ভ্যাট বদলাচ্ছে না আগামী দুই বছর

আপডেট: জুন ২৯, ২০১৭, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ব্যাপক সমালোচনার মুখে ভ্যাট আইনের কার্যকারিতা আরও দুই বছরের জন্য স্থগিত করছে সরকার।
বুধবার সংসদে বাজেট আলোচনায় সরকার প্রধান শেখ হাসিনা বলেন, এটা নিয়ে যেহেতু নানা ধরনের কথা হচ্ছে, এটা আগের মতোই থাকবে।
আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকরের পক্ষে অনড় ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
সব পণ্য বিক্রির উপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ধরেই ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট গত ১ জুন সংসদে প্রস্তাব করেছিলেন তিনি।
কিন্তু বাজেট প্রস্তাবের পর থেকে ভ্যাট আইন নিয়ে সমালোচনায় পড়তে হয় মুহিতকে। ব্যবসায়ীদের আপত্তি এবং জনসাধারণের উদ্বেগের মধ্যে সরকারের শেষ সময়ে এসে ভ্যাট আইন কার্যকরের বিরোধিতা আসে সরকারি দলের নেতা এমনকি মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্য থেকেও।
পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের দুই বছর আগে এই ভ্যাট আইন কার্যকর না করতে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যরা আহ্বান জানান।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বাজেট আলোচনায় সরকার প্রধান শেখ হাসিনা বলেন, “ব্যবসায়ীরা তাতে সাড়া দিচ্ছেন না। সেভাবেই করে দেবেন, আগামী দুই বছরের জন্য। বর্তমান পদ্ধতিতেই ভ্যাট আদায় বজায় রাখবেন।”
এরপর অর্থমন্ত্রী সংসদে বলেন, “আমি মূসক আইনের পূর্ণ কার্যকারিতা পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করছি। আগের ধারাবাহিকতায় কিছু সংশোধন করে ২০১২ সালের আইনই যেভাবে গত চার বছর ধরে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হচ্ছে ঠিক তেমনিভাবে আমাদের বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”
ফলে ২০১২ সালে প্রণীত ভ্যাট আইনটি আওয়ামী লীগের বর্তমান সরকার আমলে আর কার্যকর হচ্ছে না।
বিশাল বাজেটের খরচ মেটাতে দুই লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা জনগণের কাছ থেকে কর ও শুল্ক হিসেবে আদায়ের পরিকল্পনা ছিল অর্থমন্ত্রীর। এর মধ্যে ৯১ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর থেকে আদায়ের লক্ষ্য ধরেছিলেন তিনি। ফলে এখন তার পরিকল্পনা দৃশ্যত বাধাগ্রস্ত হল।
বক্তৃতায় শেখ হাসিনা ভ্যাট আইন প্রণয়নের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, “মূসক আইনটি ১৯৯১ সালে করা, ২০০৮ সালে সংশোধনের জন্য খসড়া তৈরি হয়।
“সবার সঙ্গে মতবিনিময় করেই আইনটি আমরা করে দিই ২০১২ সালে। এখন সবাই ভুলেই গেছে যে আইনটি আমরা পাস করে দিয়েছিলাম।”
এই ভ্যাট আইনটি কার্যকর করে ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট নেয়ার পরিকল্পনা ছিল সরকারের। কিন্তু তখন ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে তা এক বছর পিছিয়ে দিয়েছিল সরকার, এখন আরও দুই বছর পেছাল।
এখন ব্যবসায়ীরা বিক্রির অনুপাতে ভ্যাট দিচ্ছেন না, যা নতুন আইনে দিতে হবে। এখন তারা বাৎসরিক নির্দিষ্ট একটি অঙ্ক ভ্যাট হিসেবে দিচ্ছেন।
নতুন আইনে ভ্যাটের হিসাব বের করা ক্ষুদ্র বিক্রেতাদের জন্য দুষ্কর হবে বলে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো দাবি করে আসছিল।
অন্যদিকে ভোক্তা সংগঠন ক্যাব বলছিল, ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে গেলে বাজারে পণ্যমূল্য বাড়বে এবং তাতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ক্রেতারা।
‘উন্নয়নের জন্য কর চাই’
নির্বাচনের আগে ভ্যাট আইনটি কার্যকর করা স্থগিত করলেও উন্নয়নের জন্য কর দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট আমরা দিয়েছি।
“আমরা কারও কাছে ভিক্ষা চেয়ে চলতে চাই না, অনুদান নিয়ে চলতে চাই না। নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর মতো করে আমাদের বাজেট প্রণয়ন করে যাচ্ছি।”
এক সময় বাংলাদেশে বাজেট প্রণয়নে বিদেশি অনুদানের উপর নির্ভর করার বিষয়টি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা সেই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসেছি। এখন নিজের অর্থে বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা অর্জন করেছি।”
২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে সরকারের চেষ্টার কথা বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, “ভ্যাট-ট্যাক্স যাই দিচ্ছি, সব তো দেশের উন্নয়নের কাজেই লাগরে। তা যদি না দিই, তাহলে তো ভিক্ষা চাইতে হবে।”
কর দেয়ায় জনগণের সাড়ার দিকটি তুলে ধরার বিপরীতে বিদেশ থেকে পুরস্কার নিয়ে এসে কারও কারও কর কমানোর আবেদনের কথাও বলেন শেখ হাসিনা।
“আমাদের দেশের বেশ কিছু খ্যাতিমান মানুষ বিদেশ থেকে কিছু পুরস্কার পেয়েছে, এসে বলেন যে আমার ট্যাক্সটা কমিয়ে দেন।”
এক্ষেত্রে নিজের পাওয়া পুরস্কারের ক্ষেত্রে কখনও কর ফাঁকি না দেওয়ার কথা বলেন শেখ হাসিনা।
“আমি আবারও বলব কর দেওয়া, এখানে ফাঁকি দিতে গেলে নিজেরাই ফাঁকিতে পড়বেন,” অন্যদেরও সতর্ক করেন তিনি।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ