ভয়ংকর বগুড়ার বাতাস

আপডেট: অক্টোবর ৬, ২০২২, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী বায়ুর মান সূচকের মাত্রা ৫০ হলে স্বাস্থ্যগত উদ্বেগের অবস্থান ‘ভালো’ ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০-কে ধরা হয় মধ্যম। ১০১ থেকে ১৫০ পর্যন্ত হলে সেটি হবে ‘সাবধান’। আর ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত হলে বলা হয় ‘অস্বাস্থ্যকর’। ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্তকে ধরা হয় ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে। ৩০০–এর ওপর হলে ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়।

এই পরিস্থিতিতে বগুড়ার বায়ুর মান সূচক এখন ৩৫০-এর ওপরে। বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) বায়ুর এ মান পাওয়া গেছে। তার মানে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে বগুড়ার বাতাসে। পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বগুড়া শহরে সকালে হাঁটতে বের হলে রাস্তার ধুলাবালু, ইটের গুঁড়া, কলকারখানার কালো ধোঁয়ার কারণে দম নেওয়া দায়। যেন কালো ধোঁয়ার শহর। শহরের বাতাস এখন বিষ, ধুলাবালুতে ভরা, দুর্গন্ধযুক্ত। এ বাতাসে প্রাণ যায় যায় অবস্থা।

বগুড়া শহরের বাতাসে সুক্ষ্ম ধুলি ও বস্তুকণা বেড়ে যাওয়ায় বায়ুদূষণের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এর প্রমাণ মেলে যুক্তরাষ্ট্র ও সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ারের বায়ুর মান সূচকে (একিউআই)। নিয়মিত বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী আইকিউ এয়ারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী বগুড়া শহরের বায়ুর মান সূচক এখন ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’।

বগুড়ায় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ে শহরের প্রতিদিনের বায়ুর মান সূচক পর্যবেক্ষণের জন্য কন্টিনিউয়াস এয়ার কোয়ালিটি মনিটরিং স্টেশন স্থাপন করা হয়। সেখানেই প্রতিদিনের বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়।
আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী এখন বগুড়া শহর রয়েছে ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরিতে। চলমান শুষ্ক মৌসুমে এটা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের রেকর্ড বলছে, এরআগে করোনাভাইরাসের সময় লকডাউন চলাকালে বায়ুর মানের উন্নতি হয়। সে সময় বগুড়ার বায়ুর মান সূচক ছিল ১৩৮, অর্থাৎ ‘সাবধান’ পর্যায়ে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের রসায়নবিদ মাসুদ রানা বলেন, বগুড়া শহরে বায়ুর মান সূচকের কারণে শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।

বগুড়ায় বায়ুদূষণ বেড়ে যাওয়ার নানা কারণ দেখছেন শহরবাসী। তাদের মতে, বায়ুদূষণের নেপথ্যে আছে শহর এলাকায় ইটভাটার কার্যক্রম, গাড়ির কালো ধোঁয়া, ইট ভাঙা, শহরে বালু ও মাটিবাহী যানবাহনের বিচরণ, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো নানা বিষয়।

গৃহবধূ হাসনা জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘এই দূষণের কারণে এখন বগুড়ায় নির্মল বাতাসে প্রাণভরে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ নেই। শহর ক্রমেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে পৌর এলাকার বাসিন্দা নুর আলম বলেন, ‘এত ধুলাবালু অথচ একটু পানি ছিটানোর লোক নেই। গাড়ি ও কলকারখানার কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে কারও কোনো উদ্যোগ নেই।’

জানতে চাইলে বগুড়া পৌরসভার নগর পরিকল্পনাবিদ আল মেহেদী হাসান বলেন, তরল বর্জ্য অপসারণের জন্য ভ্যাকুয়াম কনটেইনার চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। শহরের রাস্তায় খোয়া-বালু অপসারণে মাঝেমধ্যেই অভিযান চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক সুফিয়া নাজিম বলেন, বগুড়ায় হালকা, মাঝারি এবং বড় শিল্পকারখানা আছে। পৌরসভার নর্দমার তরল বর্জ্য, নির্মাণ উপকরণ দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখা হয় সড়কের পাশে। শহরের চারপাশে ৩০টি ইটভাটা আছে। বায়ুদূষণের জন্য এ সবকিছুই দায়ী। আমরা চেষ্টা করছি পরিবেশ যাতে দূষিত না হয়।
তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ