ভয় আর হতাশা থেকেই ‘সংখ্যালঘু উগ্রপন্থা’ মন্তব্য করেছেন মমতা, পাল্টা তোপ আসাদউদ্দিনের

আপডেট: নভেম্বর ২০, ২০১৯, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রমণের জবাব দিলেন আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। সোমবার কোচবিহারের সভা থেকে নাম না করে আসাদউদ্দিন ওয়াইসিকে আক্রমণ করেছিলেন মমতা। বিজেপির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগও তুলেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তার পাল্টায় মঙ্গলবার ওয়াইসি জানিয়ে দিলেন, ভয় ও হতাশা থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ধরনের মন্তব্য করছেন। পাল্টা আক্রমণ করতেও ছাড়েননি অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) নেতা আসাদুদ্দিন।
পরশু কোচবিহার রাজবাড়ির ইন্ডোর স্টেডিয়ামে তৃণমূলের একটি কর্মিসভায় যোগ দেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি বলেন, ‘‘রাজনীতির মধ্যে হিন্দু উগ্রপন্থা আছে, কিছু সংখ্যালঘুদের মধ্যেও উগ্রপন্থা বেরিয়ে গিয়েছে। …বিজেপির কাছে এরা টাকা নেয়। হায়দরবাদে তাঁদের বাড়ি।’’ ওই গোষ্ঠীর নেতারা উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জায়গায় তারা মিটিং করেছে এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে— বলেন মমতা। ’’।
আসাদউদ্দিন বা এআইএমআইএম-এর নাম না করলেও ‘হায়দরাবাদ’ উল্লেখ করায় মমতার নিশানা যে তাদের দিকেই ছিল, সেটা স্পষ্ট হয়ে যায় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে। পরের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার তার জবাব দিয়েছেন এমআইএম সুপ্রিমো ওয়াইসি। তিনি বলেন, ‘‘আমার দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে বাংলার মুসলমানদের আপনি এই বার্তা দিলেন যে, ওয়াইসির দল আপনার রাজ্যে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এই ধরনের মন্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভয় ও হতাশাই ফুটে উঠেছে।’’
উগ্রপন্থার অভিযোগ নিয়ে মমতাকে নিশানা করে পাল্টা অভিযোগ তুলতেও ছাড়েননি আসাদউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘‘বাংলার সংখ্যালঘুদের যে উন্নয়ন হয়নি, এটা বলার জন্য ধর্মীয় উগ্রপন্থার দরকার হয় না।’’ পাল্টা প্রশ্ন ছুড়েছেন, ‘‘হায়দরবাদের একটি গোষ্ঠী নিয়ে দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়া) যদি এতই উদ্বিগ্ন, তা হলে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি কী ভাবে ৪২টির মধ্যে ১৮টি আসন পেল।’’
এ বছর মে মাসে লোকসভা ভোটে গোটা উত্তরবঙ্গে একটি আসনও ধরে রাখতে পারেনি তৃণমূল। তার পর থেকেই মুসলিম ভোটব্যাঙ্কে ভাগ বসাতে অনেকেই সক্রিয় হয়েছে বলে খবর। সেই সূত্রেই মাঠে নেমেছে আসাদউদ্দিনের দল। উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জায়গায় মিটিং-মিছিল করতেও দেখা গিয়েছে দলের নেতা-কর্মীদের। ফলে চিন্তা বেড়েছে তৃণমূলের। সেই কারণেই ওয়াইসি ও তাঁর দলকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা নিশানা করেছেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা জবাব দিতেও ছাড়েননি আসাদউদ্দিন।