মন্দিরে মন্দিরে করোনা মুক্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা

আপডেট: October 23, 2020, 8:36 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীতে মন্দিরে মন্দিরে করোনা মুক্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনার মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মহাসপ্তমীর পূজা শেষে বিশ্ব মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য বিশেষ দোয়া করেন হিন্দুধর্মাবলম্বীরা। এদিন ৯ : ৫৭ মিনিটে সপ্তমী পূজার সময় শুরু হয়। পূজা শেষে সাড়ে ১১ টার দিকে অঞ্জলির মাধ্যমে বিশেষ আরাধনা করেন ভক্তরা। সপ্তপ্রদীপ জ্বালিয়ে বেলপত্র, গাঁদা ফুল, জবা ফুল, তুলসি, ফলমূলসহ বিভিন্ন পদের ভোগ দিয়ে পূজার মধ্যে দিয়ে দেবী দুর্গাকে সন্তুষ্ঠ করা হয়।
দুর্গোৎসব উপলক্ষে বর্ণিলভাবে সাজানো হয়েছে মণ্ডপ ও মন্দিরগুলো। লাল, নীল, হলুসহ বর্ণিল ঝাড়বাতিতে আলোকিত হয়ে আছে পূজামণ্ডপ এলাকা। ঢাকের বোল, কাঁসর ঘণ্টা, শাঁখের ধ্বনিতে মূখর হয়ে উঠেছে পূজামণ্ডপগুলো। মণ্ডপে মণ্ডপে ঘটা করেই অবস্থান নিয়েছেন দেবী দূর্গা। তবে বিশ^ মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এবার মহাধুমধামে হচ্ছে না দুর্গাপূজা। এছাড়া বৃষ্টির কারণে সপ্তমীতে মণ্ডপগুলোতে ভক্তদের উপস্থিতি কম ছিলো। ছিল না দর্শনার্থীদের ভিড়। এ বছর রাজশাহীতে ৪০৮ টি পূজা মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে জেলায় ৩৩৯ টি ও নগরে ৬৯টি মণ্ডপে পূজা হচ্ছে।
টাইগার সংঘের পূজা মণ্ডপটির পুরোহিত সুমন চক্রবর্তী জানান, বিগত পাঁচ বছর থেকে তিনি এই মণ্ডপে পূজা করেন। বিগত দিনগুলোতে পূজার আয়োজন যেমন বড় হতো তেমনি ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যেত। কিন্তু করোনার কারণে ও বৃষ্টিতে এবার ভক্তদের উপস্থিতি কম দেখছেন।
তিনি আরো জানান, করোনাকালের এ পূজায় তারা মায়ের পূজার মধ্যে দিয়ে দুর্গা মাকে সন্তুষ্ঠ করবেন। এবং করোনা মহামারিসহ বিশ্বের সকল অমঙ্গল ও অশুভ থেকে মায়ের কাছে মুক্তি বিশেষ প্রার্থনা করবেন।
আয়োজকরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে ভক্ত ও দর্শনার্থীরে উপস্থিতি কম। করোনাকালে স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে প্রশাসনও বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। যার কারণে এবার পূজা উপলক্ষে কোনো উৎসব নেই। আর উৎসব না থাকায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি নেই। এবার শুধু পূজার মধ্যে দিয়েই দুর্গোৎসব উযাপিত হচ্ছে।
রাজশাহী হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে পূজামণ্ডপের আয়োজন এবার অনেকটাই সীমাবদ্ধ থাকছে। এবার উৎসব নয়, আয়োজন হয়েছে পূজার।
এদিকে, রাজশাহীতে দুর্গাপূজার সব ধরনের উৎসবকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া শারদীয় দুর্গাপূজার সকল অনুষ্ঠানাদিতে পূজারী, ভক্তকূল এবং আগত দর্শনার্থীদের মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি মানা ও সামাজিক দূরত্ব মেনে একসঙ্গে অধিক সংখ্যক দর্শনার্থী-ভক্তের মণ্ডপে প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনকালে কোনো ধরনের শোভাযাত্রারও আয়োজন করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। রাজশাহীর পূজা মণ্ডপগুলোতে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ এই তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। আরএমপি এলাকায় ৮৭টি মণ্ডপ স্থাাপন করা হয়েছে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ কমিশনার (সদর) গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন এলাকার মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তায় পুলিশ তৎপর রয়েছে। মণ্ডপগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। করোনায় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে মণ্ডপ কমিটিকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। রাজশাহীতে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উযাপন হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ