মতবিনিময় সভায় মহাপরিচালক সবুর মন্ডল কর্মক্ষম তরুণসমাজকে মাদকমুক্ত রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১, ১০:৩২ অপরাহ্ণ

সভায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুস সবুর মন্ডল

নিজস্ব প্রতিবেদক:


মাদক অপরাধ দমনে করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুস সবুর মন্ডল পিপিএ বলেছেন, কর্মক্ষম তরুণসমাজকে মাদকমুক্ত রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ। তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে না পারলে ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত বাংলাদেশের লক্ষ্য ব্যর্থ হয়ে যাবে। এখনই সচেতন না হলে অনেক বড় সর্বনাশ হবে।

তিনি বলেন, দায়িত্ব নিয়ে নিজেরা ঐক্যবদ্ধ হলে মাদক-সংশ্লিষ্টরা অবৈধ কাজটি আর করতে পারবে না। জাতি হিসেবে আমাদের অনেক অর্জন আছে। এ জাতির জন্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা অসম্ভব কিছু নয়।

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি বক্তব্য দিচ্ছিলেন।

রাজশাহী জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর আয়োজিক মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল। পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কল্যাণ চৌধুরী।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ শরিফুল হক, রাজশাহী মহানগর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, রাজশাহীর পরিচালক জাফরুল্লা কাজল, আ’লীগের সিনিয়র সহসভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবী শাহীন আকতার রেণী, উপ-পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) মো. সাজিদ হোসেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মো. ইফতে খায়ের আলম প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আব্দুস সবুর মন্ডল আরো বলেন, বাংলাদেশ মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হওয়া সত্ত্বেও ভৌগলিক অবস্থানের কারণে মাদক ব্যবহারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। এদেশে সন্ত্রাস, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের অন্যতম কারণ মাদকাসক্তি। বর্তমানে মাদক পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ভয়ঙ্করভাবে নাড়া দিচ্ছে।বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে হলে, অপরাধের মাত্রা কমাতে হলে সবার আগে দেশে মাদকের ব্যাপকতা কমাতে হবে। সেই লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি প্রণয়ন করেছেন।

তিনি বলেন, মাদক একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি। মাদক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পরিবারকেই প্রথমে এগিয়ে আসতে হবে, পাশাপাশি সমাজ, রাষ্ট্র, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে।

রাজশাহী মহানগর আ’লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহীন আকতার রেণী বলে, মাদক নামক সামাজিক ব্যাধি রোধ করতে প্রথম পদক্ষেপ আসতে হবে পরিবার থেকেই। বাবা-মাকেই জানতে হবে সন্তান কোথায় যায়, কী করে, কোন বিষয়ে বেশি আগ্রহ প্রকাশ করে। সন্তানের সঙ্গী হয়ে থাকতে হবে অভিভাবককে। সন্তান যেন মানসিকভাবে একা না হয়ে পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। মাদক আইনে বাধ্যতামূলক ডোপ টেস্ট কার্যক্রমে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, গাড়িচালকসহ সকল সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্তকরণের সুপারিশ করেন তিনি।

উপ-পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) মো. সাজিদ হোসেন বলেন, মাদক নির্মূল অভিযান পরিচালনায় সাইবার এক্সপার্ট টিম গঠন করা হয়েছে। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃক মাদক বিরোধী অভিযানে ৭ হাজার ৮৪৫ টি অভিযানে ১ হাজার ৬টি মামলা ও ২ হাজার ৩২৪ টি আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মো. ইফতে খায়ের আলম বলেন, দেশ থেকে মাদক নির্মূলে প্রথম এবং প্রধান কাজ হচ্ছে মাদকের সাপ্লাই ডিডাকশন; যা বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনী দিয়ে নিয়মিত চালু রয়েছে। দেশে মাদকের সরবরাহ কীভাবে কমানো যায় বা রোধ করা যায় সেটাই প্রথম করণীয় বলে জানান তিনি। এছাড়াও রাজশাহী জেলা পুলিশ মাদক বিরোধী অভিযানে ২ হাজার ৮৪ টি অভিযানে ৮৬৫ টি মামলা ও ১ হাজার ৪৯৬ টি আসামিদের আটক করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, রাজশাহীর ৪টি উপজেলা গোদাগাড়ী, পবা, চারঘাট ও বাঘা সীমান্তবর্তী এলাকা।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সাথে রাজশাহী জেলার সীমানা। তাই মাদক ব্যবসায়ীরা সীমান্তবর্তী এলাকাকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছে। ফলে এসব এলাকায় মাদকের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি মাসে জেলা প্রশাসনের মাসিক আইন-শৃঙ্খলা মিটিংয়ে ৭০ শতাংশ আলোচনা করা হয় মাদক অপরাধ দমন বিষয়ে।

তিনি জানান, রাজশাহীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর কর্তৃক জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাসে ১ হাজার ৮১ টি অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা হয়েছে ৩৯৯টি এবং আসামি গ্রেফতার হয়েছে ৪১৩টি।

মতবিনিময় সভায় গুরুত্বপূর্ণ মতামত উপস্থাপন করেন, পবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াসিন আলী, বাগমারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অনিলকুমার সরকার, বাঘা উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দিন লাভলু, মোহনপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, গোদাগাড়ী উপজেলার চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, কেশরহাট পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান শহিদ , কাটাখালি পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী, বাঘা পৌরসভার মেয়র আব্দুল আলীম, নওহাটা পৌর সভার মেয়র হাফিজুর রহমান হাফিজ, সোনালী সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক লিয়াকত আলী, সোনার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক আকবারুল হাসান মিল্লাত, রাজশাহী প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান, আইনজীবী অ্যাডভোকেট পারভেজ প্রমুখ।

মতবিনিময় সভায় অংশিজনেরা বলেন, বাংলাদেশ মাদক উৎপাদন হয় না। এদেশে সিংহভাগ মাদক আছে পার্শ্ববর্তী ভারত ও মিয়ানমার থেকে। তাই প্রবেশদ্বার সীমান্তেই মাদকের অবৈধ প্রবেশ আটকাতে হবে। এটা সম্ভব হলেই কেবল দেশের অভ্যন্তরে মাদক পরিবাহিত হওয়ার সুযোগ কম থাকবে।

এছাড়াও মাদক নিরাময় কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি, জনবল বৃদ্ধি ও চিকিৎসার মান উন্নয়ন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ডোপ টেস্ট, জেলখানায় নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন, বর্ডার এলাকায় আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিকরণ ও বর্ডার এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দের বিশেষ করে পুলিশ, রেপিড একশন ব্যাটেলিয়ন ও বিজিবি বাহিনীকে আরো বেশি তৎপর হওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ