মধু চাষে বাবুলের মাসিক আয় লাখ টাকা

আপডেট: জানুয়ারি ১৫, ২০২২, ১১:০৪ অপরাহ্ণ


এমরান আলী রানা, সিংড়া:


৭ বছর আগের কথা। তখন ৫৫ বছর বয়সী বাবুল ছিলেন পেশায় একজন গ্রাম্য চিকিৎসক। সবাই ডাকতেন বাবুল ডাক্তার নামে। ৭ বছরের ব্যবধানে তাঁর নাম হয়েছে মৌচাষী বাবুল। পদবীর এই পরিবর্তন এনে দিয়েছে মৌচাষ করে। মেধা, শ্রম আর সময়কে কাজে লাগিয়ে বাবুল এখন সফল মৌচাষী হিসেবে এলাকায় পরিচিত পেয়েছেন।

এলাকায এখন আর কেউ বাবুল ডাক্তার নামে ডাকেন না। সবাই মধু বাবুল নামে ডাকে ও চেনে। সরিষার মৌসুমসহ বছরের ৭ মাসে প্রায় ১০০ মণ মধু সংগ্রহ করেন মৌচাষী বাবুল। এর মধ্যে সরিষা থেকে মধু সংগ্রহ হয় প্রায় ৪০ মণ। এতে খরচ বাদে বছরে তাঁর আয় হয় ৭ লক্ষ থেকে ৮ লক্ষ টাকা। এক সময় গ্রামে চিকিৎসা করে কোন রকম সংসার চালানো সেই বাবুল আজ স্বাবলম্বী একজন মানুষ। মৌচাষী এই বাবুলের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার বাঁশভাগ গ্রামে। সিংড়া উপজেলার ডাকমুন্ডপ বাজারে আছে তাঁর মৌ খামার। খামারে আছে ৬০টি মৌবাক্স। খামারে কাজ করেন ৪ জন কর্মচারী।

মৌচাষী বাবুল জানান, বছরে ৭ মাস মধু সংগ্রহ করা গেলেও অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ এই ৩ মাস সরিষা থেকে তাঁর সবচেয়ে বেশি মধু সংগ্রহ হয়। সরিষার মৌসুম শেষে বাকি ৪ মাস তিনি ধনিয়া, কালোজিরা ও লিচু থেকে মধু সংগ্রহ করেন। সংগৃহীত এই মধু অনলাইনের মাধ্যমে ঢাকা, খুলনা, রাজশাহীসহ বিভিন্ন পাইকারী বাজারে বিক্রয় করেন তিনি।

শুরুটা কিভাবে হয়েছিল জানতে চাইলে মৌচাষী বাবুল বলেন, ২০১৪ সালে নাটোর কৃষি মেলায় গিয়ে মৌচাষ প্রশিক্ষণের ওপর নাটোর বিসিকের একটি নিয়োগ দেখি। এরপর যোগাযোগ করে সেখানে ১৫ দিন প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরু করি মৌচাষ। পরে কৃষি অফিসের সহযোগিতায় বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রশিক্ষণ নেই। এখন আমি মৌচাষের পাশাপাশি বিসিকের একজন ট্রেইনার হিসেবেও কাজ করছি। মাত্র ৭ বছরে মৌচাষে একজন সফল মানুষ বাবুল। তিন ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে পড়ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। নাটোর শহরে জায়গা কিনেছেন। গ্রামের বাড়িতে কিনেছেন ধানী জমি। সবমিলে স্বচ্ছল সংসার মৌচাষী বাবুলের। বাবুলের এমন সফলতার সুনাম দেখে তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে অনেকেই এগিয়ে আসছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. সেলিম রেজা বলেন, সিংড়া উপজেলায় সরিষা ক্ষেতে ২৪৯ টি মৌবাক্স স্থাপন করে মৌচাষীরা মধু সংগ্রহ করছেন। এ বছর প্রথমবারের মত কৃষি অফিস থেকে আমরা ১০জন প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কৃষককে আধুনিক মৌবাক্স দিয়েছি। সরিষার এই সময়ে মধু সংগ্রহ করে কৃষকরা বাড়তি আয় করছেন। আমরা তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করছি। আশা করছি আগামীতে এই এলাকায় সরিষা আবাদের পাশাপাশি মৌচাষীর সংখ্যাও বাড়বে।