মতিজান

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৭, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

সিরাজুল ইসলাম মুন্টু


ভোর থেকেই রমজান মাতবরের উঠানে লোকজনের প্রচণ্ডভিড়। শহর থেকে একটা মাইক্রোবাস এসেছিল ভোর ৪টার দিকে তার পরথেকে গ্রামবাসীর চোখে আর ঘুম নেই। উঠানের নিম গাছের নিচে শোয়ানো আছ একটি লাশ। মতিজানের লাশ, মতিজান গত রাতে হাসপাতালে মারা গেছে একথা রমজান মাতবর সবাইকে বলছে।
রমজান আলীর বয়স চল্লিশ এর একটু বেশী হবে গ্রামের প্রভাবশালী লোক। তাই সবাই তাকে রমাজান মাতবর বলে ডাকে। ঘরে অসুস্থ স্ত্রী আর ছেলে মেয়েরা সব শহরে থাকে। মতিজান রমজান মাতবরের বাড়ির কাজের মেয়ে। পেটে টিউমার হয়েছিল তার চিকিৎসা করানোর জন্য রমজান তাকে শহরের এক ক্লিনিকে ভর্তি করিয়েছিল ক’দিন আগে অপারেশন সফল হয় নি বলে অধিক রক্তক্ষরণে মতিজান গতরাতে মারা গেছে।
মতিজানের জন্য অনেকে হাপিত্যেস করছে অনেকে বলছে মেয়েটা খুব ভালছিল কেন যে পেটে টিউমার হয়েছিল। আল্লাহ গরীবদেরকে কেন যে এসব রোগ বালায় দেয়। মতিজানের মা করিমন বেওয়া কিন্তু কিছুই বলছে না সে জানে মতিজানের কি হয়েছিল এবং কেন মারা গেছে।
২০০০ সালে প্রবল বন্যার জলে ওদের মাটির তৈরি ঘরটি ভেসে যাবার পর মতিজানেরা নিরাশ্রয় হয়ে পড়ে। বন্যা নেমে যাবার পর কোন রকমে ছনের ঘর করে মা করিমন এবং মাতিজান থাকত। মতিজানের বয়স কুড়ি কি বাইশ। বিয়ে হয়েছিল কিন্তু যৌতুকের টাকা শোধ করতে না পেরে স্বামীর ঘরে তার জায়গা হয় নি। করিমন বাড়িবাড়ি ভিক্ষে করে পেটের খাবার জোগাত। করিনম মতিজানকে নিয়ে বড়ই ভাবনায় ছিল পাড়ায় বখাটেদের উৎপাত ছিল। তাছাড়া মতিজানের সু উন্নত বুক প্রসন্থ চিবুক ঢেউ খেলানো নিতম্ব এবং গোলাপী অধর আর মায়াবী দু’চোখ যেন কামনার এক মহা অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। একবার দেখলে মনে কামনার আগুল জ্বলে উঠে। সারা দেহ যেন প্রেমের মায়াবী জোসনার রাশি গলে গলে পড়ে। একবার চোখ পড়লে দৃষ্টি ফিরালেও মনটা যেন বার বার ছুটে যায়।
এমন অবস্থা দেখে করিমনের মনে ভয় আর আশঙ্কার পোকাটা বুকের ভেতর কুরে কুরে খায়। এমনি দুঃসময়ে হঠাৎ রমজান মাতবর স্ত্রী নার্গিস বেগমের অসুখ হলো। রমজান একদিন করিমনের কাছে গিয়ে মতিজানকে তার বাড়ির কাজ কর্ম করে দেওয়ার জন্য নিতে চাইল। করিমন অনেক কিছুই ভাবল এবং রমজানকে পরের দিন আসতে বলল, কারণ সেদিন মতিজান বাড়িতে ছিলো না।
মতিজান বাড়ি এলে করিমন তার বয়স রুপ যৌবন এবং নিরাপত্তার সবকিছু বলে মতিজানকে রাজী করাল। পরের দিন মতিজান রমজান মাতবরের বাড়িতে কাজ করতে চলে গেল। মতিজান রমজান মাতবরের বাড়িতে কাজ করে সারাদিন প্রানান্ত পরিশ্রম করে। মতিজান জানে অন্তত একটা নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছে শারীরিক পরিশ্রমের বিনিময়ে।
নার্গিস বেগমের অসুখ একদিন ভাল তো দু’দিন খারাপ, সে সংসারের কোন কাজ কর্মই আর দেখা শুনা করতে পারে না। সংসারে সে এখন একটা জড় বস্তু। সংসারের সব দায় দায়িত্ব এখন মতিজানের উপর। মতিজানের পরিশ্রম বেড়ে গেলেও মনে তার কোন দুঃখ কষ্ট নেই।
নার্গিস বেগমের অসুখের কারণে সময়ে অসময়ে মতিজানের সাথে কাঙ্খিত অনাকাঙ্খিত দেখাসাক্ষাত কথাবার্তা হতে থাকে। একদিন মতিজান গোসল খানায় বেআবরু হয়ে গোসল শেষে কাপড় পালটাচ্ছে হঠাৎ রমজান ঢুকে পড়ে মতিজান লজ্জায় গোসল খানার এক কোনায় দেহের লোভনীয় বস্তুগুলো আড়াল করতে চেষ্টা করল আলগা কাপড় দিয়ে। রমজানও লজ্জা পেয়ে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যায়। রমজান গোসলখানা থেকে বের হয়ে গেলেও মনে কামনার আগুন এবং উত্তাপ একটু একটু বাড়িতে থাকে। তাছাড়া নার্গিস বেগম অসুস্থ হওয়ায় জৈবিক ক্ষুধাটা তার প্রচন্ড মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। মতিজানের নিরাভরন খোলা যৌবন তাকে মাতাল করে তোলে। রমজানের মাথায় কামনার পোকাটা প্রচণ্ড জোরে কামড় দেয়। রমজানের সারাটা ভাবনা জুড়ে হঠাৎ মতিজান এসে যায়। রমজান কিছুতেই নিজকে ধরে রাখতে পারে না। মতিজানের প্রতি দুর্বল হলে যায়। মতিজান সারাদিন পরিশ্রম করে রাতে রান্না ঘরে শোয়। চারিদিকে প্রচীর দেওয়া বাড়ি বলে রান্নাঘরে আর দরজা দেওয়ার প্রয়োজন হয়না তাছাড়া দরজাও নেই।
সারাদিন গরমের মাঝে কাজ করে শরীরটা একবারে আগুন হয়েগেছে। রাতে মতিজান শাড়ি খুলে বিছানার এক পাশে রেখে ব্লাউজের বোতাম খুলে ছায়া পরে শুয়ে আছে। সারাদিনের কর্মক্লান্তি শোয়ার সাথে সাথে ঘুমিয়ে পড়েছে। রমজান ঘুমাতে পারে নি। অনেক রাতে রান্নাঘরে গিয়ে দেখে টিপটিপ করে বাতি জ্বলছে মতিজানের ব্লাউজ নেই এক পাশে নেমে গেছে ডাসা পেয়ারারমত স্তনযুগল যেন আহবান করছে পরনের ছায়াও প্রায় উরুর উপর উঠে গেছে।
রমজান হিংস্র হায়েনার মত ছুটে গিয়ে মতিজানের স্তন যুগল জাপটে ধরে মৃদু চাপ দেয়। মতিজানের ঘুম ভেঙ্গে যায়। কিছু বলতে গিয়ে দেখে তার দেহের উপর বসে আছে রমজান মাতবর। সে ক্ষীণকন্ঠে বাধা দেয়। রমজান তাকে কাজ থেকে বিদায় করে দেবে এমন অনেক কথা বলে। মতিজান কাজ হারানেরা ভয়ে সবকিছু রমজানের মাঝে উজাড় করে দেয়। সেদিনের পর থেকে শুরু হয় মতিজানের অন্য জীবন।
অনেক দিনের বভুক্ষু যৌবন সুধারসে টুইটম্বুর হয় ভালোলাগে মতিজানও যতটা সম্ভব নিজেকে উজাড় করে দেয়। মতিজান ভাবে তার সর্বস্ব লুন্ঠন করে নিয়ে তবুও যদি মাতবর তাকে তার বাড়িতে রাখে।
রমজান প্রায় প্রতিরাতেই মতিজানের বিছানায় শোয় মতিজান সবকিছু মেনে নিয়েছে। আর কোন কিছুই ভাবে না। তবে রমজান এবং মতিজানের রাতের অভিসার একদিন দুচিন্তার কারণ হয় দু’জনার জন্য। একরাতে গভীর আবেগময়ক্ষন পেরিয়ে দু’জনে ক্লান্ত হলে মতিজান রমজানকে বলল, যে তার দেহে একজন প্রায় পাঁচ মাস হতে একটু একটু করে বড় হচ্ছে। রমজানের ইচ্ছে ছিল একবার আনন্দ খেলার পর সে আজ আর একবার গভীর প্রেমের সাগরে সাঁতার কাটবে। কিন্তু মতিজানের কথায় তার সে ইচ্ছেটা কর্পরের মত শূন্যে হারিয়ে গেল। মতিজান বলল, তুমি আমাকে বিয়ে কর। সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাক। আর চোরের মত আনন্দ খেলা খেলতে হবে না। সমাজ সংসার কেউ আমাদের নষ্টা এবং ভ্রষ্টা বলতে পারবে না।
রমজান বলল, তোকে বিয়ে করব সেটা কি করে ভাবতে পারলি তোর মত যারা তাদেরকে নিয়ে সারারাত এমন কি সারা জীবন ফুর্তি করা যায় কিন্তু বিয়ে সেটা সম্ভব নয়। চল কালকে শহরে গিয়ে বাচ্চা নষ্ট করে আসি। মতিজান কিছুতেই রাজী হয় না সে তার গর্ভের বাচ্চা নষ্ট করবে না। রমজান মাতবর নামীদামী মানুষ তার উপর কেউ বিশ্বাস করবে না। রমজান মতিজানের এমন সর্বনাশ করেছে।
মতিজান শহরে যাবার আগে সব কথা তার মা করিমনকে বলে গেছে। শুধু মাত্র দু’মুঠো অন্ন আর এক খন্ড বস্ত্রেও জন্য সে জীবন যৌবন সবকিছু তুলে দিয়েছে রমজান মাতবরকে। বাচ্চা নষ্ট করতেগিয়ে অধিক রক্তক্ষরণের ফলে মতিজান মারা গেছে।
করিমন পান্ডুর চোখে মতিজানের দিকে চেয়ে আছে অব্যক্ত কন্ঠে কি যেন বলছে মানুষ তার কথার অর্থ না বুঝলেও হয়ত শ্রষ্টা তার কথার অর্থ বুঝছে। লোকজন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মতিজানের লাশের সৎকার করল। যে যার মত ঘরে ফিরে গেল শুধু উঠানের একপাশে বসে থাকল রমজান মাতবর জানি না, তার মনের মাঝে কি আন্দোলিত হচ্ছে। বিধাতা জানেন আর জানে রমজান মাতবর নিজে।