মধ্যরাতে রাবি শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগ কর্মীর নির্যাতন

আপডেট: মে ১৯, ২০২২, ১০:৩৮ অপরাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক:


মধ্যরাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মতিহার হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে কক্ষে ডেকে রাতভর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। বুধবার দিবাগত রাত একটায় হলের ১৩৬ নম্বর কক্ষে এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম নুর আলম। তিনি বাংলা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অপরদিকে অভিযুক্ত হলেন একই বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী স্বদেশ শেখ ও তার পাঁচ সহপাঠী। তারা সবাই শাখা ছাত্রলীগের কর্মী। স্বদেশ শেখ বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতিরও দায়িত্বে রয়েছেন।

ভুক্তভোগী নুর আলম বলেন, রাত একটায় তাকে ওই কক্ষে ডেকে নেন হলের ছাত্রলীগ কর্মী তানভীর ও শাহীন। ওই কক্ষে স্বদেশ শেখ থাকেন। সেখানে জুবায়ের, জারিদ, নাবিল এবং আরো একজন ছাত্রলীগের কর্মী আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন। সেখানে তারা আমার ওপর নির্যাতন চালায়।

তিনি বলেন, মতিহার হলের আবাসিকতার তালিকা দিয়েছে। তার বিভাগের মোট ৭-৮ জন সিটের জন্য আবেদন করেছে। কিন্তু তিনিসহ দুইজন রুম পেয়েছে। এই রুমকে কেন্দ্র করেই মূলত তাকে মারধর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি দুই সিটের কক্ষ বরাদ্দ পেয়েছি। সেই কক্ষের পরিবর্তে চার সিটের একটা কক্ষে তুলে দিতে চেয়েছেন স্বদেশ ভাই। আমি রাজি হইনি। পরে রুমে ডেকে ‘বেয়াদবী’ করেছি বলা হয়। এরপর দুই ঘন্টা ধরে মারধর ও গালিগালাজ করা হয়।’ এসময় স্বদেশ তাকে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

নুর আলম বলেন, ‘আমাকে স্বদেশ ভাই রুমে ডেকে নিয়ে বলেন যে, হলের আবাসিকতার তালিকায় অন্য কারো নাম না এসে শুধু আমার নাম কেন আসলো? আমি অন্য কাউকে টাকা দিয়ে হলে উঠেছি বলে তিনি অভিযোগ করেন এবং গালিগালাজ করতে থাকেন।

এক পর্যায়ে তানভীর আমার মাথায় থাপ্পড় এবং কিল-ঘুষি মারতে থাকে এবং জুবায়ের আমার পীঠে সজোরে লাত্থি দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এসময় আমার মাথা ঘোরা শুরু হয়, আমি দাঁড়িয়ে থাকতে না পারলেও তারা আমাকে দাঁড় করিয়ে রাখে। আরো কিছুক্ষণ গালিগালাজ করার পরে আমাকে রুম থেকে বের হয়ে যেতে বলে।’

এদিকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত স্বদেশ শেখ। তিনি বলেন, ‘নুর আলম আমার বিভাগের ছোটভাই। সে বিভাগের এক সিনিয়রের সঙ্গে বেয়াদবি করেছে। রাতে তাকে ডেকে সেই বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম।’ হলের সিট সংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়ে ঝামেলা হয়নি বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক তারেক নুর বলেন, শিক্ষার্থী নির্যাতন বিষয়ক একটি অভিযোগপত্র আমাদের হাতে এসেছে। আমরা প্রথমে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের সাথে কথা বলবো। তারপর বিষয়টি আমরা শৃঙ্খলা কমিটিতে নিয়ে যাবো। এরপর অভিযোগের সত্যতার ওপর ভিত্তি করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসহাবুল হক বলেন, অভিযোগটি আমাদের হাতে আসার পর আমরা বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছি। বিষয়টি স্পর্শকাতর, তাই আমরা অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলবো। নির্যাতন করা হয়েছে কিনা, করলে কি কারণে তাকে নির্যাতন করা হলো বিষয়গুলো জানবো। এরপর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনাটি সম্পর্কে জানার জন্য দুজন সহকারী প্রক্টরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এবিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘ছাত্রলীগের সঙ্গে তার (স্বদেশ) সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা আমার জানা নেই। ঘটনার সত্যতা পেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেকোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ