক ছেলে নিয়ে ভ্যান চালিয়ে কোন রকম করে সংসার চালাতেন। হঠাৎ একদিন ভ্যান উল্টে দূর্ঘটনার শিকার হন আবদুর রউফ। জীবন যুদ্ধে পরাজিত হয়ে হাসপাতাল হাসপাতাল ছুটতে হয় চিকিৎসার জন্য। মেরুদণ্ড ভেঙ্গে পঙ্গু হয়ে পড়েন রউফ। টানাপড়েনের সংসারে আয় না থাকায় আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে চিকিৎসা খরচ কোন রকম চলতে থাকলেও ক’দিন যে না যেতেই মুখ ফিরে নেন আত্মিয়-স্বজনেরা। এক সময় অর্থাভাবে চিকিৎসাও বন্ধ হয়ে যায়। ওষুধ পর্যন্ত কিনে খেতে পারেন না তিনি। সরকারি সুযোগ সুবিধার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, গত বছর আমার নামে ¯’ানীয় ইউপি সদস্য একটি ভিজিডি কার্ড করলেও পরে তা বতিল করা হয়। ঈদ আসে যায় সরকার ভিজিএফ কার্ড দেয় বড়লোকদের নামে কার্ড হলেও আমার নামে কোন কার্ড হয় না। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হয় তাকে বলে কেঁদে ফেলেন রউফ। মেঝেতে শুয়ে দীর্ঘ ৭ বছর। মাজার নীচ দিকে কোন শক্তি নাই। উঠে বসার শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। প্রস্রাব, পায়খানা স্ত্রীর সাহায্য নিয়ে করতে হয়। বেঁচেও মরে গেছে যে কর্মক্ষম মানুষটি তার খোঁজ নিতে এলাকার কেউ আসে নি। এমন কোন ব্যক্তি নেই এ অসহয় ব্যক্তিটির পাশে দাঁড়িয়ে তার দায়িত্ব নেয়ার। এ অসহয় ব্যক্তিটির ঈদ হয়েছে চোখের পানির সাথে। তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও তাদের অসহয়ত্বের কথা জানাতে গিয়ে বলেন, তাদের জন্য প”থীবিতে কেউ নেই, ঈদ বলে কিছু আছে তা তারা ৭ বছর ধরে বুঝতে পারে না বলে ডুকরে কেঁদে কেঁদে বলেন, কেউ যদি চিকিৎসা খরচ নিয়ে কেউ যদি পাশে দাঁড়াতো তবে অন্তত মরেও বেঁচে থাকা মানুষটা কিছুটা হলেও শান্তি পেত। পরিবারটি সরকারি বেসরকারি সহায়তার দ”ষ্টি আর্কষণ করেছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ