ভ্যানচালক কিশোরকে নির্যাতনের অভিযোগ

আপডেট: আগস্ট ৩১, ২০১৭, ১:২৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার আন্দুয়া গ্রামে ফজেল আলী (১৫) নামের এক যুবকের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ফজেল আলী পেশায় ভ্যানচালক। তার বাড়ি উপজেলার গৌরিহার গ্রামে। আন্দুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী আব্দুর রাজ্জাক গতকাল বুধবার দুপুরে হাতুড়ি ও বাঁশ দিয়ে পেটান ফজেলকে। তারপর ফজেল আলীকে দিনে দুপুরে উলঙ্গ করেও নির্যাতন চালানো হয় বলে জানা গেছে। ভাড়া মিটিয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যের বেশি রাস্তা যেতে না চাওয়ায় তার ওপর এই নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ ফজেলের বাবা আব্দুল হালিমের। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গিয়ে ফজেলকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করেন।
দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন কিশোর ভ্যানচালক ফজেল আলী জানান, উপজেলার আমগাছী বাজারে ভ্যান নিয়ে বসে ছিল। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আন্দুয়া গ্রামের মৃত নজু সাজীর ছেলে আব্দুর রাজ্জাক তার বাড়ি আন্দুয়া গ্রামে ৫ বস্তা সিমেন্ট নিয়ে যেতে ভাড়া মেটায়। এসময় ফজেল জানায় ওই রাস্তায় কাদা থাকায় সে ভ্যান নিয়ে বেশি দূরে যেতে পারবে না। এ সময় রাজ্জাক জানায় যতদুর ভ্যান যাবে ততদুর গেলেই হবে। দুপুর ১২টার দিকে সিমেন্ট বোঝাই ভ্যান নিয়ে আন্দুয়া গ্রামের ওই কাঁচা রাস্তায় গিয়ে বেশি দূর যেতে পারে নি ফজেল। কাদায় আটকে যায় ভ্যানের দুই চাকা। এ সময় সিমেন্টগুলো নামিয়ে দিতে চাইলে রাজ্জাক তার বাড়ি পর্যন্ত তাকে জোর করে যাওয়ার জন্য। তাতে ফজেল রাজি না হলে পাশেই পড়ে থাকা বাঁশ দিয়ে তাকে পেটানো শুরু করে রাজ্জাক। পাশের একটি বাড়িতে মিস্ত্রিরা কাজ করছিল। ওই মিস্ত্রিদের কাছে থাকা হাতুড়ি এনে হাতুড়ি দিয়েও তাকে পেটানো হয়। একপর্যায়ে ফজেলের পরনে থাকা লুঙ্গি খুলে ফেলে তাকে বিবস্ত্র করা হয়। এ সময় ফজেলের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গিয়ে ফজেলকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করে।
ফজেলের বাবা আব্দুল হালিম অভিযোগ করেন, তার ছেলে সংসারের ঘানি টানতে গিয়ে কিশোর বয়সে স্কুল বন্ধ করে ভ্যান চালায়। এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা দায়ের করবেন বলে জানান। এছাড়া অভিযুক্ত আন্দুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের  নৈশপ্রহরী আব্দুর রাজ্জাকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
এ ব্যাপারে আবদুর রাজ্জাক বলেন, ফজেলকে মারধরের ঘটনা ঠিক না। তার সঙ্গে সামান্য তর্কবিতর্ক হয়েছে মাত্র।
এ ব্যাপারে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আলম জানান, ঘটনাটি তার জানা নেই। এ ব্যাপারে থানায় কেউ অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ