‘মন্দ হাওয়া’ ও ব্লাস্ট রোগের প্রভাবে ঈশ্বরদীর মাঠে মাঠে ধানের সর্বনাশ

আপডেট: এপ্রিল ১১, ২০২১, ৯:০৬ অপরাহ্ণ

সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী (পাবনা):


কয়েকদিন আগেও সব ঠিকঠাক ছিল। কৃষকরা এবার অনুকুলের আবহাওয়ায় স্বপ্ন দেখছিলেন ধান আবাদে ভাল ফলন পেয়ে করোনাকালের সংকটে কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেবেন, আর ১৫-২০ দিন পরই পাকা ধান কেটে ঘরে তুলবেন। কিন্তুশনিবার সকালে কৃষকরা যখন ধানের মাঠে পরিচর্যার জন্য গেলেন, তখনই তারা বুঝতে পারলেন ‘মন্দ হাওয়া’র কারণে এবং ব্লাস্ট রোগে তাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে। কয়েকদিন আগে ঈশ্বরদীর ওপর দিয়ে কালবৈশাখী ঝড়ের সময় গরম বাতাস ও ঝড়ো হাওয়ার প্রভাবে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান কৃষকরা।
এদিকে এই দুর্যোগের পরপরই ঈশ্বরদীর বিভিন্ন গ্রামের ধান ক্ষেতে ব্ল¬াস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে আরেক দফা ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক। খবর পেয়ে গতকাল সকালে ঈশ্বরদীর বিভিন্ন এলাকার মাঠে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মাঠে মাঠে সবুজ ধানের ক্ষেতগুলির কোথাও কালচে আবার কোথাও সাদাটে বিবর্ণ হয়ে গেছে। যেসব ধানের শিষ বের হয়েছে সেগুলে পরিপক্ক হওয়ার আগেই এই কয়েকদিনের মধ্যে চিটায় পরিণত হয়ে গেছে। প্রবীণ কৃষকরা বলেন, আমাদের জীবনে এমন অবস্থা আগে কখনো দেখিনি। বাঘইল গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বিশ্বাস বলেন, আমার অভিজ্ঞতায় এমন পরিস্থিতি কোনদিন দেখিনি, বাপ-দাদার মুখেও কোনোদিন এভাবে বাতাসের প্রভাবে ধানের এই অবস্থার কথা শুনিনি। উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের মেরিনপাড়া এলাকার কৃষক মো. জিন্নাহ শেখ বলেন, আমার প্রায় ৭ বিঘা জমির সব ধান পাকা শুরুর আগেই চিটা হয়ে গেছে। সাঁড়াগোপালপুর গ্রামের কৃষক খন্দকার তৌফিক আলম সোহেল বলেন, আমার ৭ বিঘা ধানের জমিতে অর্ধেকই নষ্ট হয়ে গেছে। ঈশ্বরদীর বিভিন্ন গ্রামে ধান আবাদি কৃষকরা তাদের ধানের জমির এই চেহারা দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। জয়নগর গ্রামের কৃষক আবুল ফজল বলেন, এবার ৩ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে বোরো ধানের আবাদ করেছিলাম, কয়েকদিন আগের ঝড়ে ও গরম বাতাসে জমির বেশিরভাগ ধানই নষ্ট হয়ে গেছে। আরেক দফা ক্ষতি হয়েছে ব¬াস্ট রোগের কারনে।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আব্দুল লতিফ জানান, এবছর ঈশ্বরদী উপজেলায় ২ হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি অতিক্রম কালে দুর্ভাগ্যবশত ‘লেমাপলিয়া’ খোলার সময়ে এই বাতাস প্রবাহিত হয়েছে। এই প্রভাবে ঈশ্বরদীর বোরো ধানের জমিতে প্রায় ১৫ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। বাকি জমির ধান রক্ষা করতে জমিতে সবসময় পানি রাখা এবং প্রতি বিঘা জমিতে ১০ লিটার পানির সাথে ১০ গ্রাম ‘এমওপি’ ও ‘হিয়োভিট’ ¯েপ্র করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কৃষকদের। কৃষি অফিসার বলেন, ইতিমধ্যে ঈশ্বরদীতে ব্ল¬াস্ট রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে ধানের জমিতে। এবার ঈশ্বরদীতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা এবার পূরণ হবেনা বলেই ধারণা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ