ভ্যাকসিন ম্যাজিকের মতো কাজ করবে না, বলে দিল হু

আপডেট: আগস্ট ৪, ২০২০, ১:১৯ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


অক্সফোর্ডে তৈরি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ‘কোভিশিল্ড’-এর দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফার পরীক্ষা হবে ভারতে। মানবদেহে। সিরাম ইনস্টিটিউটকে ছাড়পত্র দিলেন ভারতের ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল। এ–ক্ষেত্রে যাবতীয় স্বাস্থ্য-সুরক্ষা বিধিও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, যা মেনে চলতে হবে। পূর্ণবয়স্ক ও স্বাস্থ্যবান স্বেচ্ছা–পরীক্ষার্থীদের শরীরে এই ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ চার সপ্তাহের ব্যবধানে প্রয়োগ করা হবে। নজর রাখা হবে তাঁদের স্বাস্থ্যের ওপর এবং তার পর তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার দিকে এগোনো হবে। এ ধরনের প্রতিষেধক পরীক্ষা–বিষয়ক যে বিশেষজ্ঞ কমিটি আছে ভারতে, তার পর্যবেক্ষণমূলক সুপারিশের ভিত্তিতেই ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল ডা. ভিজি সোমানি রোববার রাতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঠিক হয়েছে, ভারত জুড়ে এই পরীক্ষা হবে। ১৮ বছরের বেশি বয়সি মোট ১৬০০ স্বেচ্ছা–পরীক্ষার্থীকে বেছে নেওয়া হবে দেশের ১৭টি জায়গায়। এই তালিকায় আছে এইম্স দিল্লি, বিজে মেডিক্যাল কলেজ পুনে, পাটনার রাজেন্দ্র মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউট, পিজিআই চ-ীগড়, এইম্স যোধপুর, গোরখপুরের নেহরু হসপিটাল, বিশাখাপত্তনমের অন্ধ্র মেডিক্যাল কলেজ ও মহীশূরের জেএসএস অ্যাকাডেমি। সরকারি সূত্রে এদিন আরও জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় দফার যে-পরীক্ষা হবে, তার তথ্য-পরিসংখ্যান খতিয়ে দেখবে একটি তথ্য সুরক্ষা পর্ষদ। এই মুহূর্তে অক্সফোর্ডের তৈরি ‘কোভিশিল্ড’-এর দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফার পরীক্ষা চলছে ব্রিটেনে, ব্রাজিলে কোভিড-আক্রান্তদের ওপর তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে এবং প্রথম ও দ্বিতীয় দফার পরীক্ষা চলছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। সোমবার ওষুধ কোম্পানি ‘ওকহার্ডট’ জানিয়েছে, কোভিডের টিকা তৈরির জন্য ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে তাদের চুক্তি হয়েছে। সবুজ–সঙ্কেত পেলেই ওয়েলসে তাদের কারখানায় এই টিকা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’ এদিন এক বিবৃতিতে কার্যত সতর্ক করে দিয়েছে, কোভিড টিকার সম্ভাবনা ক্রমশই উজ্জ্বল হয়ে উঠলেও, তা নিয়ে খুব বেশি উৎসাহিত হওয়ার কিছু নেই। এই ওষুধ কোনও ‘সিলভার বুলেট’ হবে না, যা কোভিড দূর করতে ম্যাজিকের মতো কাজ করবে। বরং স্বাভাবিকতায় ফেরার রাস্তা এখনও বেশ দীর্ঘ। কাজেই বিশ্বের সব দেশে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছেন ‘হু’–প্রধান ডা. টেড্রস আঢানম ঘেব্রেইসুস এবং সংস্থার জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিষেবা প্রধান মাইক রায়ান। এক ভিডিও-বার্তায় সব দেশে সমস্ত সরকারের উদ্দেশে তাঁদের হুঁশিয়ারি, সব সাবধানতা মেনে চলুন। কিচ্ছু বাদ দেওয়া যাবে না। ডা. ঘেব্রেইসুস সরাসরি বলেছেন, একাধিক ভ্যাকসিন পরীক্ষার তৃতীয়, অর্থাৎ চূড়ান্ত স্তরে রয়েছে এবং খুব তাড়াতাড়ি ভ্যাকসিন এসেও যাবে। কিন্তু সেগুলোর একটাও ম্যাজিক দাওয়াই হবে না। কোনও ভ্যাকসিনই ‘সিলভার বুলেট’ হবে না, যা কোভিড–সঙ্কট থেকে চিরতরে মুক্তি দেবে। সে-রকম কিছু ঘটার সম্ভাবনা অদূর ভবিষ্যতেও নেই।
তথ্যসূত্র: আজকাল