মতবিনিময় সভায় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম || খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি বিতর্কিত ও দলীয়করণ করবেন না

আপডেট: অক্টোবর ২৬, ২০১৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক

খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডওেভাকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি কোনোভাবেই বিতর্কিত হতে দেব না। যে বা যারাই এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে অনিয়ম- দুর্নীতির আশ্রয় নিবে তাদেরকে কোনোভাবে ছাড় দেয়া হবে না। সে যদি দলীয় কোনো লোক হয়- তাকেও শাস্তি পেতে হবে।
তিনি দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, দয়া করে আল্লাহর ওয়াস্তে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি বিতর্কিত ও দলীয়করণ করবেন না। এই কর্মসূচি সফল হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্যময়। দেশের অগ্রগতি এবং বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধিতে এই কর্মসূচির গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যািেচ্ছ। হতদরিদ্র মানুষ কার্ড পাবে না এটা লজ্জার। নিজে লজ্জার কারণ না হয়ে এই কর্মসূচিকে নিজের মনে করুণ। এই কর্মসূচিকে বিতর্কের উর্ধে রাখতে পারলেই আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে।
তিনি গতকাল মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় নানকিং দরবার হলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে এই হুশিযারি দেন। খাদ্য বিভাগ রাজশাহীর উদ্যোগে এবং রাজশাজী জেলা প্রশাসনের সহােগিতায় এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. মুনির হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আতাউল গনিসহ পুলিশ প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ইউপি চেয়ারম্যান, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল ওয়াদুদ দারা এমপি, রাজশাহী সদর আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা, বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল হান্নান, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আতাউর রহমান। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন, রাজশাহী বিভাগের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জামাল হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দুর্গাপুর আকতারুন নাহার, উপজেলা চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টু, ইউপি চেয়ারম্যানদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, বজলে রেজভী আল হাসান মুঞ্জিল, সাজ্জাদ হোসেন মুকুল, ডিলারদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সুফি কামাল মিন্টু ও মো. মানিক খান, গণমাধ্যমের প্রতিনিিিধ দৈনিক সোনার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত প্রমূখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী আরো বলেন, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের শুরুতেই হোঁচট খেয়েছি। সংবাদপত্রে কর্মসূচি বাস্তবায়নে দুর্নীতি, অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগ এসেছে। এটা মোটেও প্রত্যাশিত ছিল না।
মন্ত্রী বলেন, এসব অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করা হয়েছে। অধিকাংশ অভিযোগেরই সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সারা দেশে ৮টি টিম কাজ করছে। ইতোমধ্যেই ৫৩ জনের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে। মামলা হয়েছে, জরিমানা হয়েছে। কাউকে কাউকে কারাগারে নেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কে কোন দল করে তা বিবেচনা করা হয়নি। বিশৃঙ্খলাকারীদের অধিকাংশ আওয়ামীলীগের কর্মী- সমর্থক। তাদের ছাড় দেয়া হয়নি।
প্রধান অতিথি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে বিশ্বের একজন নন্দিত নেতা। তাঁর এই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রসংশিত হচ্ছে।  ৫০ লাখ পরিবারকে ১০টাকা কেজিতে চাল দেয়ার এই কর্মসূচি সমালোচকদেরও অবাক করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ এই কর্মসূচি সফল করতে হবে। দুর্নীতি অনিয়ম প্রশ্রয় দেয়া যাবে না।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আব্দুল ওয়াদু দারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের স্বপ্ন দেখাতে শিখিয়েছেন। সেই বাস্তবায়নে তিনি নানামূখি উদ্যোগ নিয়েছেন। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি দারিদ্র বিমোচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি দুস্থদের মারূপে দায়িত্ব নিয়েছেন। তাদের খাদ্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছেন। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ কর্র্মী-সমর্থকদের কী করণীয় তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
তিনি বলেন, রাজনীতি করতে হলে মারুষের কল্যাণে ব্রতী হতেই হবে। সততা ইনসাফ নিশ্চিত করা না গেলে কোনো কর্মসূচিই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।
সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি খাদ্য নিরাপত্তা আইনের সূচনা তৈরি করেছে। ধাপে ধাপে এটি খাদ্য নিরাপত্তা আইনে পর্যবসিত হবে। এই কর্মসূচি তেমনই একটি ধাপ।
তিনি বলেন, এখনকার বিশ্ব বাস্তবতা বাংলাদেশকে কেউ আর অস্বীকার করতে পারছে না। জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, পাকিস্তানপন্থী রাজনীতি আর ধোপে টিকবে না। দেশের মানুষের এটাই সিদ্ধান্ত।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. আব্দুল হান্নান চেয়ারম্যানদের উদ্দেশ্যে বলেন, যদি এমন হতো তালিকা করার জন্য হতদরিদ্র লোকই ইউনিয়নে পাওয়া যাচ্ছে না। সে সম্মান গৌরব নিশ্চয় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের হত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের অনেকেই হতদরিদ্র সেজে তালিকায় নামভুক্ত করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ি। এই অভ্যাস অমর্যাদার। এ ধরনের হীনমন্যতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন,সরকারের এটি একটি যুগোপযোগী ও সাহসী কর্মসূচি। এই কর্মসূচি স্বনির্ভরতা তৈরিতে, হতদরিদ্র মানুষের মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আতাউর রহমান সংবাদ কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, হতদরিদ্র সেজে যারা কার্ড নিচ্ছে তাদের মুখোশ উন্মোচন করে দেন। এদের নিজের এবং পারিবারিক মর্য়াদার প্রতি কোনো আগ্রহ নেই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ