ভ্যাপসা গরমে বাড়ছে শিশু রোগির সংখ্যা

আপডেট: জুন ৩০, ২০১৭, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রামেক হাসপাতালে বহিবিভাগের সামনে চিকিৎসার জন্য আক্রান্ত শিশুদের সঙ্গে অভিভাবকদের অপেক্ষা- সোনার দেশ

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভ্যাপসা গরমে বেড়েছে শিশুরোগির সংখ্যা। এসব রোগিদের বেশিরভাগই ডায়রিয়া ও সর্দি জ্বরে আক্রান্ত। এ অবস্থায় রোগ-বালাই এড়াতে শিশুদের যত্ন, পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।
রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর একটা পর্যন্ত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ২৯ জন শিশু রোগি ভর্তি হয়েছে। বুধবার ৭৭ জন ও মঙ্গলবার ৪৮ জন শিশু রোগি ভর্তি হয়।
অন্যদিকে বহির্বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মেডিসেন বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে ৩২০ জন শিশু রোগি। এদের মধ্যে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, সর্দি জ্বরে আক্রান্ত শিশু রোগির সংখ্যাই বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।
চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুর প্রাথমিক পরিচর্যা করেন তার মা। নিউমোনিয়া ও ডায়ারিয়া আক্রান্ত শিশুদের বেশি যত্ন নিতে হবে। শিশুরা সমস্যর কথা বলতে পারে না, তাই বিশেষ যত্নের প্রয়োজন মা ও শিশুর। ছয় মাসের কম বয়সি শিশুকে বেশি বেশি বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। ছয় মাসের বেশি হলে বুকের দুধের সঙ্গে অন্যান্য হালকা খাবার খাওয়াতে হবে।
সকালে হাসপাতালের বহির্বিভাগের শিশু বিভাগে সরেজমিন দেখা গেছে, বেশির ভাগ শিশু জ্বরে আক্রান্ত। শিশু চিকিৎসা নিতে আসা সাইমা খাতুন জানায়, গত চারদিন থেকে তার শিশু লাইজু (তিন মাস) জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, গত কয়েকদিন আগে গরম লাগার জন্য ডায়রিয়া হয়। ডায়রিয়া ভালো হলেও শরীরের জ্বর বা তাপমাত্রা কমছে না। চিকিৎসকরা বলছেন, বেশি করে পানি ও তরল খাবার খেতে।
হাসপাতালের শুধু বহির্বিভাগ নয়, ১০, ২৪, ২৬, ও ২৭ নম্বর শিশু ওয়ার্ডগুলোতে বেড়েছে শিশু ভর্তির সংখ্যা। ওয়ার্ডগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি বেডই রোগিতে ঠাসা। অনেক ওয়ার্ডে বেড না পেয়ে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে শিশুরা।
হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া নগরীর ডাশমারী এলাকার রায়হানের স্ত্রী আশা খাতুন জানান, তার তিন মাসের মেয়ে অহনা। ডাক্তার বলেছেন, গরমের কারণে ঘেমে শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। দুই দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। ডাক্তার চিকিৎসা দিচ্ছেন। এখন কিছুটা সুস্থ।
২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া রাইসা জান্নাতের মা সাবিনা ইয়াসমিন জানান, কয়েকদিন আগে তার মেয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। এর সঙ্গে হালকা জ্বর। ভর্তির পরে কিছুটা সুস্থ হলে বুধবার বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে আবার অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এখন ডায়রিয়া কিছুটা কম একটু একটু করে তরল খাবারগুলো খাচ্ছে।
জানতে চাইলে রামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. সানাউল হক বলছেন, বর্তমানে অবহাওয়া কারণে জন্য শিশুদের জ্বর ও ডায়রিয়া বেশি হচ্ছে। হাসপাতালে প্রতিদিন ৯০ থেকে ১০০ জন শিশু জ্বর ও ডায়রিয়া ছাড়াও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়। স্বজনদের শিশু রোগিদের সুস্থ রাখতে বেশি করে ডাব, স্যালাইন, বিশুদ্ধ পানি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই চিকিৎসক।